দিনাজপুরে হাসপাতালে ঠাঁই না পেয়ে গাছের নিচে প্রসূতির সন্তান প্রসব! নারায়ণগঞ্জে পরিত্যক্ত জায়গায় নবজাতক : সোনারগাঁয়ে ২ স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট:   দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে এসে কোনো সেবা না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের সামনে একটি কামরাঙ্গা গাছের নিচে ঘাসের ওপর জনসম্মুখে সন্তান প্রসব করেছেন একজন প্রসূতি মা।রোববার ভোর ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুলবাড়ী উপজেলা পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার হামিপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক আবু তাহেরের স্ত্রী রিনা বেগমের প্রসববেদনা শুরু হলে রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে প্রসূতি রিনা বেগম প্রসববেদনায় ছটফট করলে হাসপাতালের নার্সরা তাকে ভর্তি না করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বলেন এবং হাসপাতালের দ্বিতীয়তলা থেকে নেমে যেতে বলেন।এ সময় রোগীর প্রসববেদনা আরো তীব্র হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের এক দোকানদারের মা এগিয়ে আসে। ওই দোকানদারের মায়ের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের পাশে একটি কামরাঙ্গা গাছতলায় খোলা আকাশের নিচে ঘাসের ওপর জনসম্মুখে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন প্রসূতি মা।পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর তোপের মুখে প্রসূতি মা ও তার নবজাতক শিশুকে হাসপাতালের বেডে নেয়া হয়।প্রসূতির স্বামী রিকশাচালক আবু তাহের বলেন, তার স্ত্রী যখন প্রসববেদনায় ছটফট করছিলেন তখন বারবার দায়িত্বরত নার্সদের অনুরোধ করেও কারো সেবা পাননি। অবশেষে খোলা আকাশের নিচেই তার স্ত্রীকে সন্তান প্রসব করতে হয়েছে। এই জন্য তিনি এই ঘটনার বিচার চান।ওই প্রসূতি মা রিনা বেগম বলেন, তিনি যখন প্রসবব্যথায় কাতর ঠিক তখন ওই নার্সরা তাকে বলেন, তার পেটে টিউমার আছে তাকে এখানে প্রসব করানো যাবে না। এজন্য তাকে স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে যাওয়ার কথা বলে ব্যথায় কাতর প্রসূতি মাকে ওপরতলা থেকে নিচে জোর করে নামিয়ে দেন।এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি আমি লোকমুখে শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে ওই শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কর্তব্যহীনতার অপরাধে জড়িত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

—————–০—————–

ফতুল্লায় পরিত্যক্ত জায়গায় নবজাতক, হাসপাতালে নিল পুলিশ

  ফতুল্লা প্রতিনিধি
ফতুল্লায় পরিত্যক্ত জায়গায় নবজাতক, হাসপাতালে নিল পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় একদিনের নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশি তৎপরতায় শিশুটিকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুসলিমনগর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শাফিউল আলম জানান, খবর পেয়ে মুসলিমনগরের হযরত মিয়া ও সিদ্দিক মিয়ার বাড়ির মধ্যবর্তী খালি জায়গা থেকে ওই একদিন বয়সী নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। কোনো পাষণ্ড ওই নবজাতকটিকে ফেলে গিয়েছিল। নবজাতকটির শরীরে নাড়ও কাটা হয়নি। পরে নবজাতকটিকে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

——–০০——————-

সোনারগাঁয়ে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ, ২ স্কুলছাত্রের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে এক বন্ধু পানিতে তলিয়ে গেলে অপর বন্ধু তাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেয়। এতে দুজনই নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে

নিহতরা হলো, ইয়াসিন(৭) উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া গোবিন্দি গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। অপর নিহত বিন ইয়ামিন (৭) বিন ইয়ামিন একই এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে ও মুনলাইট কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।রোববার দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মেঘনা নদীর হাড়িয়া গোবিন্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে প্রথমে গোসল করতে নামে স্কুলছাত্র ইয়াসিন। এ সময় সে প্রচণ্ড স্রোতে তলিয়ে যায়। ইয়াসিনকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারই বন্ধু বিন ইয়ামিন। প্রচণ্ড স্রোতে সেও পানিতে তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ওই দুই স্কুলছাত্রকে মুমূর্ষু অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।এদিক মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের অকালমৃত্যুতে দুটি পরিবারে ও আশপাশের এলাকায় চলছে শোকের মাতম।বৈদ্যেরবাজার ইউপির চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফ জানান, মেঘনা নদীতে ডুবে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

Facebook Comments
Please follow and like us: