সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সাতক্ষীরার সংবাদকর্মীরা ইতিবাচক সহায়তা দিয়েছেন: জেলা প্রশাসক

ক্রাইমর্বাতা রিপোট: সাতক্ষীরা:  সাতক্ষীরায় হবে ‘সাতক্ষীরা ফাউন্ডেশন’। আর অচিরেই শুরু হবে স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভ তৈরির কাজ। গনকবরে দাঁড়িয়ে যাবে ফলক। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্নীতিরোধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে চলমান উন্নয়ন কাজ এভাবেই একের পর এক চলবে জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন এসব কাজে চাই সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা। তিনি আরও বলেন সাপ্তাহিক গণশুনানীর মাধ্যমে এরই মধ্যে অনেক সমস্যা চিহ্ণিত হয়েছে । এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে আমি দায়বদ্ধ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন নতুন বছরে নতুন উদ্যমে দুর্বার গতিতে চলবে উন্নয়ন ধারা।

জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার তার সম্মেলন কক্ষে জনাকীর্ন সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করছিলেন। ‘সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়’ শীর্ষক মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন ও জেলা তথ্য অফিসার মোজাম্মেল হক।
নববর্ষের শুভেচ্ছা এবং একই সাথে নতুন সরকারকে স্বাগত অভিনন্দন জানিয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সংবাদকর্মীরা তাকে ইতিবাচক সহায়তা দিয়েছেন । তাদের সহায়তার কারণে নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী কোনো উল্লেখযোগ্য সহিংসতা হয়নি সাতক্ষীরায়। এ বিষয়ে তিনি জনগনের শান্তিমনস্কতার প্রশংসা করে বলেন তারা হিংসাশ্রয়ী কোনো ঘটনায় সাড়া দেননি।
স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান এবং গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষনে উদ্যোগী হবেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলে প্রাণ সায়ের খালের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যয় ব্যবস্থাপনা করার পাশাপাশি শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ফুটপাথ দখলমুক্তকরণ, শহরের বাইরে ট্র্কা স্ট্যান্ড নির্মান , পৌর দীঘির সৌন্দর্যবর্ধন এবং ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন মাদক ও জঙ্গিবাদ নির্মুলে স্কুল ভিত্তিক কার্যক্রম ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধি করা হবে এবং কোচিং ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে। বাল্য বিবাহের কুফল উল্লেখ করে এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানদের ডেকে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন মুন্সিগঞ্জ খুলনা রেল লাইনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। ইকো ট্যুরিজম অঞ্চল হিসাবে সাতক্ষীরাকে গড়ে তোলার উদ্যোগ, ডিসি ইকো পার্কের উন্নয়ন, এসডিজি বাস্তবায়নে আরও কাজ করা হবে। জেলা প্রশাসক বলেন সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করা হবে এং ট্যালেন্ট হান্ট প্রকল্প হাতে নিয়ে মেধাবীদের বের করে আনা হবে। গনশুনানী চলছে এবং চলবে জানিয়ে তিনি বলেন স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় ভ্রাম্যমান আদালত , ভূমি ব্যস্থাপনায় সব ধরনের হয়রানি রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে । তিনি বলেন ইভ টিজিং ও যৌন হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাতক্ষীরায় চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরন অঞ্চল প্রতিষ্ঠা , সাদা মাছ এবং সাতক্ষীরার আমসহ বিভিন্ন ফল বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে ফুটবল, ক্রিকেট ভলিবল ব্যাডমিন্টন টেনিস ও কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট ও জেলা প্রশাসক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অচিরেই আয়োজন করা হবে। আন্তঃ উপজেলা ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ও ভলিবল ট্রুর্নামেন্ট এবং ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন দুঃস্থ মানুষ বিপদগ্রস্থ কিংবা রোগগ্রস্থ মানুষের সেবায় হাত বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় হবে ‘ সাতক্ষীরা ফাউন্ডেশন’।
জেলা প্রশাসক এমন ২৯ টি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন এখানেই শেষ নয়, উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম । এই ধারা চলতে থাকবে । তাই আরও অনেক বিষয় আসবে কর্মতালিকায়।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের সমস্যা তুলে ধরেন । এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএর দুর্নীতি, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা, ডাক্তার না থাকা, টেন্ডার বিহীন খাদ্য সরবরাহ, কাদাকাটি বিল ফিশারিজ প্রকল্প, সীমান্ত নদী ইছামতি ভাঙ্গন, সুন্দরবনে ইকো ট্যুরিজম এবং পর্যটন সম্ভাবনায় সংকট, ভেন্ডরদের কাছ থেকে অধিক মূল্যে স্ট্যাম্প ক্রয়ে বাধ্য করা , ভারতে যাতায়াতে বিজিবি ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে নানা হয়রানি, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ বিনষ্ট হতে থাকা , বাধ্যতামূলক কোচিংসহ নানা বিষয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিয়ন থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, কাবিখা ও কাবিটায় ভাগবাটোয়ারার বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়। ভোমরা স্থল বন্দরের কাংখিত উন্নয়ন না হওয়া, সড়কের ওপর বালির বাজার, খনন না হওয়ায় প্রাণ সায়ের খাল বিপজ্জনক হয়ে উঠতে থাকা, জেলা প্রশাসকের কম্পাউন্ড জলাবদ্ধ হয়ে থাকা, সদর হাসপাতালের সামনে গাড়ি জট ও বিকট শব্দে হর্ণ বাজানো, প্রকৃত ভূমিহীনদের গৃহ ও ভূমি থেকে বঞ্চিত হওয়া, মধু সংগ্রহে সরকারি ঋণ সুবিধা না পাওয়া, সাতক্ষীরা থেকে খেজুর গাছ ও খেজুর গুড় হারিয়ে যাওয়া, জেলা শহর সাতক্ষীরার সাথে তালা দেবহাটা ও শ্যামনগরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকা, কালিগঞ্জে সড়কের ওপর বাসটার্মিনাল, জেলাব্যাপী জলাবদ্ধতার মতো নানা সমস্যার কথা উঠে আসে। । কালেক্টরেট চত্বর ও জুডিসিয়াল আদালত চত্বরের মধ্যে প্রাচীর থাকায় যাতায়াত সংকট , কৃষকের কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া, বদ্ধ নদী খাল সংস্কার করে পানির গতি প্রবাহ পিরিয়ে আনাসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন তারা।
জেলা প্রশাসক এসব বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন দুর্নীতি সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও মাদক দমনে স্কুল ভিত্তিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। কালেকটরেট সংলগ্ন প্রাচীরের মধ্য দিয়ে জুডিসিয়াল আদালতের মক্কেল ও আইনজীবীদের যাতায়াতের সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন সরকারি স্কুলে কোচিং বন্ধ করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় নানা কর্মসূচির সাথে সাথে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন কয়েকটি বিষয়ে সেমিনার করে উন্নয়নযাত্রাকে শাণিত ও বেগবান করা হবে। সাংস্কৃতিক পরিষদকে জীবন্ত করে বিনোদন সুবিধা গ্রহনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন নতুন বছরে সকল ক্ষেত্রে উৎসবমূখর পরিবেশে উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রেখে জনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহন করা হবে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ , সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী , সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম, বাসস এর অরুন ব্যানার্জি ,সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আবুল কাসেম, মানবকন্ঠের অসীম বরন চক্রবর্র্তী, দৈনিক দৃষ্টিপাতের আবু তালেব মোল্লা, দৈনিক জনতার কালিদাস রায়, যমুনা টিভির আহসানুর রহমান রাজীব, ডিবিসির এম জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ বেতারের ফারুক মাহবুবুর রহমান, দৈনিক কল্যাণের কাজী ময়না, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, দৈনিক প্রবাহর খায়রুল বদিউজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ সাংবাদিক।

Facebook Comments
Please follow and like us: