খুলনায় বিএনপির এজেন্টদের বের করে সিল মারছে আ’লীগ# ২ ঘণ্টাতেই ভোট শেষ!

ক্রাইমবার্তা রিপোট :     খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে জোর করে জালভোট দেয়ার অভিযোগে ২৪নং ওয়ার্ডের ইকবাল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে মাত্র দুই ঘণ্টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

তবে সেই সময়ে ঘটনাস্থলে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কোনো এজেন্টকে দেখা যায়নি।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, সকাল ৮টায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এর দুই ঘণ্টা পর একদল দুর্বৃত্ত এসে অস্ত্রের মুখে জালভোট দিয়ে চলে যায়। এ সময় পুলিশকে ডেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরে বাধ্য হয়েই ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২১২৪ জন।

এ ঘটনার পর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনূস আলী দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কেন্দ্র পরিদর্শন ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করেন।

এদিকে এখনও হাজারো ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন। ভোট দিতে না পেরে তারা বিক্ষোভ করছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১ জন। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

 

————–0————

রিজভীর অভিযোগ

খুলনায় বিএনপির এজেন্টদের বের করে সিল মারছে আ’লীগ

 

রিজভী

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।রিজভী বলেন, ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সহায়তায় ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সকাল ৮টায় ২৫নং ওয়ার্ডের ৫টি ভোটকেন্দ্রসহ নুরানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের এজেন্টদের তালিকা নিয়ে যাওয়ার সময় মনির নামে এক বিএনপিকর্মীকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। নজরুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

রিজভী জানান, খালিসপুর ১৫নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্ট লিলি ও লিমা আক্তারকে মধ্য পালপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় মারধর করা হয়েছে। তাদের এজেন্ট কার্ড ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির এ নেতা আরও জানান, ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। হাজি মালেক মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে না যেতে ভোটারদের মুক্তার হোসেন সড়কে বাধা দেয়া হচ্ছে।

২০নং ওয়ার্ডে এইচআরএইচ প্রিন্স আগা খান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় সাধারণ ভোটারদের বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

‘২২নং ওয়ার্ডে জেলা স্কুল ও নতুনবাজার চরকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের ব্যাপকভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। ফাতেমা স্কুল কেন্দ্র যেখানে নৌকার মেয়রপ্রার্থী ভোট দিয়েছেন সেখানে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারা হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।

রিজভী আরও জানান, ২৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ও নুরানি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে জালভোট দিচ্ছে। ২৬নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় জালভোট দেয়ার মহোৎসব চলছে।

‘১৫নং ওয়ার্ডে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল ও পলিটেকনিক স্কুল কেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের কাছ থেকে আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। ৪নং ওয়ার্ডে দেয়ানা উত্তরপাড়া কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং বিএনপিকর্মী মিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’

৩০নং রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং ধানের শীষের প্রার্থীর ভোটার ও সমর্থকদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ২১নং ওয়ার্ডে প্রভাতী স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা চলছে। পোলিং এজেন্টদের মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দেয়া হয়েছে।

‘১৯নং ওয়ার্ড ইসলামাবাদ, পাইওনিয়ার স্কুল ও পলিটেকনিক কলেজ, গল্লামারি লায়ন্স স্কুল, নিরালয় স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ হামলা করে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের প্রশাসনের সামনেই বের করে দিয়েছে।

সদর থানা কয়লাঘাট স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’

২২নং ওয়ার্ডের ১৭৯নং কেন্দ্রের সামনে থেকে যুবদলের কর্মী সেলিমকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী বিকু কাজী ধরে নিয়ে গেছে। একই কেন্দ্রে বিএনপি নেতা খান মঈনুল হাসান মিঠু ও আলী আকবরকে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

উল্লেখ্য, খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ এক হাজার ৫৬১ জন। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

Facebook Comments
Please follow and like us: