অতি দ্রুত দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে : মওদুদ

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:সরকার পরিবর্তনের শেষ সময় এসে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যাস্টিার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমি অনেক দিন আগে একটি কথা বলেছিলাম, অতি দ্রুত দেশের রাজনৈতিক চিত্র পরিবর্তন ঘটতে থাকবে। কখন, কোথায়, কী ঘটবে আমরা কেউ তা জানি না। সময় এসেছে সক্রিয় ঈমানি ভুমিকা পালন করার। সবাই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা কেন?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আরো বক্তৃতা করেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, কৃষকদল নেতা শাজাহান মিয়া সম্রাট, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ভিপি ইব্রাহিম, জিনাফ সভাপতি মিয়া মো: আনোয়ার, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলাতানা রুমা, যুবদল নেতা কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

মওদুদ আহমদ বলেন, প্রকৃতির আইন নিজস্ব গতিতে চলে। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের কথা আমরা দু’সপ্তাহ আগেও ভাবিনি। আসলে কখন কি ঘটবে তা আমরা জানিনা।
তিনি বলেন, সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই। পুলিশ আছে, র‌্যাব আছে, কিন্তু কোনও সরকার নেই। রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হলো, কারা হামলা করেছে আমরা সবাই জানি কিন্তু কোনও গ্রেফতার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেল, সোনা চুরি হলো, কয়লা চুরি হলো, পাথর চুরি হলো, কঠিন শিলা চুরি হলো, কিন্তু একজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনার সরকারের তল্পিবাহক। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় একটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনিয়ম যে হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার এই বক্তব্যের পরেই অন্য কমিশনাররা দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনও অধিকার থাকতে পারে না। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এরপরে শহিদুল আলমের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে এটা অকল্পনীয়। সরকার একদম বেপরোয়া হয়ে গেছে। সরকার বুঝতে পেরেছে জনগণের সাথে তাদের সম্পর্ক আর নেই। জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই উপলব্ধি আজকে তাদের মধ্যে এসেছে বলেই তারা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন পরিবহন আইন একটি প্রতারণা মন্তব্য করে তিনি আটককৃত ২২ ছাত্রকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
শওকত মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় দুই দিনে ৪২ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গণমাধ্যমে সেন্সরশীপের কারণে গুজব ছড়িয়েছে। শহিদুল আলমের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তা সরকারের জন্য বুমেরাং হবে। দেশে অতিদ্রুতই আন্দোলন শুরু হবে মন্তব্য করে তিনি এ জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান।

Facebook Comments
Please follow and like us: