হাবিবুর রহমানকে খুলনায় নৃশংসভাবে হত্যা গ্রেফতারকৃত আসাদ ও অনুপমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মনিরুল ইসলাম মনি: সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ওমরাপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে সবুজকে (২৬) খুলনায় ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার ও মঙ্গলবার তারা খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর বিচারক শাহীদুল ইসলামের কাছে এ জবানবন্দি দেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামীরা হলেন, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার পিলজঙ্গ গ্রামের সরদার নুরুল হকের ছেলে সরদার আসাদুজ্জামান (৩৮) ও খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার হাড়পটিয়া গ্রামের নিভান মহালদারের ছেলে অনুপম মহালদার (৪২)।
পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো খুলনা শাখার পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ওমরাপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান সবুজকে নিজ বাড়ি থেকে খুলনায় ডেকে এনে হত্যার পর লাশ ১০ টুকরা করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ মার্চ ভোরে র‌্যাব সদস্যরা সরদার আসাদুজ্জামান ও অনুপম মহালদারকে আটক করে। ওই দিন আসাদুজ্জামানের ৩৪নং ফরাজিপাড়া লেনের ভাড়া বাসা হাসানত মঞ্জিল থেকে পলিথিনে মোড়ানো নিহতের ডান পা ও শরীরের অংশ বিশেষ, তার ব্যবহৃত নীল রঙ এর এপাচি ১৫০ মোটর সাইকেল (সাতক্ষীরা মেট্রো-১১-৯৬০৬) হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও দা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ মার্চ থেকে নয় মার্চের মধ্যে সবুজের মাথা, ধড়, দু’হাত ও একটি পা উদ্ধার করা হয়। ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ হত্যাকারিরা সবুজের ডাচ বাংলা ব্যাংকের সাতক্ষীরার শাখায় জমা থাকা দু’লাখ ২৬ হাজার টাকার মধ্যে কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে তুলে নেয়। ১১মার্চ মামলার তদন্তভার খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক সুজিত মিস্ত্রীর হাত থেকে তার উপর ন্যস্ত করা হয়। ১১ মার্চ রাতে আটককৃত আসাদুজ্জামান ও অনুপমকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরদার আসাদুজ্জামান খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট শাহীদুল ইসলামের কাছে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। একইভাবে বুধবার অনুপম একই বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা সাতক্ষীরার ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা মাগুরার বাসিন্দা জনৈক মোস্তফার স্ত্রীর সঙ্গে সবুজের পরকীয়া গড়ে ওঠার কথা বলে। এরই জের ধরে মোস্তফার অনুরোধে ৫ জানুয়ারি আসাদুজ্জামান মোবাইল ফোনে সবুজকে ডেকে নিয়ে পরদিন রাতে তারা দু’জনসহ মোস্তফা ও খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরপুরী গ্রামের আব্দুল হালিম ও খলিল মিলে সবুজকে জবাই করে হত্যার পর লাশ ১০ টুকরা করে ফেলে বলে জানায়। চার মাস আগে জেলখানায় গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব থেকে মোস্তফার অনুরোধে তারা এ কাজ করে বলে জানিয়েছে।
তবে মোস্তাফা, তার স্ত্রী, বোন, আব্দুল হালিম ও খলিলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর ছিদ্দিক।
প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার ওমরাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে হাবিবুর রহমান বাড়ি থেকে মোটর সাইকেলে খুলনায় যান। ৭মার্চ খুলনা শহরের শেরে বাংলা রোড থেকে পলিথিনে মোড়া তার দেহ, পরদিন ফরাজিপাড়া লেনের একটি ড্রেনের পাশ থেকে বস্তায় মোড়ানো মাথা, দু’ হাতসহ শরীরের অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়। ৯ মার্চ নিহতের ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে খুলনা থানায় একটি হত্যা মামলা(১৪নং) দায়ের করেন।

Facebook Comments
Please follow and like us: