নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালেই আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন:ফখরুল#‘কথায় কি আর জঠর-জ্বালা মেটে, কাজ দেখাতে হবে:কাদের

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:ঢাকা: গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নতুন বছরে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে ছাত্রদলের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠিাতা শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জাননোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

এসময় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সংকট নিরসনে সংলাপের কোন বিকল্প নাই।

আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নির্বাচনে আসবেন না: মির্জা ফখরুল
‘আগামী নির্বাচনে যাবো, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাবেন কিন্তু ওনারা (আওয়ামী লীগ) যাবেন না। কারণ নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, ওনারা নিরপেক্ষ নির্বাচনে আসবেন না।’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন তিনি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকেই নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। আমরা নির্বাচনে তো যাবই, দেশনেত্রীও থাকবেন। বরং আওয়ামী লীগই নির্বাচনে থাকবেন না। কারণ, তারা ভালো করেই জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরিণতি কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন তো দিতেই হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালেই আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘২০১৮ সাল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাল। ২০১৮ সাল বিএনপির সাল, ২০১৮ সাল তারেক রহমানের সাল, ২০১৮ সাল এই দেশের গণমানুষের সাল যারা লড়াই করে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে এনেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। তারা বেহায়ার মত বলছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কোনো সংবিধান? এমন সংসদে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, যেটা জনগণের সংসদ নয়। এখানে ১৪৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।’

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট একনায়ক সরকারকে সরাতে না পরলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংগঠন, আন্দোলন এবং নির্বাচনের জন্য এক সঙ্গে প্রস্ততি নিতে হবে। আন্দোলন করেই নির্বাচন আদায় করে ক্ষমতায় যেতে হবে।’

কৃষকদলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষকদলের সহ-সভাপতি এম এ তাহের, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আলিম হোসেন, অধ্যক্ষ সেলিম, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ এমএ মালেক, ছাত্রদলের এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ।———–0————-

ঢাকা: ‘জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে এমন কোনো অর্জন বিএনপির নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শঙ্কার প্রসঙ্গে কাদের বলেন, অতীত রেকর্ড বলে যত অমানিশাই থাকুক, শেষ পর্যন্ত তা কেটে যায়, থাকে না। বিএনপি এখন অমানিশা দেখছে, তাও কেটে যাবে, থাকবে না।

কাদের জানান, আওয়ামী লীগ চায় আগামী নির্বাচন বিএনপিকে নিয়েই সম্পন্ন হোক। যদিও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বারবার অভিযোগ করে চলেছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কখনই সম্ভব নয়। তাই দলটি একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি-দাওয়া পেশ করে মূলত বিএনপি কিছু একটা আদায় করতে চায়, অস্তিত্বের স্বার্থেই বিএনপি তাদের সর্বশক্তি নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বিএনপির ভয়-আতঙ্ক তত দ্রুত দূর হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কথায় কি আর জঠর-জ্বালা মেটে, কাজ দেখাতে হবে। আমাদের অনেক অর্জন আছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সততা আছে, উন্নয়ন করেছি, মানুষের অভাব দূর করেছি, কাজেই আমরা মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারব।’

আগামী ৫ জানুয়ারি বিএনপি সমাবেশ করতে চায়, বিএনপিকে সেই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা পুলিশের বিষয়, পুলিশ দেখবে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কে আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন—জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। সেই বোর্ড এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একজন ব্যবসায়ী নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন—এমন প্রচারের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও শুনেছি ও পত্রিকায় দেখেছি, একজন ব্যবসায়ী নেতা প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দলের সভাপতি, তিনি কাউকে অনানুষ্ঠানিকভাবে গ্রিন সিগন্যাল দিলেও দিতে পারেন।’

ভারতের আসামের রাজ্য সরকারের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার বিষয়ে সরকারের নজর আছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দুই তালিকা প্রকাশের পর যদি কোনও সমস্যা হয়, তাহলে আমরা দিল্লির সঙ্গে কথা বলবো।’

১জানুয়ারী,২০১৮সোমবার:ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Facebook Comments
Please follow and like us: