ফেনী-২ আসনের সরকার দলীয় নেতা নিজাম হাজারীর সংসদ হাইকোর্টসদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের রিটের শুনানিতে বিব্রত

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:ঢাকা: ফেনী-২ আসনের সরকার দলীয় নেতা নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের রিটের শুনানিতে বিব্রত হয়েছে হাইকোর্ট। রুল নিষ্পত্তির জন্য গঠিত হাইকোর্টের একক বেঞ্চ শুনানিতে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ বিব্রত হয়।রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ০৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছেন।

সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

২০১৬ সালের ০৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। অর্থাৎ তার রায়ে নিজাম হাজারীর এমপি পদ বৈধ। এরপর আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি একক বেঞ্চের কাছে পাঠান। পরবর্তীতে কয়েকটি একক বেঞ্চ ঘুরে মামলাটি বিচারপতি ফরিদ আহমেদের কাছে পাঠানো হয়।

নিজাম হাজারীর এমপি পদ নিয়ে হাইকোর্টের বিভক্ত রায়
(০৬ ডিসেম্বর,২০১৬) ফেনী-২ আসনের সরকার দলীয় এমপি নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকা নিয়ে বিভক্ত রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারক মো: এমদাদুল হক ও এফ আর এম নাজমুল আহসান এ রায় দেন।

এক বিচারপতি রায় দেন তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। তবে অন্য বিচারপতি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

তিনি নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার পক্ষে মত দেন।

২০১৪ সালের ৮ জুন নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ এ রায় দেয়া হলো।

উল্লেখ্য, ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছেন।

প্রথমত, অস্ত্র মামলায় নিজাম হাজারীর কারাদণ্ডের যে সাজা হয়েছিল, তাতে তিনি কোনো রেয়াত পেয়েছিলেন কি না। দ্বিতীয়ত, সাজা রেয়াত করা হয়ে থাকলে ঠিক কতদিনের জন্য তা করা হয়েছিল। তৃতীয়ত, সাজা ভোগ ও রেয়াত করা সাজার একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। সে সঙ্গে সাজা রেয়াতের সিদ্ধান্ত-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।১৫জানুয়ারী,২০১৮সোমবার::ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Facebook Comments
Please follow and like us: