জামায়াতের সঙ্গে জোট আন্দোলনকেন্দ্রিক: ফখরুল

ক্রাইমবার্তা রিপোট:জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোট ‘আন্দোলনকেন্দ্রিক’, এর সঙ্গে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার- জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ‘ভিশন-২০৩০’ এ বোধহয় আসার প্রয়োজন নেই। এজন্যে যে জামায়াত ও ২০ দলের সঙ্গে আমাদের যে ঐক্য, সেটা সম্পূর্ণভাবে আন্দোলনকেন্দ্রিক।

তিনি বলেন, ২০ দলের ঘোষণাপত্রে পরিষ্কার করে বলা হয়েছিল- এই ২০ দল গঠন করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদেরকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যে একটা আন্দোলন সৃষ্টি করা। সেটা কিন্তু বলবৎ আছে।

‘তাই ২০৩০ সাল নাগাদ জামায়াতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী হবে, সে সম্পর্কে বোধহয় এখানে কথা বলার অবকাশ নেই’ যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অরাজনৈতিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল রিসার্চ স্টাডিজ-সিএনআরআরএস’ এর উদ্যোগে ‘বিএনপির ভিশন-২০৩০ শীর্ষক’ এই গোলটবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আপনাদের ২০ দল, যা আছে থাক। আপনারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করবেন, মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত রকম গৌরব ফিরিয়ে দেবেন, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। জামায়াতে ইসলামী কি (জোট থেকে) যাবে?’

‘বলতে পারেন- জামায়াতের তো রেজিস্ট্রেশনই নেই, সমস্যা কী? কিন্তু যদি এরকম হয়- দেড় বছর-দুই বছর পরে নির্বাচন হয় এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে, তখন জামায়াত আপনাদের সঙ্গে থাকবে? যোগ করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জামায়াত একটা মামলা ঠুকে দেবে- যাদের যুদ্ধাপরাধের নামে বিচার করা হয়েছে, তাদের পুনঃবিচার করতে হবে। কী করবেন আপনারা? না এখনই আপনাদের বিব্রত করতে চাইছি না। আমি এটা বুঝতে চাইছি।’

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রস্তাবসহ ভিশনের নানা দিক নিয়ে সমালোচনা করলেও এরকম একটা পরিকল্পনা দেয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আলোচনা সভায় ‘ভিশন-২০৩০’ তে মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মাথাপিছু আয় ৫০০০ মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়া, বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ডাবল ডিজিটে উন্নীত করা, শিক্ষাখাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রভৃতি বিষয়ে দলের ভবিষ্যৎ ভাবনাগুলো ব্যাখ্যা করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, বিএনপি চিন্তা ও কাজের ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ‘ভিশন-২০৩০’ তার প্রমাণ। আমাদের নেত্রী উপস্থাপনের সময়ে প্রথমে বলেছেন- ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে আপনারা মতামত দেবেন। আমরা আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটাকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করব।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদের সভাপতিত্বে মুক্ত আলোচনায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কাদের গনি চৌধুরী, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আশরাফ উদ্দিন বকুল অংশ নেন।

Facebook Comments
Please follow and like us: