জুন ৭, ২০১৯
নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ     গত বুধবার প্রকাশিত বৃটিশ পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে গত বছরের ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছে। উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে বৃটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রথম প্রকাশ করা হলো।
বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট সুষ্ঠু নির্বাচনে যুক্তরাজ্য সরকারের মনোভাব গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠককালে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যক্ত করেছিলেন। কারণ যুক্তরাজ্য মনে করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে সহায়ক হতে পারে। এই পথই দেশটির উন্নয়নের গতিকে শক্তি যোগাবে। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচন ও উন্নয়ন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সুস্পষ্ট।
এছাড়া যুক্তরাজ্য সরকার আরো স্পষ্ট করেছে যে, গুম, ধর্মীয় স্বাধীনতা বা বিশ্বাস এবং আধুনিক দাসপ্রথা বিলোপের মতো বিষয় বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের এজেন্ডায় অগ্রাধিকার রয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্য সরকার ২০১৮ সালের বাংলাদেশে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশের উদারতায় সন্তোস ব্যক্ত করলেও দেশটিতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বেড়ে যাওয়া এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা কমে গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
‘মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিবেদন ২০১৮’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, গত সাধারণ নির্বাচনে সকল দলের অংশ নেওয়া উৎসাহব্যঞ্জক হলেও গ্রেপ্তার এবং বিরোধী দলের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। এর ফলে রিপোর্টর কথায়, ‘কিছু লোক ভোট দিতে পারেনি।’ যুক্তরাজ্য নির্বাচনী অনিয়মের সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বেড়েছে ২০১৮ সালের বাংলাদেশে। সীমিত হয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা । এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ (মে থেকে জুলাই পর্যন্ত) সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও ‘গুম’-এর ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘দায়মুক্তি’ পাওয়ার অভিযোগকে গ্রহনযোগ্যতা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য সরকার গত অক্টোবরে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর ভিন্নমত প্রকাশে স্বাধীনতার দিকটি পর্যবেক্ষণে রেখেছে । ২০১৮ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার-এর বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৬তম। ২০১৭ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৫৪ জন সাংবাদিককে ডিজিটাল আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ড. শহীদুল আলমের মামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী এবং হাইকমিশন বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানব পাচার রোধে একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু অগ্রগতি মন্থর। ইউকে-বাংলাদেশ স্ট্রেটেজিক ডায়লগ, ২০১৯ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এই বিষয়টিকে আরো গভীর নেওয়া হবে। রিপোর্টে বলা হয়, ১৯১ টি মৃত্যুদন্ড ঘোষিত আছে। কিন্তু তার একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরমধ্যে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় ১৯ জনের মৃত্যুদন্ডও আছে। যুক্তরাজ্য চাইছে সরকার মৃত্দুন্ডের প্রথা বিলোপের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একটি বিরতিকালে যেতে পারে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে নারী শিক্ষার যোগসূত্র খুজে পেয়েছে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


www.crimebarta.com সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু শোয়েব এবেল

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০( জাহান প্রির্ন্টস প্রেস),শহীদ নাজমুল সরণী,পাকাপুলের মোড়,সাতক্ষীরা। মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪,০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com