গাজীপুর সিটি নির্বাচন : আজ মধ্যরাত থেকে বন্ধ প্রচার প্রচারণা

গাজীপুর থেকে মো. রেজাউল বারী বাবুল : শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরব হয়ে উঠেছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রার্থীরা তাদের সব ধরনের কলাকৌশল প্রয়োগ ও নেতাকর্মী সমর্থদের নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের কাছে। ভোটারদের মন আকর্ষণ করতে দিচ্ছেন উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। আজ রোববার মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে প্রচার প্রচারণা। আর একটি দিন পেরোলেই মঙ্গলবার ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২য় ভোট। ২য় বারের মতো নির্ধারিত হবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। গাজীপুরের এ নির্বাচনে মেয়র পদের তালিকায় ৭ প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকলেও সবার দৃষ্টিই এখন প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দু’মেয়র প্রার্থীর দিকে। উভয় জোটের নেতা কর্মীরা নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে নানা পরিকল্পনায় এলাকায় গণসংযোগ করছেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ফেলবে এমন ধারণায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এ নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নিজেদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধান এ দুই জোটের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। তারা নিজ জোটের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সমর্থন আদায়ের জন্য ভোটারদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। তারা নানা কৌশলে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, আদালতের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে আমার নেতাকর্মীদের পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে, আমি এমন কর্ম করব চিরদিন বিশ্ব স্মরণ করবে নির্বাচনের জন্য হাসান উদ্দিন সরকার কি করেছে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাজীপুরে টঙ্গী-চান্দনা চৌরাস্তা হাইওয়েতে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকেন। আমি সেই যানজট থেকে আপনাদেরকে মুক্ত করে দেব। আমি নির্বাচিত হওয়ার ৯০দিনের মধ্যে ওই পথের ৫০ পারসেন্ট যানজট মুক্ত করে দেব।
এদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে স্মরণকালের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই পুরো নির্বাচনী এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মত কোনো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন একটি করে ভ্রাম্যমান আদালত থাকছে। আর তিনটি ওয়ার্ড মিলে থাকছেন একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব আর আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মিলে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে জোরদার করা হয়েছে প্রার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, প্রার্থী ও ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো মহল প্রশ্ন তুলতে না পারে এজন্যই এমন কড়া নিরাপত্তা থাকছে বলে নির্বাচন কমিশন বলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুরো গাজীপুরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০দলীয় জোট প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা
২০দলীয় জোট প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ধানের শীষের জোয়ার ঠেকাতে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়ে এখন পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী নিজেই পুলিশের গাড়িতে চড়ে এলাকায় টহল দিচ্ছেন। পুলিশ দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সন্ধ্যা নামলেই আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক নেমে আসে। পুলিশ প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাসা-বাড়িতে হানা দিচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও পুলিশী হয়রানী থামছে না। পুলিশ গত শুক্রবার রাতেও আমাদের তিন জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। আমি এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এখনও আবেদন করব, আমি এখনও নিবেদন করব, আপনারা সেই শান্তির পরিবেশ রক্ষা করুন। আর তা যদি নয় হয় আমি পূর্বে একটা ঘোষণা দিয়েছি, আমি এমন একটা কর্ম করব যে তা  সমাজের ক্ষতি হবেনা, কিন্তু চিরদিন যেন এ বিশ্ব স্মরণ করে নির্বাচনের জন্য হাসান উদ্দিন সরকার ওই কর্ম করেছে। সাবেক পূবাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পথসভায় হাসান উদ্দিন সরকার এসব কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মাজহারুল আলম জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শনিবার ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে বিএনপিসহ জোট নেতারা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডোর টু ডোর লিফলেট পৌঁছে দিয়ে ভোটারদের কাছে তাদের প্রার্থী আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার শনিবার সকালে হায়দরাবাদ থেকে প্রচার কাজ শুরু করেন, পরে মাজুখান বাজার, নন্দীবাড়ি, বিন্দান, পূবাইল, ভাদুন, ইছালী ও কলের বাজার এলাকায় প্রচার কাজ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল,  গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন, সদস্য সচিব কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির যুগ্ন-সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, কাপাসিয়া থানা বিএনপির সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ গাজীপুর জেলার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। নগরীর ৯নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ। নগরীর ৪০ ও ৪২নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পেশাজীবী নেতা ডা, এজেড এম জাহিদ হোসেন। সাথে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বেগম জাহানারা, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অর্পণা রায়, জিয়া ব্রিগেড সভাপতি আবুল হোসেন, পেশাজীবী নেতা ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমীন আকন্দ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল বাতেন, সোলায়মান, হাজী রফিক প্রমুখ। নগরীর ৫নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফে. ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। ২৩ নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। নগরীর ৩৯নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। ২৭ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। ২৮ ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, গাজীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননী। জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মেহেদী হাসান এলিস, এম এইচ রহমান হাফিজ, হাসিবুর রহমান মুন্না, যুবনেতা জাহিদ, কাউসার মোল্লা, রুবেল হোসেন, ছাত্র নেতা সোহেল রানা, মারজুক আহমেদ আল আমিন, হাসান মাহমুদ প্রমুখ।
২নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন সামসুল আলম তোফা। ৬নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী বেবী নাজনিন। ৭নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুজ্জামান দুদু। ৩নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পদাক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ৫২,৫৩ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের নেতৃত্বে গাজীপুরের ১৮নং ওয়ার্ডে গনসংযোগ করেন। এ সময় ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, নির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ঢাকা উত্তর জাসাসের সাবেক আহ্বায়ক ডাঃ আরিফুর রহমান মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এম.এ. কালাম, ড. নিজাম উদ্দীন নিজাম। ২৬ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ চালান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিক শিকদার। ২নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুনুর রশিদ। ১১ নং ওয়ার্ডে প্রচার করেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান। সাথে আছেন সালাউদ্দিন শিশির, এনামুল হক বিপ্লব। ১৭ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ হেলালুজ্জামান তালুকদার। নগরীর ১নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দ দাস অপু, নির্বাহী সদস্য দেবাষীশ রায় মধু। ৩২নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন সেলিম রেজা হাবিব, ছাত্রদলের আনিছুর রহমান, তালুকদার খোকন প্রমুখ।  নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ। ৩৭ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন কর্ণেল লতিফ, ৩৮ নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন। ৩১নং ওয়ার্ডে প্রচার কাজ করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান।
পুলিশী হয়রানি ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ
বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুলিশী হয়রানি ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ হাসান উদ্দিন সরকার ও বিএনপির  কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গতকাল বিকালে নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডে ডিবি পুলিশ কোরবান আলী ও জাহিদকে গ্রেফতার করে। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদক মনির হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করেছে। ছাত্রনেতা আতাউর ও মুকুল এর বাড়িতেও পুলিশ হয়রানি করেছে।
ধানের শীষের প্রচারণায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ
২৩ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৬, ১৭ ও ১৮নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকারের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে অংশ নেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আহমেদ সাইমুম। নির্বাচনী এলাকার ১৬, ১৭ ও ১৮নং ওয়ার্ডের ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনায় অন্যান্যের মধ্যে শাহীনুর সাগর, গোলাম ফারুক, হাসান আল আরিফ, জেসমিন সুলতানা জুঁই, ওয়াসিম মুক্ত, নাহিয়ান মারুফসহ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ।
জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগ
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাজীপুরে টঙ্গী-চান্দনা চৌরাস্তা হাইওয়েতে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকেন। আমি সেই যানজট থেকে আপনাদেরকে মুক্ত করে দেব। আমি নির্বাচিত হওয়ার ৯০দিনের মধ্যে ওই পথের ৫০ পারসেন্ট যানজট মুক্ত করে দেব।
শনিবার সকালে তিনি নগরীর টঙ্গীর খৈরতুল এলাকার এক পথসভায় ওই কথা বলেন। এসময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাজী ইলিয়াস, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, গাজীপুর সিটিতে আগে যিনি মেয়র ছিলেন। তাকে এবার বিএনপি মনোনয়ন দেয়নি। যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, সেই হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গী পৌরসভার দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, দুইবার পার্লামেন্ট মেম্বার ছিলেন। কিন্তু আমাদের এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। যার বয়স আজ ৭৪ বছর হয়ে গেছে, যিনি চল্লিশ বছরে কিছু করেনি, তিনি দুই এক বছরে কিছু করবেন না। ‘গাজীপুরে লক্ষ লক্ষ মানুষকে কষ্ট না দিয়ে আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি আপনি হসপিটালে ভর্তি হন’ আপনি একা চলতে পারেন না। আপনি এখন চারজনের ওপর ভর করে চলেন। সিটি কর্পোরেশনে যারা আপনার ওপর ভর করে চলবে তাদের ভর আপনি কীভাবে বহন করবেন ?
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম শনিবার সকালে নিজ বাসভবনে ওলামা লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে বেলা ১১ টায় খরতৈলে গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসুচি শুরু করেন। সাতাইশ স্কুলের সামনে, সাতাইশ চৌরাস্তা, ৫২ নম্বর মুদাফা, ৫৩ নম্বরে  দেওড়া ফকির মার্কেট, ৫৫ নম্বর মিলগেট এলাকায় পথসভায় ভোট প্রার্থনা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোঃ আতিকুল ইসলাম পথসভায় বক্তব্য রাখেন এবং গণসংযোগে করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ জালাল উদ্দিন মাষ্টার, কাজী ইলিয়াস আহমেদ, মোস্তফা হুমায়ুন হিমু, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম, নীলিমা আক্তার লিলি, মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু, মোঃ আলী মিয়া, মোঃ সোলেমান হায়দার, মোঃ সেলিম মিয়া, এম এম হেলাল উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, আব্দুল আলীম, মোঃ কামাল হোসেন, মাসুম বিল্লাহ বিপ্লব, কাজী মঞ্জুর, রেজাউল করিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী মোঃ আতিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে শনিবার সকালে সাতাইশ স্কুলের সামনে, সাতাইশ চৌরাস্তা, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেওড়া ফকির মার্কেট, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলগেট এলাকায় পথসভায় ভোট প্রার্থনা করেন ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
অপরদিকে বেলা ৩ টায় নগরীর টঙ্গী নওয়াগাও এলাকায় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেলের বাসভবনে ঈদ পরবর্তী পারিবারিক দাওয়াতে যোগ দেন স্থানীয় মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া সেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার, সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল হক, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী মোঃ আতিকুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ইকবাল হোসেন সবুজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা দাওয়াত পরবর্তী এক বৈঠকশেষে সিটি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের এক ব্রিফিং দেয়া হয়। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আজমত ভাই আমাদের অভিভাবক। তার কাছ থেকেই রাজনীতি শিখেছি। সিটি নির্বাচনে তার পরামর্শ এবং নির্দেশেই সকল নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। আজকে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মের মাধ্যমে গাজীপুরে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে আগামী ২৬ জুন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় সকলের দোয়া, সহযোগীতা ও ভোট চাই।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান বলেন, আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আগামী ২৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে সব ধরণের প্রচারণা শেষ হচ্ছে। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মনোনিত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) আলহাজ¦ এডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের (ধানের শীষ) হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যে। তাদের ছাড়াও  মেয়র প্রার্থীর তালিকায় আরও ৫ প্রার্থীর নাম রয়েছে।  নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
বিএনপিসহ অন্যান্য দলের তরফ থেকে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সেনা বাহিনী মোতায়েনের কোন প্রয়োজন হবে না। প্রার্থী ও ভোটারদের সঙ্গেও এ নিয়ে মত বিনিময় করেছেন তারা।
মোট ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত। ভোটারের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান সমান। ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। যার মধ্যে ৩৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ, যানবাহন যাতায়াতের সুবিধা- অসুবিধা, আলোকিত রাখার ব্যবস্থা, স্থানীয় প্রভাবসহ নানা বিষয়কে বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বলছে নির্বাচন কমিশন। আবার অনেকেই এসব কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। যা একেবারেই ভিত্তিহীন। বাকী ৮৮টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে যাতায়াতসহ সার্বিক ভোট মনিটরিং করা তুলনামুলকভাবে অনেক সহজ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বলছেন, চলতি বছরের ৩১ মার্চ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সেই অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে দেড় হাজারের বেশি অপরাধী। এদের মধ্যে এক হাজারের বেশী মাদক ব্যবসায়ী। দুইজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: ২৫ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৬ জুন দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, বেবি ট্যাক্সি, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, জীপ, পিকআপ, কার, বাস,ট্রাক, ট্যাম্পু ইত্যাদির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: ২৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৭ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটর সাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বহিরাগতদের উপর নিষেধাজ্ঞা: বহিরাগতদের জন্য এলাকার বাসিন্দা নয় বা ভোটার নয় তাদের ২৩ জুন দিবাগত রাত ১২টার আগেই নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে হবে।
বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও নিষিদ্ধকরণ: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৯ জুন হতে ৩ জুলাই পর্যন্ত সকল আগ্নেয়াস্ত্র মালিকদের অস্ত্র বহন অথবা অস্ত্রসহ চলাফেরা করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন জেলা প্রশাসক।
নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা: আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ বজায় রাখতে ২৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৮ জুন দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায়  নির্বাচনী জনসভা  আহ্বান, কোন অনুষ্ঠান, যোগদান বা মিছিল বা কোন শোভাযাত্রা সংগঠিত করতে পারবে না।
গুজবরোধে নজরদারি: এ ছাড়াও ভোট গ্রহণের দিন বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয় সাধন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, জঙ্গি তৎপরতার গুজব রটানোরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে যা বুঝায় নির্বাচনে সেটি নিশ্চিত করা হবে।
গাজীপুরে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মালামাল বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। শনিবার সকাল থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে মালামাল গুছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামের দ্বিতীয় তলায় তারা নির্বাচনী সরঞ্জামগুলো পৃথক ব্যাগে করে প্রস্তুত করছেন।
টঙ্গীর ভোট অন্যতম ফ্যাক্টর
মোট ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত। ভোটারের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।  ভোটার হিসাবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে মোট আটটি বিশেষ অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে আছে কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, বাসন, কাউলতিয়া, গাজীপুর পৌর এলাকা, গাছা, পুবাইল ও টঙ্গী। তবে আটটি বিশেষ অঞ্চলের মধ্যে টঙ্গীতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫২। অর্থাৎ মোট ভোটারের ৩২ শতাংশ টঙ্গীর। বাকি সাত অঞ্চলের কোনোটিরই ভোটার দেড় লাখও পার হয় না। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটার গাছায় ১ লাখ ৪৭ হাজার এবং তৃতীয় কাশিমপুরে ১ লাখ ১৬ হাজার জন। সবচেয়ে কম ভোটার পুবাইলে ৬০ হাজার। তাই এ হিসেবে টঙ্গীর ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছে বড় দু’দলই।

Please follow and like us:
Facebook Comments