সাতক্ষীরায় সালাতুল তসবিহ নামাজ আদায় কালে আটক করে ৩৩ নারীকে কারাগারে প্রেরণ

ক্রাইমবার্তা রিপোট: সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ দেবহাটায় গ্রামের নারীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবছরের ন্যায় “সালাতুল তাসবিহ” নামাজ আদায় কালে পুলিশ ৩৩ নারী ও তাদের কোলের শিশুকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। রবিবার দুপুরে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার সকালে জামায়াত সংশ্লিষ্টার অভিযোগে আটক ৩৩ জন নারীকে আটক করে পুলিশ। আটকের ২৬ ঘণ্টা পর নাশকতার একমটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে দেবহাটা থানার এসআই রাজিব কুমার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন ।
মামলায় আসামী করা হয়েছে,উত্তর সখিপুর গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে মহিউদ্দীন মিস্ত্রী (৪৬), একই গ্রামের রাহাতুল্লার স্ত্রী ফজিলা বেগম (৪২), একই গ্রামের সাবুর আলী গাজীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৮), দক্ষিন পারুলিয়া গ্রামের নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন (১৯), ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মৃত গফুর গাজীর স্ত্রী রোজিনা বেগম (৪৮), উত্তর সখিপুর গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫৫), একই গ্রামের আরশাদ আলীর স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩১), একই গ্রামের সালামতুল্লা গাজীর স্ত্রী আকিলা বেগম (৫৮), একই গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী সায়রা খাতুন (৩৩),সাতক্ষীরা সদর থানার মাগুরা গ্রামের শফিউল্লাহ শেখের স্ত্রী জরিনা বেগম (৩০), উত্তর সখিপুর গ্রামের নুর ইসলাম সরদার খোকনের স্ত্রী কদবানু বেগম (৪৮), দক্ষিন সখিপুর গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী খোদেজা বেগম (৫২), উত্তর সখিপুর গ্রামের মৃত ছবেদ আলীর স্ত্রী শাহিদা খাতুন (৬৬), একই গ্রামর রবিউল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৬), একই গ্রামের মারুফ হোসেনের স্ত্রী বেবি খাতুন (৩৭), মোহাম্মাদলীপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে সেলিনা পারভিন (২৬), উত্তর সখিপুর গ্রামের মহিউদ্দীন গাজীর স্ত্রী বিলকিস বেগম (৩৯), একই গ্রামের হাসন সেলিমের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৯), একই গ্রামের আবুল বাসারের স্ত্রী জামিলা খাতুন রুপা (২৪), একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৪১), সামছুল আরেফের স্ত্রী তহুরা খাতুন (৩৬), খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সোহরাব খাকনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৪৬), উত্তর সখিপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী বিলকিস খাতুন (২৪), একই গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী হাফিজা খাতুন (৪৫), একই গ্রামের বাবুর আলীর স্ত্রী জোহরা বেগম (৪৯), একই গ্রামের মৃত সাকাতুল্লাহ গাজীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৫), একই গ্রামের শাহজাহান মিস্ত্রির স্ত্রী আঞ্জুয়াবা খাতুন (৪১), একই গ্রামের নুর ইসলাম মোল্লার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৩২), একই গ্রামের সামছুর রহমানের স্ত্রী জেলেখা বেগম (৩৬), দক্ষিন পারুলিয়া গ্রামের আব্দুর রউফের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩৭), আশাশুনির খাজরা গ্রামের আজিজ সরদারের স্ত্রী রোজিনা আজিজ (৩৭), উত্তর সখিপুর গ্রামের শেখ আলী হোসেনের স্ত্রী মাসুদা খাতুন (৪৫), একই গ্রামের ইব্রাহীমের স্ত্রী মাহফুজা খাতুন (৩৫), একই গ্রামের হবিবার সরদারের স্ত্রী শিল্পী খাতুন (২৩) ও একই গ্রামের আল মামুনের স্ত্রী শাহানারা খাতুন (১৬)। উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেবহাটা থানার এসআই রাজিব কুমার বাদী হয়ে ১৯০৮ সালের বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন তৎসহ ১৫(৩)২৫-উ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং- ০২/১৮, জি আর নং- ৭০/১৮। আটককৃত আসামীদেরকে রবিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে মহিউদ্দীনের বাড়িতে স্থানীয় মহিলারা রমজান উপলক্ষে সালাতুল তসবির সালাত আদায় করছির। এমন সময় পুলিশ তাদেরকে আকট করে। স্থানীয় জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা জানান,আটককৃতদের মধ্যে জামায়াতের কেউনেই।
পুলিশ জানায়, উত্তর সখিপুর মৃত মোহর আলী মিস্ত্রীর পুত্র সাহাবুদ্দীনের বাড়িতে জামায়াত ইসলামী শতাধিক মহিলা সমাবেত হয়ে গোপন বৈঠক শুরু করে। তবে পুলিশের অভিযানে ৩৪জন নারী আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। এসময় উক্ত বাড়ির মালিক সাহাবুদ্দীনকে আটক করা হয়।
আটককৃত নারীদের দাবি, রমজানের মাস হওয়ায় এলাকার কিছু মহিলারা একত্রিত হয়ে “সালাতুল তাসবিহ” নামাজ আদায় করার জন্য সাহাবুদ্দীনের বাড়িতে যায়। কিন্তু নামাজ শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে। তাছাড়া তাদের কাছে ছোট বাচ্চা ও তারা রোজা থাকার স্বত্ত্বে লকাপের ভিতরে রেখেছে। আটককৃত মহিলাদের অভিভাবকরা জানান, প্রতি বছর রমজান মাসে এলাকার মহিলারা একত্রিত হয়ে “সালাতুল তাসবিহ” নামাজ আদায় করে। এবারও শনিবার সকালে সাহাবুদ্দীনের বাড়িতে নামাজের জন্য একত্রিত হয়। কিন্তু হঠাৎ নামাজরত অবস্থায় পুলিশ তাদেরকে অন্যায় ভাবে আটক করেছে। তাছাড়া উক্ত মহিলাদের অধিকাংশরই ছোট ছেলে মেয়ে আছে। মহিলাদেরকে আটক করায় তারা বিপাকে পড়েছে। আটক কৃত মহিলাদের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত না। বেশিরভাগ নারীরা গ্রামের খেটে খাওয়া মহিলা। কেউ কেউ বাসা বাড়িতে কাজ করে।
দেবহাটা থানার ওসি কাজী কামাল হোসেন জানান,জামায়াতের গোপন বৈঠক করার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। –

Please follow and like us:
Facebook Comments