আগস্ট ১০, ২০১৯
সাতক্ষীরায় জ্যাম ঠেকাতে খুলে দেয়া হল বাইপাস সড়ক: আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে : জেলা প্রশাসক

আবু সাইদ বিশ্বাস: ক্রাইমবার্ত রিপোট: সাতক্ষীরা: জ্যাম স্থায়ী ভাবে রূপ নিতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা শহরে। সকাল থেকে শহরের প্রধান প্রধান প্রবেশ পথ গুলোতে দীর্ঘ যানজট। যানবাহন নিয়ন্ত্রনে হিমশীম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। যানজট নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিলেও যেন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। দিনের পর ও দিন জ্যাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারের ঈদ যাত্রায় যানজট নতুন মাত্রায় ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে আজ থেকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক খুলে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। হয়তোবা ভোগান্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমবে আশা সাতক্ষীরা বাসীর । আজ সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সড়কের দু’পাশে যেসব অবৈধ স্থপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে সেসব স্থান সমূহ এখনো ব্যাবহারের অনুপযোগী।

“সাতক্ষীরা শহরে পৃথক চারটি রুটের চারটি স্থানে তিন মিনিটের বেশি যাত্রীবাহী বাস থামবে না। শহরে কোনও অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও ইঞ্জিনভ্যান চলবে না” এমন নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

নিয়ম ভঙ্গ করলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও বিআরএ’র সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা থাকলেও জনগণ বলছে ভিন্ন কথা।

জেলা প্রশাসন রবিবার (১০ অক্টোবর) মাইকিং করে শহরের যানজট কমাতে বাইপাস সড়ক ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। মাইকিং করে বলা হয়েছে রবিবার থেকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরা-খুলনা রুটের নারকেলতলা মোড়ে তিন মিনিট, সাতক্ষীরা-যশোর রুটের কদমতলা মোড়ে তিন মিনিট, সাতক্ষীরা-কারিগঞ্জ রুটের কামালনগর সঙ্গীতা মোড়ে তিন মিনিট এবং সাতক্ষীরা-আশাশুনি রুটের পৌর দিঘিরপাড়ে (পিএন স্কুল মোড়) তিন মিনিট যাত্রীবাহী বাস থামার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

সাতক্ষীরা শহরের কোথাও কোন প্রকার অনিবন্ধিত ইজিবাইক বা ইঞ্জিনভ্যান চলতে পারবে না। কিন্তু সেটাও মানা হচ্ছে না বলে সর্বসাধারণের অভিযোগ।

সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা শহরে বর্তমানে ইজিবাইক, ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরভ্যানের সংখ্যা ১২ থেকে ১৫হাজার। এছাড়া অন্যান্য যানবাহনও আছে। আর শহরের বাইরে এর সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ গুণ।
সবাই এখন ঈদের কেনাকাটায় শহর মুখি। ফলে প্রতি নিয়ত শহরে যানজট বাড়ছে। এতে অবৈধ ইঞ্জিনভ্যান, মোটরভ্যান ও ইজিবাইকে ভরে গেছে শহর।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরা শহরকে নান্দনিক রূপে গড়ে তোলা হবে। দখল ও দূষণ থেকে চিরমুক্তি দেওয়া হবে শহরকে। নদী ও খাল দখলমুক্ত করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রাণ সায়র খালের দু’ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান চলতে থাকবে । এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা নাগরিক সমাজের নেতারা। তাদের দাবী সাতক্ষীরা শহরকে বসবাসের উপযোগী করতে জেলা প্রশাসনের পাশে থাকবে সাধারণ জনগণ।

ছোট্ট এ শহরের একই রাস্তায় চলে দূরপাল্লার পরিবহন, বাস-ট্রাক পিকআপ, মিনিট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন। নেই ফ্লাইওভার। সড়কে যানবাহন দাড় করিয়ে সমিতির নামে শহরের কয়েকটি স্পটে তোলা হচ্ছে চাঁদা। এছাড়া শহরের প্রবেশ পথ গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধেও রয়েছে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এসব্ কারণে শহরের যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহর বাসীর দাবি শহরের সঙ্গীতা মোড়,হাটের মোড়,পিএনস্কুল মোড়,পৌরদিঘীর পাড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে ট্রাফিক পুলিশ থাকলে যানজট অনেকটা হ্রাস পাবে।
এছাড়া সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদে বরাবই কোন মন্ত্রী না থাকায় অবহেলিত রয়েছে শহরের উন্নয়ন কার্যক্রম।
এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, সাতক্ষীরাকে বাসউযোগী করে গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার সরকার তা করবে। প্রভাবশালীরা যতই শক্তিশালী হোকনা তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়া হবে। উদ্ধার করা হবে সরকারের সম্পদ। সাতক্ষীরা শহরকে জ্যাম মুক্ত রাখতে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও বিআরএ’র সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম কাজ করে যাচ্ছে। আইন ভঙ্গ করলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


Thia is area 1

this is area2