ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮
সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কুচিয়া ১৫ দেশে রপ্তানি হচ্ছে!

ক্রাইমবার্তা রিপোট :সরদার: সাদা সোনা খ্যাত রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি জেলায় চাষ হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি রপ্তানির পাশাপাশি উপকুলীয় এলাকায় উৎপাদিত কুচিয়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জে বেশ কয়েকটি মোটাতাজাকরণ কুচিয়া খামার গড়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিকভাবে জন্মনো এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করার পর থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসহ ১৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে চাইনায় এর চাহিদা বেশি।
তবে খামারীরা বলছেন, সরকারী পৃষ্টোপোষকতা পেলে আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার কুচিয়া রপ্তানি।
আশাশুনির উপজেলার শবদলপুরে গ্রামের নিতাই সরকার বলেন, স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে কুচিয়া মোটাতাজা করেন। গত পাচ বছর যাবত নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কুচিয়া মোটাতাকাকরন খামার। তার খামারে ছোট বড় কয়েক হাজার কুচিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস ঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে পরিচর্জা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্জা করার পর তা একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতি কেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
তিনি আরো জানান, বছরের বারো মাসই কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এতে তার খামার ও অন্যান্য খরচ তুলে প্রতি মাসে ৮থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে উপকুলীয় এলাকার কুচিয়া রপ্তানিতে আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের উজিরপুর গ্রামের আব্দুল বারী গাজী বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খামারে মোটাতাজা করছেন। এসময় কুচিয়ার জন্য তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন কেচো, ছোট তেলাপেয়া মাছ ও চিংড়ি মাছ।
এদিকে আশাশুনি এলাকার গৃহবধু ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, তারা সংসারের কাজকর্ম করেও গ্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার করে আয় হচ্ছে কুচিয়ার খামার থেকে।
উন্নয়ন সংস্থা নামে খুলনা ভিত্তিক একটি এনজিও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাতে কুচিয়া মোটাতাজাকরণে খামারীদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছে। উন্নয়ন সংস্থার আশাশুনি উপজেলার দায়িত্ব থাকা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর রেজা বলেন, পিকেএসএস আর্থিক সহায়তায় লিফট কর্মসূচির আওতায় আশাশুনিতে প্রায় ২০০টি কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে।
এই এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করা হয়। এসব খামারে পরিচর্জা করার পর তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি আরো বলেন, ঢাকার উত্তরা এলাকার কিছু রপ্তানিকারক প্রতিষ্টান সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম, ও সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
আশাশুনি উপজেলার উজিরপুর বাজারের পাইকারী কুচিয়া ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান আসিফ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম বলেন, খামারীদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার উত্তরা এলাকার কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্টানের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিকটন পর্যন্ত কুচিয়া উত্তরায় সরবরাহ করেন তিনি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, শ্যামনগরে সরকারিভাবে কুচিয়ার দুটি প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। চিংড়ি ও কাকড়ার পরই কুচিয়া রপ্তানিতে সাতক্ষীরা বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্তু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হওয়ায় জনপ্রিয়তা কম। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছর কাকড়া মোটাতাজাকরণ একটি প্রকল্প সাতক্ষীরাতে ছিলো। সেটি গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে কুচিয়া চাষের উপর প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


Thia is area 1

this is area2