সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষ করে স্বালম্বী হচ্ছে চাষীরা

আবু সাইদ বিশ্বাস: ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা । এতে জেলায় কলা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার কলা চাষীর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে

। বেকার যুবকদের কাছে কলা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও এসেছে তাদের। কৃষকরা এখন পুরাতন ধ্যান-ধারণা পাল্টে লাভজনক ফসল হিসেবে কলা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় সহ¯্রাধীক কলা বাগান।
‘কলা রুইয়ে না কাটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’প্রবাদ বাক্যটি যেন সাতক্ষী

রার কলা চাষীদের মাঝে বাস্তবে রূপ নিল। একদিন যাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো আজ তারা স্বালম্বী। অনেকটা সোনার সংসার। অভাবের সংসার কাটিয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছে। এমন তথ্য জানালেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ঘুটেরডাঙ্গী গ্রামের কয়েকজন কলাচাষী।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলাতে ৭২১ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১৫০ হেক্টর জমিতে, কলারোয়াতে ৭৫ হেক্টর, তালাতে ৭৮ হেক্টর, দেবহাটাতে ৮ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৩৮০ হেক্টর,আশাশুনিতে ২৫ হেক্টর এবং শ্যামনগরে ৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। এবছর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫৯২ মে:টন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ২৭শ মে:টন, কলারোয়াতে ১৬৫০ মে:টন, তালাতে ১৭৬৭ মে:টন, দেবহাটাতে ৮০ মে:টন, কালিগঞ্জে ২৬৯৫ মে:টন,আশাশুনিতে ৬২৫ মে:টন এবং শ্যামনগরে ৭৫মে:টন। এছাড়া বসতবাড়ি সহ ব্যক্তি পর্যায়ে জেলাতে ব্যাপক ভাবে কলা চাষ শুরু হয়েছে।
সদরের ঘুটেরডাঙ্গী গ্রামের কলা চাষী মোহাম্মদ আলী, আনন্দ, ইবাদুল, আবুল কাশেম কলা চাষে তাদের সাফল্যের কথা জানালেন। বললেন সাতক্ষীরায় হাইব্রিড জাতের সাগর কলা চাষ করে তারা লাভবান হচ্ছেন। অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ হচ্ছে। দিন দিন এর পরিধিও বাড়ছে। অন্যদিকে বাজারে কলার ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।
ঘুটেরডাঙ্গী গ্রামের কলা চাষী জগনন্দ কুমার জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তিনি সাগর কলা চাষ করছেন। চলতি বছরেও প্রায় ৭ বিঘা জমিতে এ জাতের কলা চাষ করেছেন। অন্য যে কোনো ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক হওয়ায় তার প্রথম পছন্দ কলা চাষ। তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করতে খরচ হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। আর বিক্রি করা যায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
কৃষি কর্মকর্তা দিপক কুমার রায় জানান, ঘুটেরডাঙ্গী গ্রামের অধিকাংশ কৃষক কলা চাষ করছেন। তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে এসব কৃষক ৩০-৩২ টন পর্যন্ত কলা উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার অন্য যে কোনো ফসলের তুলনায় অর্থকরী ফসল হিসেবে কলা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বারুইপাড়ার পরিতোষ দাশের পুত্র মিলন দাশ(৪৭) কলা চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন । বর্তমানে তার জমিতে ৪শত এর অধিক কলা গাছ আছে । মিলন দাশ আরও বলেন,আমার কলা বাগানের সফলতা দেখে এলাকাতে অনেকেই কলা বাগান করতে শুরু করেছে ।
দেবহাটার কলা চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে কৃষক রমেশ স্বর্নকার। চিংড়ি চাষের পাশা পাশি তিনি কলা চাষ করেন। তার বাগানের কলার আকাঁর,আকৃতি স্বাদে গুনে স্থানীয় কলাকে হার মানিয়েছে । তিনি জানালেন,মাছের চেয়ে কলাতে লাভ তুলনা মুলক বেশি। তাই তার এলাকাতে কলা চাষে জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
জেলাতে অমৃত সাগর, সবরি অনুপম, চাম্পা, কবরি, নেপালি, মোহনভোগ মানিকসহ বিভি

ন্ন জাতের কলা চাষ হয়ে থাকে। তবে সবরি, মানিক মেহের সাগর

ও নেপালি কলার চাহিদা অনেক বেশি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, ধান, পাট ও আখসহ প্রচলিত অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে শ্রম ব্যয় খুবই কম। বিক্রির ক্ষেত্রেও ঝামেলা নেই। কলার বাজার দরেও সহজে ধস নামে না। তাই ঝুকি কম থাকায় চাষীরা কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কাঁচামাল ব্যবসায়ী রওশন আলী জানান, সাতক্ষীরার উৎপাদিত কলার চাহিদা ব্যাপক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এটি এখন জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরার সব উপজেলায়ই কম-বেশি কলা চাষ করা হয়। তবে সদর উপজেলার ঘুটেরডাঙ্গী গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে সাগর কলা চাষ হচ্ছে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া সব ধরনের ফসলের উপযোগী। এখানে বারো মাসই বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলে। তার মধ্যে অর্থকরী ফসল হিসেবে এখন কলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি খামার বাড়ির পক্ষ থেকে কলাচাষীদের সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে।

Facebook Comments
Please follow and like us: