ধর্ষিত গোদাগাড়ীর সেই স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

ক্রাইমবার্তা রিপোট:স্কুলের গ্রন্থাগারিকের হাতে ধর্ষণের শিকার গোদাগাড়ীর দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী খালেদা খাতুন (১৪) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার দুপুরে কীটনাশক পান করলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ধর্ষিত গোদাগাড়ীর সেই স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

পরে আজ শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ওসি হিফজুর আলম মুন্সি জানান, বর্তমানে স্কুলছাত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। নিহত খালেদা খাতুনের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জৈটাবটতলা গ্রামে। তার বাবার নাম আলম হোসেন। সে দিগরাম স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।এর আগে গত ৩ নভেম্বর রাতে খালেদা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তার স্কুলের গ্রন্থাগারিক শহীদুল ইসলাম (৩৮)। পরে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর তাকে গণপিটুনি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত শহীদুলকে কারাগারে পাঠায়। শহীদুল উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামে দাউদ আলীর ছেলে। সে এখনও কারাবন্দি রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোদাগাড়ী থানার এসআই আবদুল লতিফ জানান, এরই মধ্যে ওই স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাতে বলা হয়েছে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তবে বলপূর্বক নয়।

এদিকে, নিহত ছাত্রীর বাবা জানান, এই প্রতিবেদনের বিষয়টি জানতে পারার পর লোকলজ্জায় সে গ্রামে থাকত না। উপজেলার বালিগ্রামে সে তার নানার বাড়িতে থাকত। শুক্রবার সেখানেই সে কীটনাশক পান করে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ওসি হিফজুর আলম মুন্সি বলেন, কী কারণে খালেদা আত্মহত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।

 

Facebook Comments
Please follow and like us: