শাহরিয়ার কবির ও বাচ্চু জিয়ার সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন : ফখরুল

ক্রাইমবার্তা রিপোট: ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা নাসির উদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু সব সময় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদ এর প্রকাশনা উৎসব ও ওয়েব সাইটের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।15
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা এখন বড় বড় কথা বলেন। এদেশে নারী জাগরণে কাজ করেছেন জিয়াউর রহমান। নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে এসেছেন জিয়াউর রহমান। এখন যারা বিএনপিকে মৌলবাদী দল বলেন সেই শাহরিয়ার কবির ও নাসির উদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু একসময় জিয়াউর রহমানের সাথেই ঘুরে বেড়াতেন। জিয়াউর রহমান যদি সে সময় নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে না আসতেন একবার ভাবেন দেশের কি অবস্থা হতো?’
গাইবান্ধায় বিএনপির ২৫ নেতাকর্মীকে সাজা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের অপরাধ তারা আন্দোলনের সময় অনেক কিছু হতে পারে। মামলাগুলোতে যাদের স্বাক্ষী আনা হয়েছিল কেউ বলেনি যাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা জড়িত ছিল। একজনও না। মজার ব্যাপার হলো সেটা যখন বিচার সাজা দেওয়া হলো বিচারকে জিজ্ঞাস করা হলো আপনি তো সব শুনলেন তাদেরে অপরাধ কি ছিল। কিভারে সাজা হল? তিনি বললেন, আমার কিছু করার নেই। আমার হাত পা বাধা। জুডিশিয়ারির হাত পা যদি বেধে দেন, সাংবাদিক ভাইদের হাত পা যদি বেধে দেন দেশের মানুষ যাবে কোথায়? বিএনপির কথা বাদ দিন। মানুষের কোনো নিরাপত্তাটা আছে?
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ভারত বিরোধী বলা হয়। দু:খ হয় যখন প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর থেকে ফিরে এসেছেন আমরা তাকে ধন্যবাদ দিতে পারলাম। কারণ তিনি আমাদের জন্য কিছু আনলে না, শুধু দিয়ে আসলেন। সরকার ভারতের সাথে চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আমরা মিনিমাম যে পানি ন্যায্য অধিকার সেটাও পেলাম না। গতকাল মমতা একেবারেই নাখোশ করে দিলেন। আমরা তিস্তায় কোনো পানি নেই । আমি পানি দিতে পারবে না। গঙ্গা ব্যারেজে যে বাঁধের কথা বলা হয়েছে তাও হচ্ছে না। এখন বলা হচ্ছে নো ম্যানস ল্যান্ডে করার জন্য তার মানে আরও ৫০ বছর।’
‘আমরা পাওয়া না কোথায়। আমি পাওনার কথা বললেই ভারত বিরোধী হয়ে গেলাম। আমার ন্যায্য অধিকার যদি কেউ হরণ করে নেওয়া, আমরা নেতৃত্ব যদি কেউ হরণ করে তাহলে প্রতিবাদ করবো না? এই সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘হাওয়রের পানি কোথকে আসছে। তারা বাঁধ দিয়েছে। যখন বেশি বৃষ্টি হয়, পানি বেশি হয় তখন পানি ছেড়ে দেয় আর আমরা তলিয়ে যাই। আন্তর্জাতিক আইন আছে অভিন্ন নদীগুলোর উপর। আমরা ন্যায্য অধিকার চাই। এর জন্য প্রয়োজনে সরকার জাতিসংঘে যাক।’
নিবার্চন হতে হবে সহায়ক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন চাই। অন্য কোনো পথে নয়। সেই নির্বাচন করার জন্য জায়গা দিতে হবে। আমাদেরকে কথাই বলতে দেওয়া হবে না। সভা করতে গেলে বলবে নাশকতার করার পরিকল্পনা হচ্ছে।’
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘হত্যা করেও কাজ হবে না। দেশের মানুষ অধিকার রক্ষায় অতীতের ন্যায় তাদের পাওয়া ছিনিয়ে আনবে।’
মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন জিমির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবীব, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবীবুর রশিদ হাবীব, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদল সভাপতি মোক্তাদির হোসেন তরু প্রমুখ। এছাড়া গণস্বস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

Facebook Comments
Please follow and like us: