নিরুপায় হয়ে সাতক্ষীরায় পাট কাটতে বাধ্য হচ্ছে চাষীরা# প্রকৃতির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগীদ

# পাট পণ্যের বহুমাত্রিকতা ব্যবহারের দাবী
# কৃষি খামার বাড়ির তদারকি বৃদ্ধির দাবী
# পাটের ন্যার্য মূল্য প্রকৃত চাষীদের নিশ্চিত করতে সরকারে সহযোগীতা কামনা

আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরা: পানির অভাবে সাতক্ষীরায় ক্ষেতের পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দফায় সেচ দিয়েও শেষ রক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকটা নিরুপায় হয়ে পাট কাটতে বাধ্য হচ্ছে এখানকার চাষীরা। প্রাচীন কাল থেকে জেলার পাট চাষীরা পানির জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভর করতো। কিন্তু এ বছর আষাঢ়-শ্রাবণে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়াতে কৃষকের সে আশা হতাশায় রূপ নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। এদিকে পাটের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে অনেকে আগাম পাট কেটে একই জমিতে আমনের চাষ করতে শুরু করেছে। এর পরও পাটের ন্যার্য দাম পাওয়ার আশা পাট চাষীদের। সংশ্লিষ্টদের দাবী প্রকৃতির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে সাতক্ষীরায় পটের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে কয়েকগুন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৩৭ হাজার ৬২৪ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবছর জেলায় পাটের আবাদ ও বেড়েছে তুলনা মূলক বেশি।

চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা সদরে ৫৪ হাজার ৬৩৩ বেল, কলারোয়য়া ৪৫ হাজার ৬৮ বেল, তালায় ৩৩ হাজার ৯২৮ বেল, দেবহাটায় এক হাজার ১৩ বেল, কালিগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৯১৩ বেল, আশাশুনিতে এক হাজার ১৩ বেল ও শ্যমনগরে ৫৬ বেল পাট উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩০ বেল ।

চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আবাদ হয়েছে, সদরে চার হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলার চার হাজার ০৫ হেক্টর জমিতে, তালা উপজেলায় তিন হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে,দেবহাটায় ৯০ হেক্টর জমিতে, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে, আশাশুনিতে ৯০ হেক্টর জমিতে ও শ্যামনগরে পাঁচ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ খরিপ -১ এ জেলাতে ১১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে ছিল।

চাষীরা জানান, এবছর অধিকাংশ জমিতে আবাদ করা হয়েছে তোষা জাতের পাট। তবে অনেক পাটের ক্ষেতে বিছা পোকার দেখা গেছে। আক্রান্ত ক্ষেতে সবুজের পরিবর্তে পাট ক্ষেতের রং হয়ে গেছে লালচে ও হলুদ বর্ণের। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অথচ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন খোঁজ খবর রাখেন না বলে একাধিক কৃষকের অভিযোগ। এবছর পাটের উচ্ছতা অন্য বছরে তুলনায় কম। পানির অভাবে অনেকে পাট কাটতে পারছে না। যে সব এলাকায় পুকুর,ডোবা,খানা কিম্বা নর্দামায় পানি জমা আছে সেইসব এলাকার কৃষকের পাট কাটতে শুরু করেছে। আগষ্টের প্রথম সম্পাহে সাতক্ষীরার বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করবে।

আলগমীর শেখ। পাটকেলঘাটার খলিষখালি ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামের তফেজউদ্দীন শেখের ছেলে। পাট কেটে আঁটি বেঁধে বাপ-বেটা মিলে পানিতে ভিজিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কথা হয় তার সাথে। আলমগীর প্রতিবেদককে জানান, সে ছোট বেলা থেকে চাষ কাজ করে আসছে। এবছর সে আড়াই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছে। পাটক্ষেতে চার বার ভু-গর্ভস্থ পানির সেচও দিয়েছে। এর পরও তার ক্ষেতের অর্ধেক পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে সে আগাম পাট কাটছে। অন্য বছর তার ক্ষেতের পাট ১০ থেকে ১২ হাত পর্যন্ত লম্বা হয় কিন্তু এবছর ৭ থেকে ৮ হাত লম্বা হয়েছে। দাম ভাল পেলে খরচটা ঘরে উঠবে আশা তার। এছাড়া পাটের পাতা পঁচে আমন ফসলে সবুজ সার হিসেবে কাজ করবে।

দেশি পাটের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য আবিষ্কার, পাটপণ্যের দ্বিগুণ রপ্তানি বৃদ্ধি পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলকসহ ব্যবহারে বহুমাত্রিকতা এলেও প্রতিবছর সারাদেশে কমছে পাট চাষ। কমছে চাষের জমিও। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজার মূল্যের অসমতার কারণে কৃষক নিরাশ। চাহিদা অনুযায়ী দাম না পেয়ে কৃষক বছরের পর বছর ঠকেই যাচ্ছেন। কিন্তু সাতক্ষীরাতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রয়োজন কৃষি বিশেজ্ঞদের তদারকি বৃদ্ধি করা।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, সাতক্ষীরায় খুব ভাল মানের পাট উৎপাদন হয়। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে, কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে জেলার প্রতি হেক্টরে তিন থেকে সাড়ে তিন টন পর্যন্ত পাট উৎপাদন সম্ভব।-

Facebook Comments
Please follow and like us: