জানুয়ারি ১২, ২০১৯
রাজধানীজুড়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ভাঙচুর, আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ২০ কারখানা ছুটি

ক্রাইমর্বাতা রিপোট:   নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে আজও সড়ক অবরোধ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং আশুলিয়া ও গাজিপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তারা অবস্থান নিয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার। আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। গাজিপুরে ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, মিরপুর-১৪ তে সকাল থেকেই সড়ক অবরোধ করে তারা। এতে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় এলাকায়ও।


বাংলা কলেজ ও টেকনিক্যাল মোড়ের মধ্যবর্তী এলাকার দু’লেনেই অবস্থান নিয়েছে আশপাশের ৫টি গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করেছে।

এদিকে আশুলিয়ায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকায় বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান টিয়ারশেল ব্যবহার ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকরা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিক্ষিপ্তভাবে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় ১০টি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ১০ জন শ্রমিক আহত হয়। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বিঘœ ঘটে। আহতদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, সকাল নয়টার দিকে আশুলিয়ার বেরণ এলাকার ইয়াগী বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় স্টারলিং ও উইন্ডি অ্যাপারেলস, এআর জিন্সসহ বেশ কয়েকটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক। এক পর্যায় শ্রমিকরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেসেল ও জলকামান ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করে। শিল্প পুলিশের এসপি সানা শামিনুর রহমান জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় দশটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় আমরা তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া শিল্প এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় আজও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসলে কয়েকদফা পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের জেরে অন্তত: ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবির আন্দোলনে আজ শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার টার্গেট ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে । এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে, লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এছাড়া মোগরখাল এলাকায় বিসিএল কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে তাদের সঙ্গে মালিকপক্ষের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা হয়। নগরের কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টি করতে চাইলে পুলিশ তাদের ধাওয়া ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।


শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মোগরখাল এলাকাসহ আশপাশের এলাকার অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি দেয়া হয়। গাজীপুরের শিল্প এলাকা গুলির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আজ ৬ষ্ঠ দিনের মতো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


Thia is area 1

this is area2