‘জাতির পিতার কাছে ওয়াদা, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়বো’#খালেদা জিয়ার ২ পুত্রের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:    ঢাকা: প্যারাডাইস পেপারসে প্রকাশিত খালেদা জিয়ার দুই পুত্রের দুর্নীতির চিত্র ও বিভিন্ন দেশে পাচার করা অর্থের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী। নতুন করে বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় সাড়ে আটশ কোটি টাকা পাচারের নতুন তথ্য দেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণের সম্পদ আর লুটপাট ও পাচার করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপকর্ম তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের পয়সা জনগণকে ফেরত দেওয়ার যেসব আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে তার ব্যবস্থা হবে।

দেশীয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকারের সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ কাটিং তুলে ধরেন। এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে ২৫৬ পৃষ্ঠার প্রশ্নের উত্তরে ১৫৩ পৃষ্ঠাতেই স্থান পেয়েছে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থের বিবরণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে ২০১২ সালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুরি ডলার সে দেশ থেকে ফেরত আনা হয়েছে। তারেক রহমান দেশের বাইরে প্রচুর অর্থ পাচার করেছেন। তারেক এবং তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন যৌথভাবে একটি বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ২১ কোটি টাকার মতো সিঙ্গাপুরে সিটিএনএ ব্যাংকে পাচার করেছেন। এ ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকার এফবি আইও তদন্ত করেছে। এর সূত্র ধরে এফবি আই এর ফিল্ড এজেন্ট ডেব্রা ল্যাপ্রিভোট ২০১২ সালে ঢাকায় বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। এ মামলায় হাইকোর্টে তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা হয়। একইভাবে লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকেও প্রায় ৬ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও বিশ্বের আরও অনেক দেশে খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকার সন্ধ্যান পাওয়া গেছে যা এখনো তদন্তাধীন। এর মধ্যে অন্যতম হলো: বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি, সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তি। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ কাটিং তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকায় খালেদা জিয়া তিন নম্বর হিসেবে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। খালেদা জিয়া প্রকাশিত এ সকল সংবাদের কোনো প্রতিবাদ জানাননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারাডাইস পেপারসে নতুন করে প্রকাশিত নামের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের নাম। প্রকাশিত এ নথিতে তালিকায় শীর্ষেই আছে খালেদা পুত্রদের নাম। এছাড়া নতুন প্রকাশিত ২৫ হাজার নথিতে বের হয়ে আসছে আরও রাঘব বোয়ালদের নাম ও তাদের অর্থ পাচারের নানান তথ্য।

প্যারাডাইস পেপারসে দেখা যায়, তারেক জিয়া ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে কেইম্যান আইসল্যান্ড এবং বারমুডায় ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন। এছাড়াও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ওয়ান গ্রুপের তিনটি কোম্পানি খোলা হয় ট্যাক্স হেভেনে। তারেক জিয়ার প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো বারমুডার বিভিন্ন কোম্পানিতে ২০০৫ সালে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। কোকোর মৃত্যুর পর এই বিনিয়োগ তার স্ত্রী শর্মিলা রহমানের নামে স্থানান্তরিত হয়। অবৈধভাবে ট্যাক্স হেভেনে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে খালেদা জিয়ার দু’ছেলে ছাড়াও আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফরুল্লাহরও নাম এসেছে।

———–0————-

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জাতির পিতার কাছে ওয়াদা দিলাম ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়বো। বাংলাদেশের জনগণকে উন্নয়নের ধারা তরান্বিত করারও আহ্বান জানাচ্ছি।

বুধবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে যুদ্ধপরাধীদের পুনর্বাসনেরই নামান্তর। আর এই জন্য বাংলাদেশ এগুতে পারে নি। বাংলাদেশ যখন উন্নতির মুখ দেখতেছিল তখনই অন্ধকার নেমে আসে। ৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। আর অন্যদিকে বলা হয় বহু দলীয় গণতন্ত্র করা হয়েছে। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কারা হচ্ছিল। কিন্তু একসময় আইন করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো। বাঙালি জাতিকে অন্ধকারে রাখা হলো। অর্ডিনেন্স জারি করে যাদের বিচার বাতিল করা হয়েছিল সেই অর্ডিনেন্স বাতিল করে তাদের আবার বিচার শুরু করি আমরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদাররা যেমন মানুষদের পুড়িয়ে মেরেছে ঠিক একইভাবে বিএনপি মানুষদের পুড়িয়ে মেরেছে। এরা জনগণের কল্যাণ করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশে ২৮ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কেনো উন্নতি করতে পারে নাই। কল্যাণ করতে পারে নাই। কারণ তারা তা করতে চায় নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ এলেই দেশের উন্নতি হয়। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংষ্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

তার ওই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশ বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন ১২ জানুয়ারি। শুক্রবার চার বছর পূর্ণ করছে এই সরকার।  ০৯জানুয়ারী,২০১৮মঙ্গলবার:::ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Facebook Comments
Please follow and like us: