দুই সংবাদকর্মীর ওপর হামলা হরতালে পুলিশ জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে

ক্রাইমবার্তা রিপোট:জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালে রাজধানীর শাহবাগে দুই সংবাদকর্মীর ওপর হামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে। গতকাল পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ওই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।9
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই সংবাদকর্মীকে মারধরের ঘটনায় অন্তত সাত পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এদের মধ্যে শাহবাগ থানার এএসআই এরশাদ এবং পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) কনস্টেবল সবুজ খান, হোসেন কবির ও মোখলেসুর রহমানের নাম জানা গেলেও বাকিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যরা বিনা উসকানিতে দুই সংবাদকর্মীকে মারধর করেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগ থানার সামনে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী ইহসান বিন দিদার ও ক্যামেরাপারসন আবদুল আলীমকে মারধর করে পুলিশ। তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা আধাবেলার হরতালের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েই তারা পুলিশি হামলার শিকার হন। এর পরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সংবাদকর্মীরা। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন এটিএন নিউজের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোশাররফ আলম সিদ্দিকী। এর মধ্যে শাহবাগ থানা পুলিশের এএসআই এরশাদ ম-ল, কনস্টেবল মোখলেছুর, হোসেন কবির ও সবুজ খান ছাড়াও আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ পুলিশ সদস্যকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়।
পরে ওই ঘটনায় জড়িত শাহবাগ থানার এএসআই এরশাদকে তাৎকক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার দিনই রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন) নাবিদ কামাল শৈবালকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেনÑ অতিরিক্ত উপকমিশনার আজিজুল হক ও রমনা জোনের সহকারী কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস। তদন্ত শেষে গত সোমবার রাতে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদারের কাছে ওই প্রতিবেদন জামা দেয় কমিটি।

 

Facebook Comments
Please follow and like us: