লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড#২০ কেজি গাজা সহ আটক এক মাদক সম্রাট #তরুণীকে গণধর্ষণ অতঃপর মুখ খুললেই হত্যার হুমকি#কমিটির দ্বন্ধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর থেকে : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী মোজাম্মেল হককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ সাইদুর রহমান গাজী আসামীর অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন। 3

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৫ আগষ্ট লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের কাজিরখিল গ্রামে আসামী মোজাম্মেল হক তার নিজ বাড়ীতে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে নাসিমার স্বজনরা তার স্বামী বাড়ীতে গিয়ে নাসিমার মৃত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল খেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানান, ২০০৭ সালের ঘটনার পরদিন ১৬ আগষ্ট নিহতের ভাই মোঃ মমিন উল্যা বাদী হয়ে আসামী মোজাম্মেল হককে প্রধান আসামী করে অপর ২ জনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশের তদন্ত শেষে অপর দুই আসামীকে অভিযোগ পত্র থেকে অব্যাহত দিয়ে ২০০৭ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
লক্ষ্মীপুর জজকোট এর এপিপি আবুল বাসার জানান,বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানীতে ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী মোজাম্মেল হককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়ে আদালত এ রায় দেন।দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মোজাম্মেল হক পলাতক রয়েছে।

 

 

 

আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর থেকে ; লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ২০ কেজি গাজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। বুধবার গভীর রাতে চররমোনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালান। এ সময় লিঠন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ২০ কেজির গাজার বস্তাসহ পুলিশের হাতে আটক হন। আটক লিঠন মিয়া ব্রামণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সফিকুল ইসলামের ছেলে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত লোকমান হোসেন জানায়, ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

তরুণীকে গণধর্ষণ অতঃপর মুখ খুললেই হত্যার হুমকি
আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর থেকে: লক্ষ্মীপুরের নরসিংহপুরে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করেছে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে। জানা গেছে, এ ঘটনা ধামাচাপায় হাকিমের ছেলে বখাটে হারুন, আবদুর রহিমের ছেলে রুবেলের হুমকি-ধমকিতে আতঙ্কে রয়েছে ভিকটিমের পরিবার। প্রাণ হারানোর ভয়ে গত চারদিনেও বাড়ি থেকে বের হতে পারছে বলে জানান ভিকটিমের বাবা সুলতান মিয়া।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পরদিন শনিবার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে ওই এলাকার দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে রুবেলকে পিটিয়ে আহত করে বখাটে হারুনসহ অন্যান্যরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর রোববার রাতে এ ঘটনায় জড়িত সিএনজি চালক শিপনের বসতঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। অথচ পুলিশের দাবী এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়নি কেউ। এতসব ঘটনার পরও ওইসব বখাটেরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর ফলে স্থানীয়রা চরমভাবে ক্ষিপ্ত।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার রাতে নরসিংহপুর গ্রামের স্কুলভ্যান চালক সুলতান মিয়ার যুবতী মেয়েকে তুলে নিয়ে স্থানীয় আলী তহসিলদারের পরিত্যক্ত বাড়িতে গণধর্ষণ করে স্থানীয় ৫/৬ জন বখাটে। এ সময় তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে নেয়। পরে সাবেক দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উল্যার ছেলে ফয়সাল টিপু ভিকটিম এবং ধর্ষকদের আটক করে। পরে ধর্ষকরা তার লোক হওয়ায় তাদের ছেড়ে দিয়ে লোক মারফতে ভিকটিমের পরিবারের নিকট চাঁদা দাবী করে টিপু। পরদিন শনিবার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে ওই এলাকার দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে রুবেলকে পিটিয়ে আহত করে হারুনসহ অন্যান্যরা। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এরপর রোববার গভীর রাতে সিএনজি চালক শিপনের বসতঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে বড় বাড়ীর আবদুর রহিমের ছেলে ধর্ষক রুবেলের মতে শিপনও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত রয়েছে।
ভিকটিমের বাবা সুলতান মিয়া জানান, হারুন এবং রুবেল প্রতি মূহুর্তেই ফোনে এবং বাড়ী গিয়ে হত্যার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনার পর ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন তিনি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত এমদাদ জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি কেউ। অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

রামগতিতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্ধ
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিবিরহাট রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্ধ,দুর্নীতির ও অনিয়মে বন্ধ হতে চলেছে বিদ্যালয়টি। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগসহ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। এদিকে প্রতিষ্ঠান থেকে ফায়দা লুটাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির বিরুদ্বে। এঘটনায় শঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষক ও কমিটির এক সদস্য জানান,এর আগে গত ১৩ জুন বিদ্যালয়ের সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল অনৈতিক কার্যকলাপ ও দুর্নীতির ও অনিয়মে অনাস্থা দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড কুমিল্লা বরাবর অভিযোগ করেন তারা।
জানাগেছে,রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬০ সালে রামগতির বিবির হাট এলাকায় ১.৮৪ একর জায়গায় স্থাপিত হয়। এর পর থেকে অধ্যবধিপর্যন্ত ১৪ জন শিক্ষকসহ অতিরিক্ত ৩ শিক্ষক,মোট ১৭ জন শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়টি সুনামের সহিত পরিচালিত হয়ে আসছে।বিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যায়নরত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১২ শ’ জন। চর এলাকার বিদ্যালয়টি হলেও কয়েক বার উপজেলায় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টিকে লেখা-পড়ার এক মাত্র বিদ্যাপিঠ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এদিকে এখন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের চরম দ্বন্ধ ও অনিয়মের সমাধা খুঁজছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়রা জানান, ববিরহাট রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ। তিনি স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুনের আস্থাভাজন হওয়ায় তার অনৈতিক কর্মকা-ে কেউ মুখ খুলছেন না এবং স্থানীয় সংসদ ও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
কয়েকজন শিক্ষক চাকরীরত কারণে নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান,বিদ্যালয়ের সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি তাদের চাপিয়ে দিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে চাচ্ছেন। শিক্ষকরা তা না করায় বিদ্যালয়ের সভাপতি তাদের বেতন ভাতা আটকে রাখার চেষ্টা,অশালীল কথাবার্তা অসৌন্য মূলক আচরণ ও মনগড়া কাজ করেন। এর আগেও তার বিরুদ্বে অনিয়ম উল্লেখ করে বিচার চাওয়া হলে তখন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন তদন্তে এসে তার কথাবার্তায় লাঞ্জিত হন।
বিবিরহাট রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তুহিনা আক্তার জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বিভিন্ন সময় আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন অনিয়ম, বিধিবহির্ভুত কাজ,শিক্ষক কর্মচারী বেতনে স্বাক্ষর করতে হয়রানি এবং ভয়ভিতিসহ হুমকী-ধুমকী দিয়ে আসছে। তার অবৈধ কর্মকান্ডে অসম্মতি জানালে তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছেন। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল জানান,বিদ্যালয় ভর্তি,শেসন ফি, বিভিন্ন পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় ও ক্লাসে শিক্ষকদের খোঁশগল্পের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্থগিত রাখার চেষ্টা করা হলে প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেন। এছাড়া একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন, তা সঠিক নয়।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অজিৎ দেব জানান, এবিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments
Please follow and like us: