কুরআন-সুন্নার জ্ঞান অর্জন করে মুসলমানদের বিশ্বব্যাপী ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে

কক্সবাজার ব্যুরো : কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে শানে রেসালত সম্মেলনে মসজিদে আকসার খতীব ড. শাইখ ওমর ইয়াকুব আব্বাসী বলেন, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য। রাত দিনের বিবর্তনে রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য অনেক নিদর্শন। তিনি বলেন, আল্লাহর এমন মখলুকাতও আছে যারা হাজার হাজার বছর ধরে তাসবিহ আর সিজদা করার পরেও বলে আল্লাহ আমরাতো কিছুই করতে পারলাম না। দু’দিন ব্যাপী শানে রেসালত সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলন। তিনি আরো বলেন, মুলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদে আকসা একদিন ইযাহুদি মুক্ত হবে।
তিনি বলেন, আমরা নামাজ রোজা হজ ইত্যাদি ইবাদত করার পর গোনাহর কাজও করে থাকি। কিন্তু নবী-রসুলরা মাসুম হওয়ার পরেও বেশী বেশী আল্লাহর ইবাদত করতেন এবং এস্তেগফার করতেন। আমাদের ও বেশী বেশী ইবাদত এবং এস্তেগফার করা দরকার। তিনি বলেন মা-বাবার সেবা করে তাদের দোয়া নিতে হবে। আল্লাহর রহমত পেতে হবে।
মসজিদে আকসার খতীব বলেন, মুসলমানদের কুরআন সুন্নার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। নবীজী মক্কা ও মদিনাতে ২৩ বছর ইসলামের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি আলেম ওলামাদের নিকট থেকে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার পরার্মশ দেন উপস্থিত সবাইকে।
মুসলমানদের দ্বীনের প্রচার করতে হব। সাহাবায়ে কেরামদের মত দ্বীনের তাবলীগ করতে হবে। রসুলের সাহাবাগণ দ্বীনের দাওয়াত না পৌঁছালে বাংলাদেশও ইসলাম আসত না। তিনি বিশ্বব্যাপী দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য মুসলিম স্কলারদের প্রতি আহবান জানান। তিনি মসজিদে আকসা যেন মুসলমানদের হাতে থাকে সেজন্য সবাইকে দোয়া করতে বলেন। তিনি বক্তব্য শেষে বাংলাদেশ ও বিশ্ব মুসলমানদের কল্যাণে মোনাজাত করেন। সম্মলনের শেষ দিনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবুল হাসান।
সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ইসলামের স্বর্ণযোগে মানুষ শুধু নয় পশু পাখিরাও এক সাথে শান্তিতে বসবাস করত। ইসলামের ইতিহাস, শান্তির ইতিহাস, মানবতার ইতিহাস। ইসলামের ইতিহাস জিহাদের ইতিহাস।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে উৎখাত করতে চায় তারাই নির্মূল হবে একদিন। এর জন্য আল্লাহর বেশী কিছু লাগবেনা। নমরুদকে একটি মশা দিয়ে আর জালেম ফেরআউনকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামে শিক্ষা নীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজ নীতি, যুদ্ধনীতি সবই আছে। তিনি বলেন, ইসলাম, সন্ত্রাস নয় শান্তি ও মানবতার ধর্ম। এই শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার জন্যই জিহাদ। তাই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী শাসন ব্যবস্থা, কুরআনের শাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
তিনি বলেন, সংখ্যগরিষ্ট মুসলমানের দেশে সেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না। আরাকানের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মুসলমানদের ভাই-বোন আখ্যায়িত করে বাবুনগরী বলেন, আরাকানে তাদের নাগরিকত্ব, স্বাধীনতাসহ মানবিক সব অধিকার দিয়ে জাতিসংঘের অধীনে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে।
হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন , বর্তমান তালাক আইন ইসলাম সম্মত নয়। পাঠ্য পুস্তকে ইসলাম বিরোধী পাঠ্যসুচী বাতিল করতে হবে। আল্লাহ, রাসুল (সঃ) ও কুরআন এর অবমাননাকারীদের ব্যপারে সংসদে আইন পাশ করে মৃত্যুদÐ দেয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, হেফাজতের সাথে ক্ষমতার কোন সম্পর্ক নেই। হেফাজত দেশব্যাপী মুসলমানদের ঈমান তাজা করার কাজ করছে। কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের খ্রীস্টান বানাচ্ছে বলে অভিযোগ করে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে শানে রেসালত সম্মেলনে শেষ দিনে বক্তারা বলেন, নাস্তিক মুরতাদরা এখনো ইসলাম, মুসলমান নবী-রসুলদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বক্তারা এদের শাস্তির জন্য সংসদে মৃত্যুদÐ আইন পাশ করার দাবি জানান।
এসব এনজিওদের কর্মকান্ড বন্ধ করে দিতে হবে। শানে রেসালত সম্মেলনে নবী-রসুলদের নবুওয়াত রেসালত আলোচনা করা হয়। আলোচনা হয় মিলাদ ও সিরাতের। সম্মলনে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মুজিবুর রহমান যুক্তিবাদী, মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, গাজী ইয়াকুব ওসমানী, মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক, মাওলানা সরওয়ার কামাল, মুখতার হোসাইন ও মাওলানা ইয়াসিন হাবীব প্রমূখ।

Facebook Comments
Please follow and like us: