ঢাবি শিক্ষককেও রেহাই দিল না ছাত্রলীগ

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোটঃ    কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সময় নিজের পরিচয় দেয়ার পরও রেহাই পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লাইব্রেরিয়ান এবং তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. জাভেদ আহমেদ।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় জাভেদ আহমেদ এগিয়ে গেলে তার পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন নূর।

নূরকে রক্ষা করতে জাভেদ আহমেদ নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাভেদ আহমেদের ওপর চড়াও হন। এতে তার হাতের তালু কেটে যায়।

ড. জাভেদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়ার পরও তারা আমার ওপরও চড়াও হয়েছে। আমার হাতের তালু কেটে গেছে।

তিনি বলেন, মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তোমরা সবাই ছাত্র। সহপাঠী সহপাঠীর ওপর এভাবে হামলা করতে পারে না।

জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হন।

এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরসহ সাতজন আহত হন।

আহত অন্যরা হলেন- আরশ (২৬), আব্দুল্লাহ (২৩), আতাউল্লাহ (২৫), সাদ্দাম হোসেন (২৫), সাহেদ (২৫) এবং হায়দার।

আহতরা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ছাত্রলীগের হামলার সময় নুরুল্লাহ নূরকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান শিক্ষক জাভেদ আহমেদ। ছবি-সংগৃহীত

ছাত্রলীগের হামলার সময় নুরুল্লাহ নূরকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান শিক্ষক জাভেদ আহমেদ। ছবি-সংগৃহীত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাঁচ–ছয়জনকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পিছু হটেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখা যায়নি। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান জানান, বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর পিস্তল ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের অগণিত কর্মী আহত হয়েছে। আমরা তাদের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি।

Please follow and like us:
Facebook Comments