খালেদা জিয়া চাইলে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন: সিইসি

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চাইলে ঢাকা সিটি উত্তরের উপনির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা।
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে উত্তর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনএসসি) উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৮ জানুয়ারি, যাচাই বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচনের মিডিয়া সেন্টারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এ তফসিল ঘোষণা করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন এবং নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টিওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিইসি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি, যাচাই বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি, প্রত্যাহার ২৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি।

গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আলাদাভাবে ঢাকার দুই সিটিতে তিনটি তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন ১৮টি করে সাধারণ ওয়ার্ড এবং ছয়টি করে সংরক্ষিত ওয়ার্ড যুক্ত হয়। এগুলোতে এখনো কোনো নির্বাচন হয়নি। ২৬ ফেব্রুয়ারি এসব ওয়ার্ডেও নির্বাচন হবে।

নতুন ভোটে নির্বাচিত হওয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদ নিয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান পরিষদের মেয়াদ যত দিন বাকি আছে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচিতদের মেয়াদ হবে তত দিনই থাকবে। মেয়াদ নির্ধারণ করা নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিএনসিসিতে সাধারণ ওয়ার্ড ( আগের ৩৬+ সংযুক্ত নতুন ১৮) ৫৪টি; সংরক্ষিত ওয়ার্ড (আগের ১২+ নতুন ৬) ১৮টি; ভোটকেন্দ্র ( আগের ১০৯৩+ নতুন ২৫৬) ১৩৪৯টি (সম্ভাব্য); ভোটকক্ষ ৭৫১৬টি (সম্ভাব্য); অস্থায়ী ভোটকক্ষ (আগের ২৭৭+ নতুন ৬৮) ৩৪৫টি (সম্ভাব্য)।

এ ছাড়া ডিএনসিসিতে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ২২ হাজার ৭২৬ জন এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৪ জন। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই সিটিতে মোট ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ১২ লাখ ২৪ হাজার ৭০১ জন এবং নারী ভোটার ছিল ১১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ জন।

ডিএসসিসির (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৩৩টি; ভোটকক্ষ ১২৪০টি, অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫৬টি। এসব ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ০৯৪ জন।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। আড়াই বছরের মাথায় ৩০ নভেম্বর মারা যান উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে তার পর শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী মেয়র বা কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের আগে যদি কোনো পদ শূন্য হয়, তবে ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন হবে। এই হিসেবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেখানে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে।

০৯জানুয়ারী,২০১৮মঙ্গলবার:::ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Facebook Comments
Please follow and like us: