চট্টগ্রামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে দুইশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নগরীতে জামায়াত শিবিরের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল

জামায়াত ও নগর দক্ষিণ শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবীতে
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিবৃতি
বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি, প্রাবন্ধিক, লেখক ও সাংবাদিক আ.জ.ম. ওবায়েদুল্লাহসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রতিবাদ জানিয়ে ও অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তির দাবী করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও সেক্রেটারী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রশিবির কর্মীরা পারাবার নামে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশ পুরাতন রেলষ্টেশন এলাকার পর্যটন হোটেল মোটেল সৈকতে থেকে নারী, শিশু ও স্কুল ছাত্রসহ দুই শতাধিক নিরীহ ছাত্র ও বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত চাকুরীজীবিসহ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। জামায়াত নেতৃবৃন্দ এই গ্রেফতার অভিযানের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশে যখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গোটা জাতি ব্যস্ত। সকল দলের অংশ গ্রহনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে ঠিক তখনই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় নির্বাচনের জন্যে জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে সরকার।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীসহ সকলের নি:শর্ত মুক্তির দাবী জানান।

আবু রায়হান
বার্তা প্রেরক
চট্টগ্রাম মহানগরী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

নগর উত্তর শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে — আ স ম রায়হান
ফ্যাসিবাদী সরকার অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত করেছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর আ স ম রায়হান বলেন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে বিরোধী মতের নেতা-কর্র্মীদের সম্পূর্ণ বিনা কারণে আটক করে জেলের অন্ধকার ঘরে আবদ্ধ করছে। তারা শুধু মুখে ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন নিশ্চিতের কথা বলে নিজেরাই আইন বহির্ভূত কাজ করে যাচ্ছে। বিনা ভোটে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা আ’লীগ বিরোধী দল, মত সহ্য করতে না পেরে তাদের ঘায়েল করতে অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতাদের পাইকারি হারে আটক করছে। যা একটি দেশের রাজনীতির জন্যে অশনি সংকেত ছাড়া আর কিছু নয়। ক্ষমতাসীনরা তাদের নির্লজ্জ খায়েশ মেটাতে আধিপত্যবাদীর পা চাটা কুকুরের মতো একের পর এক দেশ বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে সবুজ-শ্যামল প্রিয় বাংলাদেশকে রক্তে রঙ্গিন করে দিয়েছে। এ ঘৃণ্য কাজ করতে গিয়ে তারা পুরো দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। কোন সভ্য নাগরিক এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছেনা। তিনি সরকারের এসব অপকর্ম পরিহার করে অবিলম্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বিনা অপরাধে আটককৃত সকল বন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান।

চট্টগ্রামের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রায় দু’শতাধিক সাংস্কৃতিক কর্মীদের আটকের প্রতিবাদ, দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ (২৪/০৬/’১৮) এসব কথা বলেন। নগর উত্তর শিবির নেতা কামাল হোসাইন’র পরিচালনায় সমাবেশে নগর শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দেশে চিহ্নিত, আসল অপরাধীদের আটক কিংবা বিচারের পরিবর্তে বিরোধী মতের দলীয় নেতা কর্মীদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে হাস্যকর মিথ্যা, বানোয়াট কল্পকাহিনী সাজিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করছে। এ বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিজেদের দায়িত্ব বাদ দিয়ে সরকারের মাত্রাতিরিক্ত আজ্ঞা পালন করতেই বেশি ব্যস্ত রয়েছে। এ সুযোগ যথার্থ কাজে লাগাতে তারা নিজেরাই গণহারে অপরাধ কর্ম ও মানুষ হত্যা করে দেশকে জেলখানায় পরিণত করেছে। তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে আটক, নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদেরকে অযথা হয়রানি পরিহার করার জোর দাবী জানান। নগরীর স্টেশন রোড থেকে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলটি নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বার্তা প্রেরক
এইচ এম সরওয়ার্দী
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর

Facebook Comments
Please follow and like us: