জনকের কাছে বাঙালির ঋণ অপরিশোধ্য

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট:

জনকের কাছে বাঙালির ঋণ অপরিশোধ্য

আগস্ট

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনও বিশ্বাস করতেন না যে, কোনো বাঙালি তাকে হত্যা করবে। অনেকেই তাকে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি আমলে নেননি। কিন্তু তার সেই বিশ্বাসকে ভূলুণ্ঠিত করে কিছু কুলাঙ্গার বাঙালিই তাকে হত্যা করে। হত্যার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল।

কিন্তু হত্যার হাতগুলো ছিল বাঙালি কুলাঙ্গারদের। ৪৩ বছর আগে ১৫ আগস্ট কুচক্রী মহল জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করে। আগামীকাল সেই কালো দিন।

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, জনগণকে ভালোবাসাই তার বড় শক্তি। আর দুর্বলতা হল তিনি তার জনগণকে অতিমাত্রায় ভালোবাসেন। জনগণের প্রতি ভালোবাসা, গরিব-দুঃখী মানুষকে ভালোবাসাই তাকে টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিল।

আর সেই ভালোবাসা থেকে সৃষ্ট অন্ধবিশ্বাসের কারণেই তাকে হারিয়েছি আমরা। বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও রেখে গেছেন তার আদর্শ। উল্লেখ না করার মতো অল্পসংখ্যক বাঙালি তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও এ দেশের আপামর মানুষ মনে রেখেছে তার আদর্শ।

ধারণ করে তার আদর্শ। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তাকে। তার জন্মদিনে আনন্দ করে। আর মৃত্যুর দিনে শোক পালন করে।

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামীকাল জাতির জনকের শাহাদতবার্ষিকী পালন করা হবে। আওয়ামী লীগ ঘোষিত দু’দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতে প্রতি বছরই জনতার ঢল নামে।

এবারও ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে মানুষ শোক দিবসের সকালে রাজধানীতে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের সামনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি পালন করবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

শোক জানাতে হাজির হবেন সরকার ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ। বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলেও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামবে। এছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

পুষ্পার্ঘ্যরে পাশাপাশি মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, ফাতেহা পাঠ, বিনামূল্যে রক্তদান, গরিব ও দুস্থদের খাবার বিতরণ করে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে জাতি। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও জাতির পিতার জন্য প্রার্থনা করবেন। ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারের মাধ্যমেও প্রকাশ করা হচ্ছে শোক।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্রস্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের জন্য চারদিকে চলছে নানা প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বর এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালনের জন্য সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দেশের নানা স্থানে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ। কালো ব্যাজ তৈরি করে সবাই প্রস্তুত শোকের দিনে শামিল হতে।

জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন আজ শোকের নানা কর্মসূচি পালন করবে। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সকাল ১০টায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে উদ্বোধন করা হবে জাতির জনকের ৪৩ ফুট উঁচু প্রতিকৃতি।

———————0——————–

আগস্টজুড়েই শোক পালন করে জাতি। এ মাসের প্রতিটি দিনই শোকের দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা। অনেক দেরিতে হলেও ১৫ আগস্ট এখন জাতীয় শোক দিবস।

রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয় জাতীয় শোক এবং জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে। শোক দিবসের আর মাত্র চার দিন বাকি। বেদনাবিধুর এ মাসের প্রথম দিন থেকেই শোক পালন শুরু হলেও শোক দিবসে সেটি পায় ভিন্নমাত্রা। এ দেশের আপামর মানুষ এদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জাতির পিতাকে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে মানুষ তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানায়। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে প্রতিকৃতির বেদি। এছাড়া টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে মানুষের ঢল নামে। দোয়া-মোনাজাত-মিলাদ-মাহফিলের মাধ্যমে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। গণতন্ত্রকামী মানুষ রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে স্মরণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নায়ককে।

বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ শোকের মাস শুরু হওয়ার আগেই মাসব্যাপী শোকের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ী কর্মসূচিগুলো পালনও হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রথম দিন থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে প্রতিদিনই কোনো না কোনো কর্মসূচি পালন করছে। আগস্টের শুরুতে কৃষক লীগের বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানোর পালা শুরু হয়। এগারোতম দিনে এসে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আজ আয়োজন করেছে শোক দিবসের আলোচনা সভা। বিকাল ৪টায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের সামনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এর আগে শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে তাঁতীলীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ এবং যুবলীগ। পর্যায়ক্রমে মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগও একদিন করে আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

শোকের মাস পালনের মূল ফোকাস থাকবে শোক দিবসের কর্মসূচিতে। এদিনের কর্মসূচি আয়োজনের দায়িত্বে থাকবে মূল দল আওয়ামী লীগ। সকালে দলের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, বনানীতে ১৫ আগস্টের অন্য শহীদদের এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, অন্যান্য সব ধর্মের উপাসনালয়ে সুবিধামতো সময়ে প্রার্থনা সভা, অসচ্ছল-এতিম-দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। পরদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে শোক দিবসের আলোচনা সভা। ইতিমধ্যে এসব কর্মসূচি পালনের জন্য একাধিক যৌথসভা করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সব সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং রাজধানীর সংসদ সদস্য ও আশপাশের জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এসব সভার নির্দেশনা নিয়ে এখন নিজেদের মধ্যে কর্মী সভা, যৌথসভা এবং প্রস্তুতি সভা করছে অন্য সংগঠনগুলো। এ প্রস্তুতি চলছে সারা দেশেই। পাশাপাশি কাঙালিভোজের জায়গা চিহ্নিতকরণ, ভোজের জন্য গরু-ছাগল কেনার তোড়জোড়ও চলছে। এছাড়া চলছে শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও।

——————০———————–

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট:  :  শুরু হচ্ছে শোকের মাস আগস্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এ মাসের ১৫ তারিখে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকচক্র। এ দিনটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর এক শোকের দিন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিশাচরূপী খুনিরা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করেছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এ বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

১৫ আগস্ট ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এ হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির জনকের ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হন।

আগস্ট মাস বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগসহ পুরো জাতি পালন করে শোকের মাস হিসেবে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাসব্যাপী কর্মসূচিগুলো হল- ১ আগস্ট বুধবার বিকাল ৩টায় কৃষক লীগের আয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদান। ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হবে। ৪ আগস্ট তাঁতী লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভা। ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থাকবেন। ৮ আগস্ট সুপ্রিমকোর্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আলোচনা সভা। ৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে শোক দিবসের আলোচনা সভা। ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে শোকসভা। ১২ আগস্ট শোকসভা করবে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ। এটি অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে। ১৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শোকসভা করবে শ্রমিক লীগ। ১৫ আগস্ট বুধবার পালিত হবে জাতীয় শোক দিবস। এদিন সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। দুপুরে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে শোক দিবসের আলোচনা সভা। ১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। ১৮ আগস্ট যুব মহিলা লীগ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এবং ২০ আগস্ট মহিলা লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা হবে। ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার দিনের এ ঘটনায় আহত-নিহতদের স্মরণ করা হবে। তাদের স্মরণে এদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। ২৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের আয়োজনে গ্রেনেড হামলা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন করবে মহিলা শ্রমিক লীগ। ৩০ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে শোক দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে শোকসভা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাগুলোর সবস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।যুগান্তর।

Facebook Comments
Please follow and like us: