সাতক্ষীরায় নামখাওয়াস্তে নেয়া হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা*৭৬৯ জনে নিয়োগ পাবেন একজন

আবু সাইদ বিশ্বাস:সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় নামখাওয়াস্তে নেয়া হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। আগামি ০১ জুন সকাল ১০টা হতে সকাল ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জেলাব্যাপি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের লিখিত পরীক্ষায় জেলায় ৪৭টি পদের বিপরীতে অংশ নিচ্ছে ২৩ হাজার ৮৭ জন। অর্থাৎ প্রতি ৪৯১ জনে এক জন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে শুধু সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনিতে ১৫ জন করে ৩০ জন শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। এছাড়া বাকি ১৭টি পদে প্যানেলভুক্ত ও পুলভুক্ত শিক্ষক যোগদান করবে। সেই হিসাবে প্রতি ৭৬৯ জনে একজন করে নিয়োগ পাবে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

নকল মুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, ক্যালকুলেটার নিষিদ্ধের পাশাপাশি দেহ তল্লাসী করে প্রবেশ করানো হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রাখা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম কক্ষ অনুযায়ী সিলমোহর কৃত প্রশ্ন সরবারাহ করা হবে। প্রতি কেন্দ্রে কয়েক দফায় মিটিং করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিবরা জানান,পরীক্ষা সুষ্ঠু করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানান,এবারজেলায় ২৯টি কেন্দ্রের অধীনে ২৩ হাজার ৮৭ জন পরীক্ষার্থী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
এর মধ্যে কেন্দ্র নং ০১. সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ (কলা ভবন) রোল নং ০১ হতে ১৫০০ রোল পর্যন্ত। ২. সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ (বিজ্ঞান ভবন) রোল নং ১৫০১ হতে ৩০০০ রোল পর্যন্ত ১৫০০ জন। ৩. সাতক্ষীরা পল্লীমঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজ ৩০০১ হতে ৪০০০ পর্যন্ত ১০০০ জন। ৪. সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ৪০০১ হতে ৫০০০ রোল পর্যন্ত ১০০০ জন। ৫. আব্দুল করিম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ৫০০১ হতে ৩০০০ রোল পর্যন্ত ১৫০০ জন ৫৫০০পর্যন্ত ৫০০ জন। ৬.সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ ৫৫০১ হতে ৭০০০ পর্যন্ত ১৫০০ জন। ৭. সাতক্ষীরা নবারুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭০০১ হতে ৭৭০০ পর্যন্ত ৭০০ জন। ৮. সাতক্ষীরা পিএন স্কুল এন্ড কলেজ ৭৭০১ হতে ৮৪০০ পর্যন্ত ৭০০ জন। ৯. সাতক্ষীরা ডে নাইট কলেজ ৮৪০১ হতে ৯৪০০ পর্যন্ত ১০০০ জন। ১০. পিটিআই, সাতক্ষীরা ৯৪০১ হতে ৯৯০০ পর্যন্ত ৫০০ জন। ১১. কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৯৯০১ হতে ১০৮০০ পর্যন্ত ৯০০ জন। ১২. সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ১০৮০১ হতে ১১৯০০ পর্যন্ত ১১০০ জন। ১৩. সাতক্ষীরা টাউন গার্লস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১৯০১ হতে ১২৫০০ পর্যন্ত ৬০০ জন। ১৪.সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১২৫০১ হতে ১৩৫০০ পর্যন্ত ১০০০ জন। ১৫. সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ১৩৫০১ হতে ১৩৯০০ পর্যন্ত ৪০০ জন। ১৬. তালতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩৯০১ হতে ১৪৭০০ পর্যন্ত ৮০০ জন। ১৭.দ্যা পোলস্টার পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪৭০১ হতে ১৫২০০ পর্যন্ত ৫০০ জন। ১৮. পিএন বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল ১৫২০১ হতে ১৫৬০০ পর্যন্ত ৪০০ জন। ১৯. রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৫৬০১ হতে ১৬৩০০ পর্যন্ত ৭০০ জন। ২০. সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৬৩০১ হতে ১৬৯০০ পর্যন্ত ৬০০ জন। ২১. সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ১৬৯০১ হতে ১৮২০০ পর্যন্ত ১৩০০ জন। ২২. সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ১৮২০১ হতে ১৮৭০০ পর্যন্ত ৫০০ জন। ২৩. পলাশপোল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮৭০১ হতে ১৯৪০০ পর্যন্ত ৭০০ জন। ২৪.সাতক্ষীরা আয়েনউদ্দীন মহিলা আলিম মাদ্রাসা ১৯৪০১ হতে ১৯৮০০ পর্যন্ত ৪০০ জন। ২৫. ছফুরননেছা মহিলা কলেজ ১৯৮০১ হতে ২০২০০ পর্যন্ত ৪০০ জন। ২৬. বাঁকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০২০১ হতে ২০৬০০ পর্যন্ত ৪০০ জন। ২৭. আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০৬০১ হতে ২১৪০০ পর্যন্ত ৮০০ জন। ২৮. মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২১৪০১ হতে হতে ২২১০০ পর্যন্ত ৭০০ জন। এবং ২৯. সীমান্ত আদর্শ কলেজ, সাতক্ষীরা ২২১০১ হতে ২৩০৮৭ পর্যন্ত ৯৮৭ জন।

সূত্র জানায় কোটা মেনে এবারও সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে নারী কোটা ৬০ শতাংশ, পোষ্য কোটা ২০ শতাংশ এবং পুরুষ কোটা ২০ শতাংশ। এসব কোটার মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধি কোটা রয়েছে। এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের অলিখিত বিশেষ কোটা আছে। কোটার বাইরে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে হাজারো পরীক্ষার্থি।

এত সবের পরও চাকুরি যেন সোণার হরিণ। প্রশ্ন প্রত্র ফাঁশ,কেন্দ্র চুক্তি,কক্ষ চুক্তি সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন কেন্দ্র সচিব জানান,তাদেরকে জন প্রতি ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার অফার দেয়া হচ্ছে।

২০১৪ সালে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা অনিুষ্ঠিত হচ্ছে প্রায় ৫ বছর পর। পরীক্ষা নিতে সরকারের বিপুল অংকের টাকা খরচ হচ্ছে। শুধু ২৯টি কেন্দ্র বাবদ খরচ এক লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা,১১শ ৫৪ জন কক্ষ পরিদর্শকের মাথাপিছু ৬শ টাকা হারে ৬ লক্ষ ৯২ হাজার ৪শত টাকা । এছাড়া প্রশ্ন প্রণয়ন,ছাপানো, বিলিবন্টন,সহ অণ্যান্য করচ প্রায় আরো ৫ লক্ষের মত। সব মিলিয়ে খর প্রায় ১৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪শ টাকা। এদিকে সরকার আবেদন বাবদ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা রাজস্ব অর্জন করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব জানা গেছে।

২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা অনুযায়ী ধাপে ধানে প্রতিষ্ঠান গুলো সরকারী করণ করা হয়। এসময় রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নিয়ে ৪২ হাজার ৬১১ জনকে প্যানেলভুক্ত করা হয়।
২০১৩ সালে এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা হওয়ায় বাকি সাড়ে ২৮ হাজার প্রাথীর নিয়োগ বন্ধ করে মন্ত্রণালয়। পরবর্তিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে এসব পুলভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয়। এতে সাতক্ষীরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের সব শূণ্য পদ পুরুণ হয়ে যায়। এমনকি অনেক পুল ও প্যানেল শিক্ষককে জেলার বাইরে বদলি করা হয়।

বর্তমানে জেলাতে এক হাজার ৯৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনিতে ১৬৬টি, কলারোয়াতে ১২৭টি, কালিগঞ্জে ১৩৮টি তালাতে ২১১টি, দেবহাটাতে ৫৯টি শ্যামনগরে ১৯১টি এবং সাতক্ষীরা সদরে ২০১টি । এছাড়া জেলাতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানে।
জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন নিজে প্রশ্নপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিশেষভাবে তত্ত্বাবধান করছেন। জেলা প্রশাসকের বিশেষ স্থানে পর্যপ্ত সংখ্যাক ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপশি সরকারের অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।–আবু সাইদ বিশ্বাসÑসাতক্সীরা

Please follow and like us:
Facebook Comments