ইউসুফ কারজাভির মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত করতে মুফতির মতামত চেয়েছে আদালত

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:    কায়রো: মিশরের একটি সামরিক আদালত বিশ্ববিখ্যাত ইসলামিক স্কলার আল্লামা ইউসুফ আল কারজাভিসহ ৮ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত করতে মিশরের প্রদান মুফতির মতামত চেয়েছে।

তাদেরকে ২০১৫ সালে কায়রোয় একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। কায়রোর মাতারিয়া পুলিশ স্টেশনের প্রধান ওয়েল তাহাউনকে ২০১৫ সালে প্রতিবাদকারীরা পিটিয়ে হত্যা করে।

দেশের সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান হিসেবে প্রধান মুফতির নিকট মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত করার পূর্বে মতামত নেয়ার প্রথা রয়েছে মিশরে। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।

এ মামলার ৫২ জন আসামীর মধ্যে ৮জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন, ইন্টান্যাশনাল ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলারস ও মুসলিম ব্রাদারহুটের সিনিয়র সদস্য আল্লামা ইউসুফ আর কারজাভিও রয়েছেন।

আগামী ১৭ জানুয়ারি সামরিক আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদানের তারিখ ঘোষণা করেছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

মিশরে একসঙ্গে ১৫ জনের ফাঁসি
মিশরে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসির হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার পরই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আবারো একসঙ্গে ১৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করলো দেশটির সরকার। দুটি কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরআগে ২০১৬ সালে একসঙ্গে ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছিল সিসির নেতৃত্বাধীন সরকার।

অশান্ত সিনাই উপদ্বীপে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগ এনে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৩ সালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ওই হামলায় ৯ সেনা সদস্য নিহত হন। নিহতদের একজন ঊর্ধতন সেনা কর্মকর্তা ছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সেনা আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়ার পর সিনাইয়ের ওই বিদ্রোহীদের দু’টি জেলে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। সেখানেই মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরা করা হয়েছে।

জানা যায়, আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বুর্জ আল-আরব জেলে ১১ জনের ফাঁসি হয়। বাকি ৪ জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে কায়রোর ১২০ কি.মি. পশ্চিমে ওয়াদি আল-নাটরুন কারাগারে। ২০১৫ সালের জুনে সেনা আদালত ওই ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয় সামরিক আদালত। গত ১৩ নভেন্বর সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখে। এরপরই তাদের ফাঁসি কার্যকরের তোড়জোর শুরু হয়।

দণ্ডিতদের সবাই জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এন্ড লেবানন) এর সদস্য বলে জানা গেছে। তবে আইএস থেকে তাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। গত সপ্তাহে উত্তর সিনাইয়ের বিমানবন্দরে মিশরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল হামলা চালায় ইসলামিক স্টেটের বিদ্রোহীরা। তবে এতে দুইমন্ত্রীর কোনো ক্ষতি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত মাসে সিনাই প্রদেশে এক মসজিদে জঙ্গি হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি সাধারণ মুসল্লী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিকেরও বেশি মানুষ। ওই হামলায় সরকার আইএসকে দায়ি করে আসছে। তবে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার পর থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ব্রাদারহুড সমর্থকদের গণহারে ফাঁসি কার্যকর করছে প্রেসিডেন্ট সিসির সরকার।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ওই বছর একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

এর পরের বছর একজনেরও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। তবে ২০১৩ সালের পর থেকে দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে। ২০১৪ সালে ১৪ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে দেশটির সরকার। এরপরের বছর ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৬ কমপক্ষে ৪৪ জন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সিসির নেতৃত্বাধীন সরকার।

জানা যায়, মৃত্যুদন্ডের বেশিরভাগ রায়ই এসেছে সিসির নেতৃত্বাধীন সামরিক আদালত থেকে।০৩জানুয়ারী,২০১৮বুধবার::ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Facebook Comments
Please follow and like us: