গাজীপুরে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী মেয়র প্রার্থী মহানগর জামায়াত আমীরসহ ৪৫ নেতাকর্মী আটক

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর প্রচারণা সভা থেকে বিএনপি’র সমর্থনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী গাসিক এর মেয়র প্রার্থী জামায়াতের মহানগর আমির এসএম সানাউল্লা এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরের সভাপতিসহ ৪৫ জন নেতাকর্মীকে গতকাল শুক্রবার আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ বলছে নাশকতার অভিযোগে এদের আটক করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০দলীয় জোট মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন,জামায়াতের মহানগর আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাসহ ৪৫ নেতাকর্মীকে তার নির্বাচনী প্রচারণা সভা থেকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আটক করা হয়েছে। হাসান উদ্দিন সরকার শুক্রবার সকালে সাবেক গাছা ইউনিয়নের সিটির ৩৩নং ওয়ার্ডের উত্তর খাইলকুল বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কালে একথা বলেন।
এদিকে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির এসএম সানাউল্লা সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে তিনি বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দেন এবং তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নেন।
মিলন আরো বলেন, মিথ্যা ও কল্পকাহিনী বানিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি নির্বাচন সুষ্ঠু না করারই একটা আলামতমাত্র। তিনি এ ধরণের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য এবং আটকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহসহ ৪৫ জনের গ্রেফতারের প্রতিবাদে নগর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো: খায়রুল হাসান এক বিবৃতিতে বলেন-গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনোর ৪১ নং ওয়ার্ডের ডেমর পাড়া এলাকায় বিশ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী সভা থেকে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ সহ ৪৫ জনকে অন্যায় ভাবে পুলিশ আটক করে।
তিনি বলেন, বিশ দলীয় জোটের প্রার্থী জনাব হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে জামায়াতের সমর্থনের পর প্রতিপক্ষ পরাজয়ের ভয়ে ভীত হয়ে গ্রেফতার নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। নির্বাচন চলাকালীন সময় এই গণগ্রেফতার প্রমাণ করে আসলে সরকার নিজেই সুষ্ঠু নির্বাচন চায়না। গ্রেফতার নির্যাতন করে বিরোধী দলীয় নেতা- কর্মীদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনে জিততে চায়। এমন পরিস্থিতি নি:সন্দেহে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং নয়।
তিনা অন্যায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়ে মহানগর জামায়াতের আমীরসহ গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির দাবী করছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জানান, নাশকতার পরিকল্পনার জন্য গাজীপুরসহ আশেপাশের জেলা হতে জামায়াত-শিবিরের একটি সংঙ্গবদ্ধদল শুক্রবার ভোর থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূবাইল এলাকার স্বপ্নচু’ড়া পিকনিক স্পটে জড়ো হতে থাকে। এ গোপন সংবাদ পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক এসএম সানাউল্লাহ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মো মুজাহিদুল ইসলাম ও গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মো আজাহার হোসাইন মোল্লা, গাজীপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও পূবাইল সাংগঠনিক থানার আমীর মো আশরাফ আলী কাজলসহ জামায়াত-শিবিরের-৪৫জন নেতাকর্মীকে আটক করে। তিনি আরো জানান,এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ককটেল, ১৫ টি পেট্রোল বোমাসহ বিষ্ফোরক দ্রব্য, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের আত্মজীবনি নিয়ে লেখা বেশ কিছু জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এবারের নির্বাচনে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক এসএম সানাউল্লাহ স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থী হন। পরে ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে এবং জামায়াতের হাই কমান্ডের নির্দেশে গত ২৩ এপ্রিল তিনি বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দিয়ে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে প্রচারণায় নামেন। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরের সভাপতি মো আজাহার হোসাইন মোল্লা শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

Facebook Comments
Please follow and like us: