বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার জয় ভয়ে রূপ নিয়েছে

ক্রাইমর্বাতা রিপোট;  উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসানে জয় হয়েছে জনগণের। কিন্তু সেই জয় এখন আতঙ্কে রুপ নিয়েছে।

কারণ গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে সুদানের রাজধানী খারতুমসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন সুদানের হাজার হাজার নাগরিক। এ নিয়ে দেশটির পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিক্ষোভে সেখানে অন্তত ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানায় ভয়েস অব আমেরিকা।

এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে।

সুদানের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে আছেন দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ আওয়াদ ইবনে অওফ।

তবে সেই জয় নিমিষেই হারিয়ে গিয়ে ভয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ সামরিক পরিষদ সরকারব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে দেশটির সংবিধান স্থগিত করেছে। তারা দেশটিতে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছে। খবর সিএনএনের।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল তত্ত্বাবধান করতে অন্তত দুই বছর তারা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

এতে বিক্ষোভকারী এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নতুন করে হতাশায় ফেলে দিয়েছে। কারণ এখন এটি সত্য যে, দেশটিতে তাড়াতাড়ি আর নির্বাচন হতে যাচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুদান এবং তার মানুষের জন্য একটি সামরিক অভ্যুত্থান কোনো উপযুক্ত সমাধান নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুদান আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। এই চুক্তির আওতায় দেশটিতে সরকারের কোনো অসাংবিধানিক পরিবর্তনকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা করে। পাশাপাশি আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক নীতি ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রের কাছে দেশটি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ক্ষমতার পালাবদলে আরও ফুঁসে উঠেছে দেশটির জনগণ। দেশটির রাজধানী খারতুমে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্বদানকারী সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) এই অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে। এ সময় তারা মিলিটারি বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির ক্ষমতা বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়

Facebook Comments
Please follow and like us: