দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত অাল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করতে হবেঃ সাতক্ষীরা ইজতেমা মাঠে প্রধান মুরব্বি

অাবু সাইদ বিশ্বাস,ইজতেমা মাঠ থেকেঃসাতক্ষীরায় আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমার দ্বিতীয় দিন চলছে। অাজ সন্ধায় বাদ মাগরীবের নামাজে লক্ষাধীক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এতে অংশ নেন।

অাজ সন্ধায় তাবলিগ জামাতের বড় মুরব্বি ঢাকা থেকে অাগত মাওলানা জুবায়ের বয়ান করেন।
তিনি বলেন,অামি অাখেরাতের জন্যে দুনিয়াতে এসেছি। দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত অাল্লাহর ইবাদাতের জন্যে অামাদের পাঠানো হয়েছে।

শনিবার বাদ আছর সাতক্ষীরা শহরতলীর মার্কাজ মাঠে লক্ষাধিক মুসুল্লীর অংশগ্রহণে এ ইজতেমা শুরু হয়। ইজতেমায় বয়ান করেন কাকরাইল মসজিদের মুরুব্বী মাওলানা আব্দুর রহিম।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঈশরীপুর থেকে অাসা হাফিজুর রহমান বলেন,দুনিয়াতে শান্তি ও অাখিরাতে জান্নাত পাওয়ার অাশায় তাবলীগ জামায়াতের এ ইজতেমায় অাসা। তালার খলিষখালী ইউনিয়নের পাকশিয়া গ্রামের অাকরিম
বলেন, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য ইজতেমায় এসেছি। তাবলীগ জামাতের সাতক্ষীরার প্রধান মুরুব্বী মাওলানা আবু মুছা জানান, ইজতেমায় কোরিয়া, চিন, সিরিয়া, মরোক্কা, মালয়েশিয়াসহ পাঁচটি দেশের জামাতসহ লক্ষাধিক মুসুল্লী সমাগম হয়েছে। ইজতেমায় আগতদের থাকার জন্য ৫০ বিঘা জমির উপর প্যান্ডেল করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। সাতক্ষীরা সদর সার্কেরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার জানান, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী সোমবার সকালে আখেরী মোনাজাতে ইজতেমায় সাতক্ষীরা জেলার সাত উপজেলার তাবলিগের সাথী ছাড়াও চীন, কেনিয়া, মরক্কো, রাশিয়া, মালয়েশিয়ার পাঁচটি জামাতের শতাধিকসহ প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি এখানে সমবেত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইজতেমার মুরব্বিরা।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে এই ইজতেমা শেষ হবে।
সদর উপজেলার আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য এই ইজতেমায় এসেছি। তিন দিন মাঠে থাকবো এবং ইজতেমায় আসা বিভিন্ন মুরব্বিদের বয়ান শুনে আমল করা চেষ্টা করবো।’

ইজতেমায় আসা তালা উপজেলার শফিকুল ইসলাম রানা, কালিগঞ্জ উপজেলার মোকাম্মেল হক, শ্যামনগর উপজেলার আল- আমিন সরদার, সদর উপজেলার আমিরুজ্জামান বাবুসহ বেশ কয়েজন মুসুল্লি বলেন, ‘ইজতেমার তিন দিন মাঠে থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আমল  করার চেষ্টা করবো।’
সাতক্ষীরা জেলা তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা আবু মুছা বলেন, ‘সারাদুনিয়ার মুসলমানরা যাতে দ্বীন মোতাবেক জীবন যাপন করেন, সেই শিক্ষার জন্য এই ইজতেমা। এখান থেকে মুসল্লিরা শিক্ষা গ্রহণ করে জানমাল নিয়ে চারমাস বা ৪০ দিন আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে আল্লাহ ও আখিরাতের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেন। মানবজাতির কল্যাণে প্রাণকে নিবেদিত করেন। সে লক্ষ্যেই আমাদের ইজতেমার আয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ওজুর জন্য ২০টি টিউবওয়েল, ৪৩০ ল্যাট্রিন, ১২০টি প্রশ্রাবখানা, সাতটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।’

Facebook Comments
Please follow and like us: