রাসূলের জীবনাদর্শকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই পৃথিবীতে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব -নুরুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহাগনরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, নৈতিক অবক্ষয়রোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবতার মহান শিক্ষক হযরত মুহাম্মদকে (সা:) পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একমাত্র তাঁর প্রদর্শিত জীবনাদর্শকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই পৃথিবীতে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সভ্যতার পতনের এই যুগসন্ধিক্ষণে সীমাহীন বৈরি পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই সিরাতুন্নবী (স.) রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যা নতুন প্রজন্মকে রাসুল সা.এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে সহায়তা করবে এবং তথ্য-পযুক্তির অপব্যবহারের ফলে তরুন সমাজের মধ্যে যে নৈতিকস্খলন ঘটছে তা রোধ করে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে। রাসুল (সাঃ)সর্বদা মানুষের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন। মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার নিশ্চিত, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমুখী ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাসুলের (সাঃ) শিক্ষা ও আদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত পবিত্র সিরাতুন্নবী (স.) উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, ফরিদ হোসাইন, মোকাররম হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু নাঈম প্রমুখ। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এস এম আকতারুজ্জামান, শেখ ফরিদ।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্যায়, জুলুম ও অনৈতিকতার সয়লাবে চারিদিকে যখন মনুষ্যত্ব ভুলুন্ঠিত হচ্ছিল ঠিক তখনই রাসুল (সাঃ) এর পরশে আলোকিত হয়ে আরবরা বিনির্মাণ করলো সুবিচার ও সুশাসনে পূর্ণ এক নতুন সমাজ। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে এর স্বীকৃতি স্বরূপ রাসুলের (সা)আদর্শকে শ্রেষ্ঠ আদর্শ এবং তাঁকে সিরাজুম মুনীরা বা প্রদীপ্ত আলো উপাধীতে ভূষিত করা হয়েছে। অপরদিকে মুহাম্মদ (সা) নৈতিকতা ও আদর্শ সম্পর্কে অমুসলিমরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন। জর্জ বার্নার্ড শ’ মোহাম্মদ (স)কে সর্বাপেক্ষা যোগ্য নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন পন্ডিত মাইকেল হার্ট মহানবী (স.)কে সর্ব যুগের ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মুলত যে বিস্ময়কর মহাশক্তির মাধ্যমে রাসুল (সাঃ) বিপ্লব সাধন করে পাল্টে দিয়েছিলেন সমগ্র পৃথিবীকে, পাল্টে দিয়েছিলেন ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থা ও মানুষের হৃদয়কে তা হলো মহাগ্রন্থ আল কোরআন। সেই আল কোরআন আজও আমাদের মাঝে বিদ্যমান। আমাদের ব্যাক্তি, পরিবার ও সমাজের সুরক্ষার জন্য, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য মহাগ্রন্থ আল কোরআনের নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করতে হবে। তিনি বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য সকলকে আলকোরআনের সুশীতল ছায়াতলে সমবেত হওয়ার আহবান জানান।
মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, জামায়াত শত বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ইসলামী জ্ঞান চর্চার নিখুঁত পরিকল্পনা ও উন্নত চরিত্র গঠনের এক মহান ব্রত নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি রাসুলের সীরাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় রাসুলের আদর্শকে বাদ দিয়ে সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে ফলে নতুন প্রজন্ম নিজেদের মানবতার বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় রাসুলের সীরাত ও আদর্শকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার আহবান জানান।
সিরাতুন্নবী (স.) উপলক্ষে প্রতিযোগিতাটি বয়স ভিত্তিক ২টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ‘ক’ ও ‘খ’ উভয় বিভাগে প্রথম পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ৫ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রতি গ্রুপে আরও ৫জন করে ১০ জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন যথাক্রমে ‘ক-গ্রুপ’ থেকে প্রথম-আনিসুর রহমান-লোহাগড়া, চট্রগ্রাম। দ্বিতীয়-মুনিরা খাতুন-শিবগঞ্জ, বগুড়া। তৃতীয়-তানভীরুল হায়দার- লোহাগড়া, চট্রগ্রাম। চতুর্থ-শাহ আরমান হালিম-চকরিয়া কক্সবাজার। পঞ্চম- রেজওয়ানুল গালিব- কোতয়ালী, যশোর ষষ্ঠ- মেহেরুন নেছা- সোনারগাও, নারায়ণগঞ্জ। সপ্তম-লামিয়া তানজীম, পাবনা এবং ৮ম-ইসতিয়াক উদ্দিন মো:তাসকিন-চকবাজার, চট্রগ্রাম।
‘খ-গ্রুপ’ যথাক্রমে প্রথম-এস এম আকতারুজ্জামান- ঢাকা। দ্বিতীয়-শেখ ফরিদ-ফকিরাপুল, ঢাকা। তৃতীয়-তানিয়া সুলতানা- মাগুড়া। চতুর্থ-আবু বকর সিদ্দিক- ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া। পঞ্চম-আমান উল্লাহ- মিরপুর, কুষ্টিয়া। ষষ্ঠ- মাহদি হাসান ফারুকী-মানিকনগর, ঢাকা। সপ্তম-ফারজানা ইয়াসমিন-রুয়েট ও অষ্টম- জহিরুল ইসলাম-কচুয়া,চাঁদপুর। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

Please follow and like us:
Facebook Comments