অভয়নগরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

বি.এইচ.মাহিনী :
যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। যশোরের অভয়নগরের বোরো ক্ষেতগুলো যেন এখন সবুজের বিছানা। এ যেন সবুজের সমারোহ, সবুজের সমুদ্র। আসলে কৃষকের বোরো আবাদে মাঠ এখন সবুজ বর্ণে হাসছে। ধানের চারাগুলো শক্ত হয়ে বেড়ে উঠছে। আর সেই সঙ্গে সোনালি স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। উপজেলার বোরো খেতগুলোর সবুজের সমারোহ দেখলে “ধনে ধানে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা” কথাটির স্বার্থকতা খুজে পাওয়া যায়। মৃদু বাতাসের দোলায় কৃষকের ক্লান্তিকে মিলিয়ে দিতে খেতগুলো যেন সদা তৎপর। অভয়নগর উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নওয়াপাড়ার বোরো আবাদ হয়েছে হাইব্রিড ৬,১০০ হেক্টর এবং উফসী ৮,২২০ হেক্টর মিলে মোট ১৪,৩২০ হেক্টর জমিতে। গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৩,৭০০ হেক্টর জমিতে। গতবারের তুলনায় এবার বেশি আবাদ হয়েছে ৬২০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে আর জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নে বোরো আবাদ হয়েছে ১৪৫০হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৩০৫হেক্টর জমিতে। সুন্দলী ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১৩৩৫হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১১৯০হেক্টর জমিতে। চলিশিয়া ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১৪৩৫হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৪২০হেক্টর জমিতে। পায়রা ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১৫৭৫হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৫০০ হেক্টর জমিতে। শ্রীধরপুর ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১৯০০হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৮৬০হেক্টর জমিতে। বাঘুটিয়া ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১৩৩৫হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১২১০ হেক্টর জমিতে। শুভরাড়া ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ২০৩৫হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ২০১৫ হেক্টর জমিতে। সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১৭৩৫হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৭০০হেক্টর জমিতে। নওয়াপাড়া পৌরসভায় আবাদ হয়েছে ১৫২০হেক্টর জমিতে, গতবছর আবাদ হয়েছিল ১৫০০হেক্টর জমিতে।
উপজেলায় যেসব জাতের ধানের আবাদ হয়েছে তা হল- হাইব্রিড জাতের মধ্যে- এসএল-৮এইচ হিরা, রাজকুমার, সেরা, ইস্পাহানী, দূর্বার, কৃষিবীজ, মহারাজ, সাফী, রূপালী, আড়োলন, ব্র্যাক, এসিআই, আগমণী, ময়না, টিয়া ইত্যাদি।
শুধু কৃষি কর্মকর্তারাই নয় মাঠের ফসল আসে যাদের হাত ধরে সেই কৃষকরাও স্বপ্ন দেখছেন বোরোতে সোনালি ফলনের। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সত্যি সত্যিই ধান গাছের বুকচিরে বেরিয়ে আসতে চাইছে কৃষকের স্বপ্ন, ইছামতি গ্রামের কৃষক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, আব্দুস সালাম লেবুগাতী গ্রামের আদর্শ চাষি জামিরুল ইসলাম ও রনজিত ম-ল নিজেদের জমির দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলেন, চেষ্টা করেছি শ্রমও দিয়েছি।‘আমরা আরও দুইমাস আগে এই চারা লাগিয়েছি এখন পরিচর্যা করছি। নিয়মিত দেখাশোনা না করলে আগাছা ও পোকায় ধরে ফেলে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারাও আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমানে কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। ধান ঘরে তুলে নেয়ার আগ পর্যন্ত যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে প্রত্যাশা করছি।

বোরো চাষে আবাদি জমির পরিমান বেড়ে যাওয়া এবং বোরোর ফলন সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম ছামদানী জানান, ভবদহ অঞ্চলে দ্রুত পানি সরে যাওয়া ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়া এবং অন্যান্য যেসব যায়গায় মুসুরি ও সরিষা আবাদ হয়নি সেসব এলাকা বোরো চাষের আওতায় আসায় বোরো চাষে আবাদি জমির পরিমান বেড়েছে। বোরো উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মানসম্মত বীজ ও সার কৃষকের দৌরগোড়ায় পৌঁছানো হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা বোরো উৎপাদনের পুরো সময়টা কৃষকের পাশে মাঠে থাকবে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীটনাশক, রাসায়নিক সার প্রয়োগ ও পোকা-মাকড় দমনের জন্য আলোর ফাঁদ, আইপিএম ও ইঁদুর নিধনের জন্য ফাঁদসহ ব্যবহার সহ আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছেন। এর ফলে কৃষকরা সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক তাদের ফসলি জমিতে প্রয়োগ করতে পারছেন। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া অনুকলে থাকলে এইবছর বাম্পার ফলন হবে।

Facebook Comments
Please follow and like us: