সাতক্ষীরায় প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রাইভেট পড়াতে না চাওয়ায় শিক্ষককে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় অজ্ঞাত ৪/৫জন সন্ত্রাসীর নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সদর থানার এসআই মিরাজ হোসেন বিষয়টি তদন্ত শুরু করলেও এক সপ্তাহে কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে শিক্ষকরা আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
জেলার আশাশুনি উপজেলার গাবতলা গ্রামের ভূপতি কুমারের ছেলে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তুষার কান্তি দাসের দেয়া অভিযোগে জানান, তিনি শহরের মুনজতিপুরের আবু সোয়েব এবেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। গত ৪জুন সকাল ৮টার দিকে পলাশপোলের শিমুন্তি নামে এক ছাত্রী স্কুলে বিশেষ ক্লাস করার জন্য আসলে জুন থেকে জুলাই মাসের ভিতরে কোন শিক্ষার্থীকে পড়ানো হবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপর শিমুন্তি চলে যায়। পরে তার মা ওই শিক্ষকের মোবাইলে ফোন করে অনুরোধ করলে তিনি পড়াতে রাজি হন। এর কিছু সময় পর আরও দুই ব্যক্তি ওই শিক্ষককে ফোন করে তাকে নিয়ে পড়ানোর বিষয়ে কথা বলেন।
এরপর ওইদিন রাত ৮টা ১ মিনিটের সময় ০১৭৪৫-৮৬০০১৭ নাম্বার থেকে শিক্ষক তুষার কান্তির মোবাইলে ফোন করে অজ্ঞাত একজন ব্যক্তি জানান, আপনার কাছে আমার মেয়েকে পড়াবো। সেজন্য কথা বলবো। আপনি একটু বিসমিল্লাহ মসজিদের সামনে আসেন। সরল বিশ^াসে সেখানে আসা মাত্রই ৪/৫জন ব্যক্তি তাকে মারপিট শুরু করে। এদের মধ্যে একজন বলে ‘সকালে তুই একটা বেয়াদবির কাজ করেছিস’। বলতে বলতে বেপরোয়া মারপিট শুরু করে। আক্রমনকারিদের একজনের ঠোঁটে সাদা সেতি রোগ আছে বলে জানান। ঘটনার পরপরই মসজিদ থেকে মুসুল্লীরা বেরিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
অভিযোগে আরো জানিয়েছেন, ঐ ছাত্রীকে পড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এই হামলা চালিয়েছে। এঘটনায় আহত শিক্ষক তুষার কান্তি দাস বাদী হয়ে ওই রাতেই সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই মিরাজকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি রোববার পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
অপরদিকে আহত শিক্ষক তুষার কান্তি জানান, অভিযোগটি এসআই মিরাজ এর হাতে দিলে তিনি বলেন, এর তো একটা সিস্টেম আছে, আপনারা একটু আমাকে সিস্টেম করে দেন। কিন্তু শিক্ষকরা সিস্টেম (উপরি পয়সা) না করায় পুলিশ এড়িয়ে চলছে বলে অভিযোগ করেন। বিয়ষটি শিক্ষক সমিতিকে জানানো হয়েছে। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষকরা ছুটির পর আন্দোলনে যাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

Please follow and like us:
Facebook Comments