জুন ১৩, ২০১৯
তিন দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিপর্যস্ত মমতার হুঁশিয়ারিতেও অনড় আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা

ক্রাইমর্বাতা রিপোট: : বারে বারে হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকরা রোগীর পরিজন ও বহিরাগতদের হাতে মার খাচ্ছেন। গত সোমবারই শিয়ালদহের নীল রতন সরকার মেডিকেল কলেজে একজন বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে একদল দুষ্কৃতির হাতে নিগৃহীত হয়েছেন কতর্ব্যরত জুনিয়ার চিকিৎসকরা। দুজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন। একজনের খুলির হাড় ভেঙে মাথায় ভিতরে ঢুকে গেছে। এরপর থেকেই উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা ধরণায় বসেছেন। সেই ধরণায় পরবর্তী সময়ে যোগ দিয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরাও। জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে রাজ্যে সবকটি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আউডডোর বিভাগ গত তিন ধরে অচল রয়েছে। জরুরি পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে।

চিকিৎসকদের অভিযোগ, বারে বারে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত দুদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় কোনও কথা না বললেও বৃহষ্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে চার ঘন্টার মধ্যে ধরণায় বসা চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেবার সময়সীমা ধার্য করে দিযেছেন। সেই সঙ্গে কাজে যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেবার হুমকিও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আন্দোলনকারীরা আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তাঁরা আন্দোলন তুলবেন না। আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চিকিৎসক মহল। এমনকি নার্সরাও আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। এসএসকেএম, বর্ধমান মেডিক্যালের মতো হাতে গোনা দু’-একটি হাসপাতালে নামমাত্র পরিষেবা চালু করা গেলেও পুরোপুরি অচল নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিনিয়র চিকিৎসকদের কাছে পরিষেবা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আবেদন উপেক্ষা করে গণ ইস্তফা দিয়েছেন সাগর দত্ত মেডিক্যালের চিকিৎসকরা। কার্যত ফুঁসছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী-আধিকারিকরা। আর জি কর, কলকাতা মেডিক্যাল, ন্যাশনাল মেডিক্যালের মতো প্রায় সব হাসপাতালেই চলছে গণ ইস্তফার প্রস্তুতি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এনআরএস হাসপাতালে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে যান। রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাজভবনের গেটে তাঁরা জানান, রাজ্যপালকে গোটা বিষয়টি তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁরা পরিষেবা দিতে প্রস্তুত। কর্মক্ষেত্রেই রয়েছেন। রাজ্য সরকার তাঁদের দাবিদাওয়ার পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ফের কাজে যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যেই স্বাস্থ্য পরিষেবা এক ভয়াবহ সঙ্কটের সম্মুখীন। হাজার হাজার রোগী এসে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। এদিকে ধরণায় বাংলাদেশ থেকে আসা বেশকিছু রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম হয়রানির মধ্যে পরেছেন।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


Thia is area 1

this is area2