চাহিদার তুলনায় সাতক্ষীরাতে আলুর উৎপাদন খুব কম: ঘাটতি পড়বে ২লক্ষ ৮৯ হাজার ১৪৭ মেঃটন

আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরাঃ চালের দাম বেশি হওয়াতে জেলাতে আলুর চাহিদা বেড়েছে। সারা বছরই আলুর দাম কম থাকায় নিন্ম আয়ের মানুষেরা আলুর ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। জেলাতে চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন একেবারেই কম। তাই সারা বছরই বাইরে থেকে এ জেলাতে আলু সরবরাহ করতে হয়। ২০ লক্ষ মানুষের বসবাসরত জেলাটিতে আলুর কত চাহিদা রয়েছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নাই। এরই মধ্যে প্রতি দিন উত্তর অঞ্চল থে

 

কে আসা ১৪ থেকে ১৫ ট্রাক আলু পাইকারী বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে।
ডাক্তারি হিসাব মতে একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক আলুর চাহিদা ২শ গ্রাম ধরা হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন সাতক্ষীরা জেলাতে আলুর চাহিদা ৪শ মেঃটন। এক মাসে ১২হাজার মেঃটন হলে বছরে তা দাড়ায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মেঃটন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় জেলাতে চলতি বছরে আলুর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৮৫৩ মেঃটন। সেই হিসেবে এবছর এ জেলাতে আলুর ঘাটতি থাকবে ২লক্ষ ৮৯ হাজার ১৪৭ মেঃটন। ঘাটতি আলুর চাহিদা মেটাতে আলু আমদানি করতে হবে।
জেলা ব্যাপি চলছে আলু উঠানোর মৌসুম। যে কারণে বাজারে আলুর দাম অনেক কম। এরই মধ্যে প্রতিদিন সাতক্ষীরা সুলতান পুর বড়বাজারে উত্তর অঞ্চল থেকে প্রচুর আলু আসছে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ট্রাক করে আলু আসছে এ বাজারে। যার সবটাই সদরের খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বড়বাজারের কয়েকজন পাইকারী আলু ব্যবসায়ির সাথে কথা হয়। তারা জানান, উত্তর অঞ্চলে এবছর প্রচুর আলু উৎপাদন হয়েছে। জয়পুরহাট,বগুড়া ও রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ৩থেকে ৪ টাকা করে আলু আসছে সাতক্ষীরা বড়বাজারে। প্রতিট্রাকে আলু আসে ২০মেঃটন। এক হাজার কেজিতে মেঃটন টন ধরা হয়। প্রতি দিন গড়ে ৩ ট্রাক ধরা হলে সদরে আলু আসে দৈনিক ৬০মেঃটন। এসকে ভান্ডার,বিসমিল্লাহ ভান্ডার,শামিম ইন্টারপ্রাইজ ও গাজি ভান্ডার উত্তর অঞ্চল থেকে আলু এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। পাইকারী ব্যবসায়ীদের হিসাব মতে প্রতিদিন কমপক্ষে,সদরে ৬০ মেঃটন,কলারোয়াতে ৪৫ মেঃটন,তালাতে ৪৫মেঃটন,দেবহাটাতে ৩৫ মেঃটন,আশাশুনিতে ৩৫মেঃটন, কালিগঞ্জে ৫০ মেঃটন এবং শ্যামনগরে ৫০ মেঃটন আলু বাইরে থেকে আসে। সেই হিসেবে প্রতিদিন সাতক্ষীরাতে আলু আসে ৩২০ মেঃটন। মাসে তা দাড়ায় ৯৬ হাজার মেঃটনে। বছরে তা দাড়ায় এক লক্ষ ১৫ হাজার ২শ মেঃটন।
জেলাতে আলুর মোট চাহিদা ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মেঃটন। অন্যদিকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে,৭০ হাজার ৮৫৩ মেঃটন। ফলে ঘাটতি থাকবে ২লক্ষ ৮৯ হাজার ১৪৭ মেঃটন। ঘাটতির সটাই আলু আমদানি করতে হবে। তবে বর্তমানে যে হারে আলু আসছে তাতে এক লক্ষ ১৫ হাজার ২শ মেঃটন ঘাটতির চাহিদা মেটাবে। ব্যসায়ীরা জানান, এর পর আলুর চাহিদা বৃদ্ধি পেলে আমদানি বাড়াতে হবে।
জলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে সদরে আলুর আবাদ হয়েছে হয়েছে ৭১০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার১৭ মেঃটন। কলারোয়াতে আবাদ হয়েছে ১৬০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩হাজার ৩৮৪ মেঃটন। তালাতে আবাদ হয়েছে এক হাজার ২০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৫৭৩ মেঃটন। দেবহাটাতে আবাদ হয়েছে ২৮০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৫হাজার ৯২২ মেঃটন। কালিগঞ্জে আবাদ হয়েছে ৭শ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৮০৫ মেঃটন। আশাশুনিতে আবাদ হয়েছে একশ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২হাজার ১১৫ মেঃটন। শ্যামনগরে আবাদ হয়েছে ৩৮০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৩৭ মেঃটন। তবে বে-সরকারী হিসাব মতে আবাদ হয়েছে এর চেয়ে অনেক কম।
তালার খলিষখালীর মঙ্গলানন্দকাটী গ্রামের মোহাম্ম বিশ্বাস জানান, এক সময় ২ থেকে ৩ বিঘা জামিতে আলুর চাষ করতাম। বর্তমানে আলুর উৎপাদন খরচ বেশি হওয়াতে এখন আর আলুর চাষ করিনা। বাগমারা গ্রামের আব্দুল আহাদ জানান,আগে কয়েক বিঘা জমিতে আলুর চাষ করতাম এখন কয়েক কাঠা জমিতে আওয়ার জন্য আলুর চাষ করি। অনেক কৃষক জানান, ইতিপূর্বে বাণিজ্যিক ভাবে আলুর চাষ করা হত কিন্তু এখন শুধু মাত্র বাড়িতে ব্যবহারের জন্য আলুর চাষ করা হয়। খলিষখালী,মাগুরা,তালা,ইসলামকাটি,কুমিরা,সরুলিয়া,নগরঘাটা,ধানদিয়া অঞ্চলে কয়েক জন আলু চাষীর সাথে কথা হয়। তারা জানান,আগে এসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে আলুর চাষ হত। বর্তমানে হয় না। একই অবস্থা জেলার সর্বত্রয়।
সাতক্ষীরা খামার বাড়ির কৃষি উপপরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরার মাটি আলু চাষের জন্য খুব সহায়ক। আমরা আলু চাষীদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করি। আশা করি আগামিতে এ জেলাতে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

Facebook Comments
Please follow and like us: