স্বামীর নেশার টাকার জোগান দিতে না পারায় ঘর ছাড়তে হলো সাতক্ষীরায় এক গৃহবধুর !

ফিরোজ হোসেন : মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়া এবং স্বামীর নেশার টাকার জোগান দিতে না পারায় ঘর ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী আলতাফের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আলীপুর গ্রামে।
সূত্রে জানাযায় আলীপুর গ্রামের মৃত নুর উদ্দীনের মেয়ে এক সন্তানের জননী হালিমা খাতুন । গত তিন বছর আগে হালিমার বিয়ে হয় একই গ্রামের মনতেজ ঢালীর ছেলে আলতাফ হোসেন ওরফে জামবুর সঙ্গে। বিয়ে কিছু দিন যেতে না যেতেই মাদক সেবী স্বামী যৌতুকের জন্য স্ত্রী হালিমার উপরে চাপ দিতে থাকে। স্বামীর চাপে পড়ে বিভিন্ন সময় বাপের বাড়ি থেকে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা স্বামীকে এনে দেয়। তার পরেও যৌতুক লোভী মাদক সেবী স্বামীর চাহিদা শেষ হয়নি। প্রায় তিন মাস আগে আবারও যৌতুকের টাকার জন্য আলতাফ হালিমার উপরে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। তার পরেও শত নির্যাতন শয্য করে হালিমার একমাত্র সন্তানকে আকড়ে ধরে স্বামীর ঘরে বসবাস করে আসছিল । কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত দুই মাস আগে আবারও টাকা চেয়ে না পেয়ে দেড় বছরের বাচ্চাসহ হালিমাকে স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য করে মাদক সেবী স্বামী আলতাফ। কোন দিশা না পেয়ে হালিমা খাতুন দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এরই মধ্যে মাদক সেবী স্বামী হঠাৎ গত সোমবার হালিমার বাবার বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হালিমাকে কোর্ট তালাক দিতে বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় সে হালিমাকে মারতে উদ্যত হয়। হালিমা তখন প্রাণ বাচাতে ভাইয়ের ঘরে ঢুকে দরজা দিলে আলতাফ দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে ঘরের চাল ভাংচুর করে। এঘটনার পর হালিমা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় আলতাফের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করে। শনিবার অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করে আসে। বাদীর মামা রুহুল কুদ্দুস জানান থানায় অভিযোগ করায় এবং বাড়িতে পুলিশ আসলে আবারও মাথা গরম হয়ে যায় আলতাফের। সে এখন হাতে হাতুড়ে নিয়ে স্ত্রীকে মারার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে হালিমা ও তার অভিভাবককে থানা থেকে অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয় এ প্রতিবেদককে হালিমা জানান যৌতুক লোভী স্বামী আলতাফের অনেক চাহিদা পুরন করেছি। তার পরেও আমার উপরে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। তাই যৌতুক লোভী মাদকসেবী স্বামীকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষে কামনা করছি।

Facebook Comments
Please follow and like us: