আশাশুনির বিছটে খালপেটুয়া নদীর বেঁড়িবাধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছটে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে পাউবো’র বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে বিছট গ্রামসহ এর আশপাশের ছয়টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শতাধিক মৎস্য ঘের। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। বৃহস্পবিার দুপুরে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ নং পোল্ডারে বিছট গ্রামের সরদার বাড়ির সামনে প্রায় দেড়শ’ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দ্রুত বেড়িবাঁধটি বাঁধা না গেলে পরবর্তী জোয়ারে আরো নতুন করে পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জেলা পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল হাকিম জানান, আগে থেকেই বাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি পাউবো কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও তারা তেমন গুরুত্ব দেয়নি। বেশ কিছুদিন আগে বাঁধটি সংষ্কারের জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও মূল ঠিকাদার কাজ করতে আসেনি। একাধিক হাত বদল হয়ে তৃতীয় একজন বাঁধ সংস্কারের কাজ করতে আসলেও তেমন গুরুত্ব দেননি ওই ব্যক্তি। কাজ ফেলে তিনি কয়েকদিন আগে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ শুরু করলে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। অমাবস্যার চাপের করানে দুপুরে নদীতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় হঠাৎ করেই বাঁধটি নদী গর্ভে ধ্বসে পড়ে। প্রায় দেড়’শ ফুট এলাকা দিয়ে নদীর পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে ঢুকছে। ইতোমধ্যে বিছট গ্রামের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে শতাধিক মৎস্য ঘের। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন জানান, প্রায় ৬ মাস ধরে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও বাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন উদ্যোগ নেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারনেই আনুলিয়া ইউনিয়নবাসীর আজ এই দুর্দশা। তিনি আরো জানান, এখনই বাঁধটি মেরামত বা বাঁধতে না পারলে পরবর্তী জোয়ারে আনুলিয়া, নয়াখালী, বল্লভপুর, বাসুদেপুর, কাকবাসিয়াসহ নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়বে। পাউবো’র কোন কর্মকর্তা খবর পাওয়ার পরও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেননি। এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফ্ফারা তাসনীন জানান, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বাঁধ সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মশিউল আবেদীন জানান, ভাঙ্গনকবলিত এলাকা সংস্কারে রিং বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। জোয়ারের জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

Please follow and like us:
Facebook Comments