আমি শিক্ষার্থীদের বলব, একটু ধৈর্য ধরো, সময় দাও: কাদের# ধৈর্যর বাধ ছাড়িয়ে যাচ্ছে,পদত্যাগ করুন :এ্যানী

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট:  কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, দেশে দুর্নীতি চলছে। ব্যাংকের টাকা লুটপাট হচ্ছে। সোনা তামা হচ্ছে। কয়লার খনি চুরির খনিতে পরিণত হয়েছে। ধৈর্যর বাধ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষ রাজ পথে নামলে পালাবার পথ পাবেন না। সময় থাকতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে অরাজকতা কায়েম করছে। দেশের মানুষ এখন শান্তিতে নেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশের শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপির বিকল্প নেই।

বুধবার দুপুরে শহরের গোডাউন রোড এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ্যানী বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। এই সংসদ ভেঙে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। অনির্বাচিত-দখলদারিত্বের সংসদ বিএনপি কখনও মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তা না হলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে খালেদা জিয়ার মুক্তি সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির স্বপনের সভাপতিত্বে ওই সভায় আরও বক্তব্য দেন- লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান লিটন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নিজামউদ্দিন, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ফখরুল আলম নাহিদ, পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল আলিম হুমায়ুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আবু সায়েম মোহাম্মদ শাহীন, সালমান হায়দার রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুজ্জামান শরীফ ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম মামুন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের বাধায় তা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

—————০——————-

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,‘শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার যৌক্তিকতা আছে। এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। দুই সহপাঠীকে হারিয়ে তারা সড়কে নেমেছে, তাদের এই বিক্ষোভ-ক্ষোভের বাস্তবতাও আছে। দুই সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে—এর জন্য সবার খারাপ লেগেছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস হলেই কাজ শুরু হবে।’ বুধবার রাজধানীর সেতু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত, আমরা সবাই তাদের জন্য কষ্ট পেয়েছি। তারপরও আমি শিক্ষার্থীদের বলব, একটু ধৈর্য ধরো, সময় দাও।’

আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে নৈরাজ্য নেই, তবে কিছু বিশৃঙ্খলা আছে। আইন পাস হলে এগুলো দূর করা হবে। আইন হলে যানজট ও সড়কের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস হলেই কাজ শুরু হবে। দুর্ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটু সময় দিন। যারা দোষী, তাদের ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই যারা গাড়ির মালিক, তারাতো গাড়ি বের করবেন না—এটাই স্বাভাবিক। গতকালও (মঙ্গলবার) গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি শিগগিরই কেটে যাবে। সবকিছু স্বাভাবিক হবে।’

আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বাধা না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এখানে নৌ-মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই। তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।’

Facebook Comments
Please follow and like us: