বৃহত্তর ঐক্যের পথে বিএনপি:সেপ্টেম্বরে যুগপৎ কর্মসূচি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বৃহত্তর ঐক্যের পথে বিএনপি

‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ নামে ১১ দফা দাবি নিয়ে অক্টোবরে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা * ২০ দলীয় জোট ছাড়াও থাকছে যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাম গণতান্ত্রিক ধারার ৪টি দল * আগস্টে বিভিন্ন ইস্যুতে একই ধরনের পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু, সেপ্টেম্বরে যুগপৎ কর্মসূচি

ক্রাইমবার্তা রিপোটজাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কাজ শুরু করেছে বিএনপি। এ ব্যাপারে দলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে একাধিক বৈঠকও করেছে। এসব বৈঠকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ কমপক্ষে ১১ দফা দাবি নিয়ে শিগগিরই মাঠে নামার প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ঐক্য গড়ার ব্যাপারে যে দলগুলো সম্মত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল, গণফোরাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাম গণতান্ত্রিক ধারার ৪টি দল। হেফাজতে ইসলামের একাংশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টে বিভিন্ন ইস্যুতে একই ধরনের বিবৃতি পৃথকভাবে দেবে দলগুলো। এর মধ্য দিয়ে ঐক্য গড়ার দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

আর সেপ্টেম্বরে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করবে। পরের ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট (প্রথমিকভাবে চূড়ান্ত)’ নামে নির্বাচনী জোট গঠন করবে। অক্টোবরের যে কোনো দিন এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলেও নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির এক নীতিনির্ধারক  জানান, উল্লিখিত দলগুলো ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দল ঐক্যে যুক্ত হতে রাজি রয়েছে। তবে তারা সরকারের ভয়ে এখনই নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে ওই সব দলও ঐক্যে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।

ঐক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার  বলেন, বাংলাদেশের যেসব জাতীয় নেতা ২০ দলীয় জোটের বাইরে আছেন, তারাও গণতন্ত্রের এ বর্তমান সংকটে চিন্তিত। তারাও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি, কথা চলছে। সবাইকে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে একটা জায়গায় আসতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে দেশে ফিরেছেন। তারেক রহমান বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এরপরই মূলত ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া গতি পায়।

জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব  বলেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে এককভাবে আন্দোলন করে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য সব দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ ব্যাপারে ইতিবাচক আলাপ-আলোচনা চলছে। এর বেশি বলা যাবে না।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে জাতীয় ঐক্যর বিকল্প নেই। জাতীয় ঐক্য গঠনে চেষ্টা চলছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দিন দিন পরিস্থিতির এত অবনতি হয়েছে যে, এখন গণতন্ত্র রক্ষা করাটাই প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য যে কোনো ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে আমরা থাকব। ঐক্যের বিষয়ে যুক্তফ্রন্টের নেতারাও আলোচনা করেছি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও ঐক্য হোক তা আন্তরিকভাবে চায়। আমি মনে করি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটা প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। সেটার সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে বেশি।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন এখন সময়ের দাবি এবং পরিস্থিতি ওই দিকেই যাচ্ছে। সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত, পুলিশের বাড়াবাড়ি- এসব আর কত সহ্য করবে জনগণ। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনসহ বেশ কিছু দাবির ভিত্তিতে আমরা একমত হয়েছি। এসব ইস্যুতে প্রথমে যুগপৎভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে। পরে রাজনৈতিক জোটও হতে পারে।

বিকল্পধারার মুখপাত্র ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই একমত যে দেশে এখন একটা দুঃশাসন চলছে। এ আওয়ামী দুঃশাসনের পরিবর্তন চাই। ঐক্যের ব্যাপারে আমাদের সিনিয়র নেতারা কাজ করছেন। ঐক্যের উদ্দেশ্য হবে, আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর ভিত্তি হবে ক্ষমতার ভারসাম্য। প্রতিটি দলের ওজন মাপতে হবে শুধু পেশিশক্তি দিয়ে নয়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য অনেক বেশি। কেননা আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তির একটি অংশ। যদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতির অংশ কাউতে হতে হয় তাহলে বিএনপি যতটুকু দাবিদার আমি তার থেকে কোনো অংশে কম দাবিদার নই।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রাথমিকভাবে একই ধরনের বিবৃতি দিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন বুদ্ধিজীবী অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন। দলগুলোর নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক সাড়া দেন।

পরে বিবৃতির খসড়া তৈরি করতে একটি টিম গঠন করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। ওই টিমে দু’জন বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। বিবৃতির খসড়া তৈরি করে তা ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠাবেন তারা। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ওই বিবৃতির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এটি একই দিনে দলগুলো পৃথকভাবে গণমাধ্যমে পাঠাবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, ঐক্য গঠন নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমান্ড। এতে জোট গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় এ পরামর্শ দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, গত ১ মাসে ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব দলের সঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ ১১টি অভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে আন্দোলন করতে সম্মত হয়েছে সরকারের বাইরে থাকা ওই দলগুলো।

তবে ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলো কিছু দাবির কথা বলেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। দাবিটির ব্যাপারে লল্ডনে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে। বিএনপি তাদের জানিয়েছে, বৃহত্তর স্বার্থে সব বিষয়েই সমাধান হবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, তারা এ মুহূর্তে ঐক্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও রাজি তারা। এর অংশ হিসেবে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থীকে সমর্থনও দিয়েছিল। বিএনপির ছাড় দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেয় ঐক্যে সম্মত হওয়া দলগুলো।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট চারটি দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন ইস্যুতে একই বিবৃতি পৃথকভাবে দিয়ে ঐক্যর বিষয়টি প্রাথমিভাবে জানান দেয়ার পর সেপ্টেম্বরে ভিন্ন মঞ্চ থেকে দলগুলো একই কর্মসূচি পালন করবে। সবশেষে অক্টোবরে নির্বাচনী জোটে রূপ লাভ করবে।

ইতিমধ্যেই জোটের একাধিক নাম প্রস্তাবে এসেছে। ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ নামটিই পছন্দের তালিকায় সবার আগে আছে। যুক্তফ্রন্টে থাকা একটি দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, তারা জোটকে স্থায়ীভাবে করার পক্ষে। যেমন আন্দোলন সফল হলে জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেয়া, পরে নির্বাচনে জয়ী হলে সরকার গঠন করা। এ লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। সেক্ষেত্রে ২০ দলের শরিকরা বাধা হবে কিনা জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, সেটি সুরাহার দায়িত্ব বিএনপির।

এ ব্যাপারে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, ঐক্য প্রক্রিয়ায় ব্যাপারে ২০ দলের সম্মতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী জোট বা স্থায়ী কোনো জোট হলেও কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের অবসানে সবাই একমত আছেন। দাবি আদায় হলে নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ২০ দলে থাকা শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। যা বিএনপি তাদের শরিকদের জানিয়েছেও।

ঐক্যে প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী  বলেন, বিএনপি ছাড়া বাকি যারা আছে তাদেরও বুঝতে হবে কার কি শক্তি আছে। যা আছে তা নিয়ে একটা সুষম ভিত্তিতে ঐক্যের মাধ্যমে মাঠে নামতে হবে। জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে আমি আশাবাদী; কারণ এছাড়া কোনো পথ নেই। সবাই সুশিক্ষিত নাগরিক। নিজেদের ভালো নিজেরা বুঝতে পারবেন।

এদিকে ঐক্য গঠনে যারা সম্মত হয়েছে তাদের বাইরেও বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলেছেন চট্টগ্রামের বিএনপির এক নেতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতার এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক দল হলেও তাদের একটি অংশ ঐক্যের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছে। ওই অংশটি বলেছে, সরকারের চাপে রয়েছে তারা। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সময় মতো তাদেরও পাওয়া যাবে বলে হেফাজতের ওই অংশের নেতারা বিএনপিকে নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকা দু’দলের শীর্ষ নেতারাও হেফাজতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর। আরেক অংশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাশেমীও কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর।একই সঙ্গে তিনি ঢাকা মহানগরের সভাপতিও।

এছাড়া আরেক শরিক দল খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা এবং মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুর কাদের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি। তবে ঐক্যে হেফাজতে ইসলাম যোগ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস যুগান্তরকে বলেন, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়। যতটুকু জানি, হেফাজতে ইসলাম তাদের ব্যানারে জাতীয় ঐক্যে আসবে না।

ঐক্য গঠনে সংশ্লিষ্ট বিএনপির এক নেতা  বলেন, তাদের বিশ্বাস দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাম দলগুলোকেও একমঞ্চে তারা পাবেন। এজন্য বাম দলগুলোর সঙ্গেও তারা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। কেউ কেউ তাদের জানিয়েছেন, সময় হলে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সূত্র জানায়, বামপন্থী বড় দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে কথা বলতে বিএনপিপন্থী একজন বুদ্ধিজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের আত্মীয় ওই বুদ্ধিজীবী এ নিয়ে কথাও বলেন। কিন্তু ঐক্যে না থাকার ব্যাপারে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে সিপিবি।

এছাড়াও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চায় থাকা ছয়টি দলের কয়েকটির সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী)- এ ছয়টি দল নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।

তবে ঐক্য গঠনের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাননি বলে জানান, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়কারী ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু।

তিনি বলেন, আমরা জোট ও মহাজোটের বাইরে আরেকটি জোট গঠনের চেষ্টা করছি। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, বর্তমান সরকারের যে স্বৈরাচারী শাসন তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের দলগত অবস্থান থেকে লড়াই করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের অবসান ও একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে রাজনৈতিক প্রস্তাব- তার ভিত্তিতে আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এটার ভিত্তিতেই আমরা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলব। আমাদের দিক থেকে আমরা রাস্তায় ইতিমধ্যে আছি; রাস্তায় আরও জোরদার থাকার চেষ্টা করব। তারাও রাস্তায় নামুক। যুগান্তর

Please follow and like us:
Facebook Comments