সোমবার , ৬ জুলাই ২০২০

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আতঙ্কে উপকূলবাসী

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আতঙ্কে উপকূলবাসী
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আতঙ্কে উপকূলবাসী
, ঢাকা: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মোরার আঘাতের আশঙ্কায় রয়েছেন উপকূলবাসী। জীবন-মাল রক্ষায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে অনেকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ‘মোরা’ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।সেই সাথে মংলা ও পায়রাবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিন-১০ এ এমনটাই জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় ১৫টি জেলায় ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলাগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা।

উপকূলীয় অঞ্চলের শীর্ষ নিউজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে উপকূলে। শুরু হয়েছে ঝড়োবাতাস। আকাশে ঘন মেঘ জমাট বেধেছে। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে দমকা বাতাসে বঙ্গোসাগরসহ উপকূলীয় নদীগুলো উত্তাল রয়েছে। অনেক মাছ ধরা ট্রলার গভীর বঙ্গোপসাগরে আটকা পড়েছে। ওইসব জেলে ও তাদের পরিবারসহ উপকূলীয় ১৫ জেলার কয়েক লাখ মানুষ চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন।

এদিকে, প্রস্তুত করা হয়েছে ওইসব জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো। মোরার আঘাতের আশঙ্কায় থাকা উপকূলীয় ১৫ জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সভা করে মোরার সম্ভব্য জান-মালের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে। ওইসব জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী কর্মী। সেই সাথে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এরই মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে। ব্যবস্থা করা হচ্ছে শুকনো খাবারের। এমনটাই দাবি করেছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’। মঙ্গলবার সকালে এটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে শীর্ষ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শহীদুল হক।  সকাল নাগাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি

কক্সবাজার: ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে কক্সবাজারে সাগর উত্তাল ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

সোমবার বেলা ১১ থেকে ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ঘূণিঝড় মোকাবিলা প্রস্তুতি সভায় উপকূলের সভায়কে সন্ধ্যার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া লোকজনের জন্য ইফতারের ব্যবস্থাও করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেনের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারাসহ অন্যরা উপস্থিতি ছিলেন।

এদিকে কক্সবাজারের হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রামবন্দর ও চিকিৎসকদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

চট্টগ্রাম: দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রামবন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে চট্টগ্রামে কর্মরত চিকিৎসকদেরও ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সোমবার সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে বলে শীর্ষ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব ওমর ফারুক।

এদিকে, ঘুর্ণিঝড় মোকাবিলায় চট্টগ্রামবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

লক্ষ্মীপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা

বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় লক্ষ্মীপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

জেলা প্রশাসক হুমায়রা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সেই সাথে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে উপকূলীয় অঞ্চল সদর, রামগতি-কমলনগর ও রায়পুরে ইতোমধ্যে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে আনার কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী মজুদ করার পাশাপাশি রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

About ক্রাইমবার্তা ডটকম

Check Also

তেহরানে বিস্ফোরণের উৎস ও কারণ লুকিয়েছে ইরান!

ক্রাইমর্বাতা ডেস্করিপোট রিপোট :   গত ২৬ জুন ইরানের রাজধানী তেহরান প্রচণ্ড বিস্ফোরনের শব্দে আতঙ্কিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *