সড়ক পরিষ্কার নয়, ঝাড়ু প্রদর্শনী!পরিচ্ছন্ন হওয়ার বদলে রাজধানী উল্টো আরও অপরিচ্ছন্ন

ক্রাই্মবার্তা ডেস্করিপোট:  বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু নগরের রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়া হয়নি, বরং প্রদর্শন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন হওয়ার বদলে রাজধানী উল্টো আরও অপরিচ্ছন্ন হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠান চলাকালে এমন চিত্রই দেখা গেছে। যদিও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব রেকর্ড মূখ্য বিষয় নয়; এই অভিযান নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নগরীর গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে ১৫ হাজার ৩১৩ জন নগরবাসীর অংশগ্রহণে নতুন রেকর্ড গড়ার ঘোষণা দেয় সিটি করপোরেশন। এসময় সংস্থার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘ঢাকাবাসী আজ বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। ঢাকার মেয়র হিসেবে এই রেকর্ড জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করছি। এই রেকর্ডের অংশীজন আপনারা সবাই।’.

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতের গুজরাটের বড়োদারা শহরের বড়োদারা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের গড়া রেকর্ড ভাঙার দাবি করা হয়। গত বছরের ২৮ মে পাঁচ হাজার ৫৮ জন কর্মী নিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে সংস্থাটি। গুজরাটের এই সংস্থাটি এক কিলোমিটার সড়ক পরিস্কার করেছে এই রেকর্ডটি গড়ে। কিন্তু ডিএসসিসির এই কর্মসূচিটিতে সড়ক পরিষ্কার তো হয়ইনি, বরং সড়কে ঝাড়ু প্রদর্শন করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা চলে যাওয়ার পর পুরো এলাকাটি ময়লা আবর্জনায় ভরে থাকতে দেখা গেছে। প্রতীকী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা যে ঝাড়ু, মাক্স ও ক্যাপ ব্যবহার করেছেন যত্রতত্রভাবে সেগুলো ফেলে গেছেন। পানির বোতলসহ খাবারের প্যাকেটও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এমন উল্টো চিত্র দেখা যাওয়ায় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতুহল করছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি অনেকেই বলেছেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ অনুষ্ঠানটি সচেতনতায় কাজ করলেও সড়ক নগর পরিষ্কারে কোনও ভূমিকা রাখেনি। বরং উল্টো নগর অপরিষ্কার হয়েছে। কর্মসূচির কারণে সকাল থেকে ফুলবাড়িয়া থেকে পল্টন পর্যন্ত সড়কে যানচলাচণ বন্ধ ছিল। এতে নগরবাসী দুর্ভোগেরও শিকার হয়েছে। তবে ডিএসসিসির এই কর্মসূচিটি গ্রিনেস বুকে স্থান পেলেও ভারতের সেই রেকর্ড ভাঙবে না বলে মনে করছেন অনেকেই। কেননা, ভারতের বড়োদারা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ওই রেকর্ডটি ছিল এক কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার বিষয়ে।.

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল মেক্সিকোর। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির একটি শহরে এক হাজার ৭৬৭ জন লোকের অংশগ্রহণে একটি পাবলিক স্পেস পরিষ্কার করে ওই রেকর্ডটি করেছে। বড়োদারা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের তার চেয়ে বেশি লোকের অংশগ্রহণ ও দীর্ঘ এক কিলোমিটার পথ পরিষ্কার করে সেই রেকর্ড ভাঙে। শহরের একতা ডান্ডিয়া বাজার রোড পরিষ্কার করে ওই রেকর্ড গড়া হয়। পরিচ্ছন্নতা নিয়ে গ্রিনেস বুকে যে দুটি রেকর্ড গড়া ছিলো সেগুলো ছিল শহর পরিষ্কারের বিষয়ে। এ অবস্থায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই প্রতীকী অনুষ্ঠানকে গ্রিনেসবুক কতটা স্বীকৃতি দিবে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও গ্রিনেসবুকের একজন কর্মকর্তা অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত থেকে বলেছেন এরই মধ্যে উপস্থিতির বিষয়ে তারা ভারতের সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে যখন মেয়র সাঈদ খোকন অংশ নেন,  তখন তিনি উপস্থিত সবাইকে নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে থেকে এদিক সেদিক ঝাড়ু নাড়াচাড়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। বেশ কয়েকবার ঝাড়ু হাতে নিয়ে প্রদর্শনও করতে বলেছেন। তবে এই প্রদর্শনীর মধ্যে শহর পরিষ্কার হয়নি।

ডিএসসিসির এই কর্মসূচি নিয়ে গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন,  নগর পরিচ্ছন্নতায় তিনি একটি রেকর্ড গড়তে চান। তবে রেকর্ড গড়া মুখ্য উদ্দেশ্য নয়।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থার একজন কর্মকর্তা  বলেন, এই অনুষ্ঠানটি মূলত প্রতীকী। এর মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করা হবে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বেসরকারি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘অনুষ্ঠানে এসেছি ঢাকা পরিষ্কার করতে। কিন্তু দেখি ছোট্ট একটি রাস্তায় ঝাড়ু হাতে সবাই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন। তীব্র গরমের মধ্যে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পানিও পাওয়া যায়নি। পুরো রাস্তা আরও অপরিষ্কার হয়েছে।’বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments
Please follow and like us: