কিশোরগঞ্জে ঘুমন্ত শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জে আফরোজা নামে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামি শাহ আলমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই আসামিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন আদালত।

বুধবার বিকালে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ কিরণ শঙ্কর হালদার এ আদেশ প্রদান করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ মে রাতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল নয়াপাড়া গ্রামের নয়ন মিয়ার স্ত্রী শামীমা আক্তার তার দুই শিশুকন্যা আফরোজা ও মীমকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।

রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কর্মক্লান্ত নয়ন মিয়া বাসায় ফিরে ঘরের দরজা চাপিয়ে রেখে পার্শ্ববর্তী মসজিদের টিউবওয়েলে হাত-মুখ ধুতে যান।

আর এ সুযোগে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুকন্যা আফরোজাকে মায়ের কোল থেকে অপহরণ করে একই গ্রামের মৃত ফালু মিয়ার ছেলে শাহ আলম (২২)।

শিশুটির বাবা নয়ন মিয়া পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা ছোট মেয়ে আফরোজাকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি ও ডাক-চিৎকার শুরু করেন।

এর মধ্যেই আসামি শাহ আলম শিশু আফরোজাকে কোলে করে পার্শ্বে বাগানবাড়ি এলাকায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার আগে শিশুটির বাবা নয়ন মিয়া মসজিদের টিউবওয়েলে মুখ ধুতে যাওয়ার সময় আসামি শাহ আলমকে বাড়ির পাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছিলেন।

পরে ঘটনার দিন রাতেই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ শাহ আলমকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহ আলম আফরোজাকে অপহরণ করে ধর্ষণ শেষে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

এ ঘটনায় শিশু আফরোজার বাবা নয়ন মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত বুধবার এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেন।

কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল জানান, এ চাঞ্চল্যকর অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মানুষ যে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছিল, আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মাধ্যমে সে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এদিকে আসামি শাহ আলমের দাবী তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার

Facebook Comments
Please follow and like us: