দৃষ্টি নন্দন মনোরম হলুদ সরিষায় ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরা

#সাতক্ষীরা মাঠ এখন দিগন্ত জোড়া হলুদ ফুলের সমারোহ
#সাতক্ষীরায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
#মাঠের পর মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের দৃষ্টি নন্দন মনোরম দৃশ্যে সাতক্ষীরা

আবু সাইদ বিশ্বাসঃক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:সাতক্ষীরাঃ চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর অধিক ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কৃষকেরা সরিষা চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি আবাদ হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় মাঠের পর মাঠ সরিষা চাষ করা হয়েছে। দিগন্ত জোড়া হলুদ ফুলের সমারোহ। মৌ মৌ গন্ধে এলাকা মাতোয়ারা। সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ক্ষেতের পাশে স্থাপনকৃত হাজার হাজার মৌ বাক্স। সরিষার ক্ষেত পরিচর্যায় চাষিরা এখন ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটাচ্ছেন।
রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠে সবুজের মাঝে চোখ ধাঁধানো হলুদ সরষে ফুল। মাঠের পর মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের দৃষ্টি নন্দন মনোরম এক দৃশ্য। সরষের ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছি সহ প্রকৃতি প্রেমীদের। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সরিষার ক্ষেত। মৌ চাষিরা মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় মৌ চাষীরা তাদের আস্তানা গেড়েছেন। আবহাওয়া ভাল থাকলে চলতি মওসুমে এই অঞ্চলে লাভজনক মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মৌচাষীরা জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র জানান, এবারের মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার ৯৫৫ টন। খরচ কম হওয়ায় জেলার কৃষকরা সরিষার আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তা ছাড়া সরিষা চাষ ৮০ দিনে উৎপাদন হয় বলে এর লাভও বেশি।
কিন্তু আবাদ হয়েছে প্রায় নয় হাজার হেক্টর জমিতে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে তিন হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলায় দুই হজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে, তালা উপজেলায় ৩৯০ হেক্টর জমিতে, দেবহাটা উপজেলায় এক হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে, আশাশুনি উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে ও শ্যামনগর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সরিষা চাষি কৃষক আমিনুর রহমান জানান, গত বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন। এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। গত বছর আবাদ করে তার খরচ হয়েছিল সাড়ে চার হাজার টাকা। এবার খরচ হয়েছে আট হাজার টাকা। যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হয় তা হলে সব খরচ বাদ দিয়ে তার ২৫ হাজার টাকা বেচাকেনা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষা চাষে চাষীরা লাববান হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোহসিন আলী জানান, সরিষার ক্ষেতের পাশে মৌ বাক্স স্থাপন করা হলে পরাগায়ন হয় অনেক বেশি। এতে করে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫-৩০ শতাংশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি আরও জানান, শুধু সরিষা নয়; এ থেকে উৎপাদিত হয় উৎকৃষ্ট মানের খাঁটি মধু। সরিষা চাষের ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিকে মৌ বাক্সের আওতায় আনা হয়েছে। এসব ক্ষেতের পাশে স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ টি মৌ বাক্স। আর এ থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার ২০০ মণ মধু উৎপাদন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সরিষার ন্যায্যমূল্য পেলে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী মৌসুমে জেলার সবক’টি উপজেলায় আরও বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ-ই শুধু হবে না; বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও থাকবে। এতে করে সরিষা চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে।

২৫ডিসেম্বর২০১৭,সোমবার::ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Facebook Comments
Please follow and like us: