সিলেটে পুলিশ-ছাত্রদলের রণক্ষেত্র, গ্রেফতার ২০

ক্রাইমবার্তা রিপোট: সিলেটে পুলিশ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে ছাত্রদলের ২৫-৩০ আহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ সুহেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আফসর খান, সাবেক ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন মানিক, রাহিয়ান চৌধুরী রাহি, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল নেতা তপু আহমদ খান। তাৎক্ষণিক বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।শনিবার বিকালে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের জন্য কাজিরবাজার এলাকায় জড়ো হলে পুলিশ বাধা দেয়ায় এ সংঘর্ষ বাধে।স্থানীয়রা জানান, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাইক কেড়ে নেয় এবং অন্তত ২০-২৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। এতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।তারা হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে। অন্যদিকে দলীয় সূত্রের দাবি, পুলিশ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের বাসার ভেতর থেকেও কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীকে আটক করেছে।সিলেট মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ যুগান্তরকে জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা করে প্রায় ৪০ নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে গেছে। হামলায় অন্তত ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করলে পুলিশ আত্মরক্ষায় ৪-৫টি টিয়ার শেল ও ৪০-৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় ১৫-২০ জন হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

Please follow and like us:
Facebook Comments