বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিশু ও নারীসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছেন-এমপি রবি

সদরের দহাকুলায় বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাফল্য নিয়ে উঠান বৈঠকে এমপি রবি

শেখ কামরুল ইসলাম : বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাফল্য নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে সদরের ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে দহাকুলা এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাফল্য তুলে ধরে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে তখন ছিল বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, চরম খাদ্যাভাব। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং পরের দুই বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমননীতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল বিপর্যস্থ, বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে সবক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনছেন। মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে এসেছে। সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক তৃতীয় জাতিসংঘ বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন : ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ। বিশ্বের খুব কম দেশই একটানা এত দীর্ঘ সময় ধরে ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। অচিরেই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বিএনপি-জামাতের শেষ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। এখন বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্ন-আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোটকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের চরম জবাব দেয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের নিকট নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেন। তিন মাসের মধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসেন। বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব সফলভাবে মোকাবেলা করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। দারিদ্র দ্রুত হ্রাস করতে সমর্থ হন। জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করেন। সরকার বিগত পৌনে পাঁচ বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, শিক্ষার হার ও মান উন্নয়ন, শিশু ও নারীসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সড়ক, রেল, নৌ-যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির বিকাশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রূপকল্পে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন। সরকার বিগত পৌনে পাঁচ বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, শিক্ষার হার ও মান উন্নয়ন, শিশু ও নারীসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সড়ক, রেল, নৌ-যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির বিকাশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রূপকল্পে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন।’ এসময় সাধারণ মানুষ সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য তুলে ধরেন। এসময় বিভিন্ন এলাকার মানুষ বর্তমান সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার সুস্থ্যতা কামনা করেন ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর জ্যোৎন্সা আরা, নির্বাহী সদস্য জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি এড. আব্দুল লতিফ, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস.এম রেজাউল ইসলাম, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলেখা দাস, দপ্তর সম্পাদক তহমিনা ইসলাম, জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মীর আজহার আলী শাহিন প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগ নেতা শেখ শফি উদ্দিন সফি, ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউপি সদস্য মর্জিনা খাতুন লিলি, শেখ ইলিয়াছ হোসেন, রন শেখ কামরুজ্জামান, রিয়াজ ইখতেখার বনি ও মুস্তাসিমসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ।

 

Facebook Comments
Please follow and like us: