কোটা সংস্কারের মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিও যৌক্তিক —ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার: কোটা সংস্কারের দাবির মতো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিও যৌক্তিক জানিয়ে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ এই দাবিতে রাস্তায় নামার অপেক্ষায় রয়েছে। নির্দেশ পেলে জনগণ রাস্তায় নামবে এবং তাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে। সে দিন আওয়ামী লীগ পালানোর সুযোগ পাবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নাগরিক কণ্ঠ’ আয়োজিত খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও গণতন্ত্র উত্তরণের সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক এই সভায় মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সাংবাদিক রমিজ খানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে)সভাপতি রুহুল আমিন গাজী  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ প্র্র্রমুখ।

তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের আন্দোলনের এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই। যদি যৌক্তিক আন্দোলন হয় সেটি সফল হবেই। আমরা কিসের জন্য আন্দোলন করছি? জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য। বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের স্বার্থ এখানে জড়িত।

কোটা পদ্ধতিতে যেমন ভবিষ্যৎ ছাত্রদের স্বার্থ জড়িত, তাই সবাই নেমেছে। আমাদের যে দাবি, গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন-এগুলোর সাথে সরাসরিভাবে জনগণ সম্পৃক্ত। জনগণ কিন্তু এটার জন্য এবং সময়ে জন্য অপেক্ষা করে, বলেন বিএনপির এই নেতা।

যেকোনো আন্দোলন সফল করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘ কোন কোন মিডিয়া এই আন্দোলনকে ভালোভাবে প্রকাশ করেনি। কিন্তু তাদের সফলতা প্রমাণ করে, মিডিয়া যদি কিছু ধামাচাপা দিতেও চেষ্টা করে, যৌক্তিক হলে সেটা ধামাচাপা দিয়ে কিছু করা যাবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোটা সংস্কারের আন্দোলনে সমর্থন দেয়াকে যৌক্তিক দাবি করে তিনি বলেন, এখানে কোথায় অন্যায় হয়েছে? বরং যৌক্তিক একটি আন্দোলনে তারেক রহমান সমর্থন দিয়েছেন। এটা যে যৌক্তিক সেটা প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হয়ে, এই আন্দোলনের কাছে মাথা নত করে এবং পরাজয় স্বীকার করে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছেন।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে এবং সংসদ ভেঙ্গে দিয়েই আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবো।

মাহমুদুর রহমান বলেন,সরকার বিনা অপরাধে আমাকে তিন বছর জেল খাটিয়েছে। একইভাবে খালেদা জিয়াকে আজ বিনা অপরাধে জেলে আটকে রেখেছে। নানা অজুহাতে তার জামিন দেয়া হচ্ছে না। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী  এভাবে বিনা অপরাধে আটকে রাখার নজির পৃথিবীতে নেই। কিন্তু এসব বলে কি লাভ হবে।  আমি এই সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই সরকারের কাছে তার মুক্তি চেয়ে কোন লাভ নেই। সরকার তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আটক করেনি। তাকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে নেমে আসতে হবে। ঘরে বসে দাবি আদায়ের সময় শেষ।  সংস্কার আন্দোলন করে আমাদের ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়েছেন আন্দোলন কিভাবে করতে হয়। আর দাবি কিভাবে আদায় করে ঘরে ফিরতে হয়। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেই তাদের দাবি আদায় করেছেন।

রুহুল আমিন গাজী বলেন,অগণতান্ত্রিক এই সরকারের হাত থেকে কেউই রেহাই পায়নি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীও বিনা অপরাধে আজ জেলে রয়েছে। বিচারের নামে চলছে প্রহসন। নানা অজুহাতে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। জামিনযোগ্য মামলায় এভাবে আটকে রাখার কোন নজির নেই।

তিনি বলেন,এই সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো মিডিয়া। স্বাধীন গণমাধ্যম তারা সহ্য করতে পারে না। তাই কোন কারণ ছাড়াই তারা দিগন্ত টিভি,ইসলামিক টিভি এবাং আমার দেশের মত পাঠক প্রিয় পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। সারা দেশে আজ হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার রয়েছে।

তারা মিডিয়ার কন্ঠরোধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। সাংবাদিক সমাজ এই গণবিরোধী আইন কোন দিনই মেনে নিবে না। আমরা এই সভা থেকে দাবি জানাচ্ছি এই গণমাধ্যম বিরোধী আইন বাতিল করুন। তা না হলে সাংবাদিকরা আবারও রাজপথে নেমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে অতীতে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। আপনিও পারবেন না। এখনও সময় আছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিয়ে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন দিন। তা না হলে দাবি আদায়ে জনগণ রাজপথে নেমে আসবে।

শওকত মাহমুদ বলেন,এই সরকার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না বলেই আজ দেশের এই অবস্থা। তারা নব্য স্বৈরশাসকের পোষাক পরে আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। কেউ দাবি আদাে য় রাজপথে নামতে পারে না। দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামলেই তার মন্ত্রীরা রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়ে থাকে।

অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে আওয়ামী লীগ না করলেই রাজাকার কিংবা রাজাকারের সন্তান। এই অবস্থা আর বেশি দিন চলতে দেয়া যায় না। ছাত্রদের মত আমাদেরও গণতন্ত্র রক্ষা করতে রাজপথে নেমে আসতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হবে। নেতা-কর্মীরা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নেতার নির্দেশ পেলেই রাজপথে নেমে আসবে সাধারণ জনগণ। আর জনগণ নেমে আসলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবেই। এই সরকারের কাছে মুক্তি চেয়ে লাভ নেই। রাজপথে নামা এখন শুধুমাত্র সময়ের দাবি।

Facebook Comments
Please follow and like us: