অক্টোবর ১৭, ২০১৯
তুরস্ক নিষেধাজ্ঞাকে পরোয়া করে না : এরদোগান

 বিবিসি, রয়টার্স : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, সিরিয়ার তুর্কি সীমান্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অনেক চাপ এসেছিল। কিন্তু আঙ্কারা নিষেধাজ্ঞার ভয়ে উদ্বিগ্ন নয়। তুরস্ক এসবের পরোয়া করে না। সীমান্তে সন্ত্রাসের করিডোর উৎখাতে আঙ্কারা বদ্ধপরিকর। গত মঙ্গলবার আজারবাইজানের বাকুতে তার্কিক কাউন্সিলের সপ্তম সম্মেলন শেষে ফেরার পথে তিনি এসব কথা বলেন।

পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে এরদোয়ান বলেন, তারা অভিযান বন্ধে আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা কোনও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বিগ্ন নই।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই ইতোমধ্যেই তুরস্কের প্রতি সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে এরদোয়ান বলেন, আঙ্কারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একই টেবিলে বসবে না।

এরদোগান বলেন, সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের চলমান অপারেশন পিস স্প্রিং সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ অভিযানে ৫৫৬ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া তুর্কি সেনাবাহিনীর চার সদস্য এবং সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মির ৩২ সদস্য শহীদ হয়েছেন।

২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক। এ অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটি থেকে আইএস জঙ্গি ও কুর্দি বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করে সেখানে একটি সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী আঙ্কারা। এ সেফ জোনে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কে বসবাসরত সিরীয় শরণার্থীদের বসবাসের ব্যবস্থা করতে চায় আঙ্কারা। তুর্কি অভিযানের আগে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অভিযান শুরুর পর তুরস্কের দুইজন মন্ত্রী এবং তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। গত সোমবার ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর আঙ্কারার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা হয়। অবশ্য এতে একমত পারেনি ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে কয়েকটি সদস্য দেশের আঙ্কারার কাছে অস্ত্র রফতানির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

জার্মান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহে ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে তাদের অবস্থান পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের আন্তর্জাতিক জোটেরও একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। লুক্সেমবার্গে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আলোচ্যসূচির শীর্ষে ছিলো সিরিয়ায় তুরস্কের অভিযান। সোমবার ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তুরস্কের সামরিক কার্যক্রমের নিন্দা জানানো হয়। এই অভিযান পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ক্ষুণœ করছে আর বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তুহারা হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে মনে করে ইইউ।

সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান শুরুর জেরে জার্মানি, ফ্রান্সের পাশাপাশি সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড তুরস্কের কাছে অস্ত্র রফতানি স্থগিত করেছে। তবে আঙ্কারা বলছে, তাদের ওপর এর প্রভাব খুবই সামান্য। সুইডেন চায় তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুক ইইউ। তবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেন, তুরস্কের সঙ্গে আলোচনায় থাকা জরুরি। এতে সফলতা না আসলে অন্য ব্যবস্থার জন্য অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।

এদিকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আশু যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জানানো আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান।

গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেছেন, “তারা বলছে ‘যুদ্ধবিরতি ঘোষণা কর’। আমরা কখনোই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবো না।“অভিযান বন্ধের জন্য আমাদের চাপ দিচ্ছে তারা। তারা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। কোনো নিষেধাজ্ঞায় আমরা উদ্বিগ্ন নই।”

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর তুরস্ক সফরের আগে এসব মন্তব্য করলেন এরদোগান। আজ বৃহস্পতিবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পেন্স ও পম্পেওর সঙ্গে এরদোগান সাক্ষাৎ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্ক ‘আশু যুদ্ধবিরতি গ্রহণ না করলে ও না করা পর্যন্ত’ এবং সীমান্তে ইস্যুতে দীর্ঘস্থায়ী মীমাংসার আলোচনায় বসতে রাজি না হওয়া হলে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হতে পারে বলে সোমবার সতর্ক করেছিলেন পেন্স।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী স্থানগুলো থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের হটাতে সেখানে পরিকল্পিত এক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। কুর্দিদের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রর ওই অঞ্চল থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার পরই অভিযানে নামে তুরস্কের সামরিক বাহিনী।

তুরস্কের এই অভিযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে মার্কিন কংগ্রেস। তার প্রশাসনের অনুগত বলে পরিচিত রিপাবলিকানরাও এতে সমর্থন জানিয়েছে।

এদিকে সিরিয়ায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে এরদোগানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। পুতিন এরদোগানকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বলে গতকাল বুধবার ক্রেমলিন জানিয়েছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থনকারী রাশিয়া জানিয়েছে, তারা সিরিয়া ও তুরস্কের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ঠেকাবে।

কুর্দিদের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির পর তুরস্কের অভিযান রুখতে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। এতে তাদের সঙ্গে তুরস্কের বাহিনীর সংঘাতের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


www.crimebarta.com সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু শোয়েব এবেল

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০( জাহান প্রির্ন্টস প্রেস),শহীদ নাজমুল সরণী,পাকাপুলের মোড়,সাতক্ষীরা। মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪,০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com