নাটোর সংবাদ .. সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য নিহত#স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদন্ড# মাদক ও ওয়ারেন্টেভুক্ত নয়জন আসামী আটক#বিএনপির পৃথক দু’টি বিক্ষোভ মিছিল

নাটোরে মাদক ও ওয়ারেন্টেভুক্ত নয়জন আসামী আটক

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম:নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়ায় গত ২৪ ঘন্টায় মাদক ব্যবসায়ী ও ওয়ারেন্টের নয়জন আসামীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ওসি (তদন্ত) নেয়ামুল আলম এবং এস আই ইলিয়াস কবিরের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে অন্তর (২৫) ও লোকমান হোসেন লোকাই (৪২) মাদক ব্যবসায়ী। মহন মজুমদার (৭০), সুব্রত মজুমদার (৭২), বিজয় মজুমদার (৩৮), অজয় মজুমদার (৩৩), বিনয় মজুমদার (৩২), বাসরী মজুমদার (৫৫)ও সুষমা মজুমদার বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।

নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কাছিকাটা বিশ্বরোড মোড়ে ইকবাল হোসেন নামের এক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ সুত্রে জানাযায়, বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনীর গাড়ীবহর ঈশ্বরদীর রুপপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে কাছিকাটা বিশ্বরোড মোড়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর একটি গাড়ী ব্রেক করলে পিছনে থাকা তাদের অপর গাড়ীটি অসাবধানতার কারনে সামনের গাড়ীকে ধাক্কা দেয়। এতে সামনের গাড়ীতে থাকা তাবু তৈরীর এঙ্গেল ও লোহার পাইপ পিছনের গাড়ীর গ্লাস ভেঙ্গে সেকেন্ড ফিটারে বসে থাকা ওই ওয়ারেন্ট অফিসারের বুকের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তার সাথে থাকা সেনা সদস্য ও হাইওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করে। বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জিএম শামসুর-নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি আইনী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নাটোরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদন্ড

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়ায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী শাহমীম ও তার বন্ধু রমিজুল আলমকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজাউল করিম এ রায় দেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত শাহমীম (২৬) কুড়িগ্রাম জেলারফুলবাড়ি থানা এলাকার নগরাসপুর গ্রামের শাহাজামান মানিকের ছেলে এবং রমিজুল আলম (২৩) একই জেলা ও থানার ধর্মপুর গ্রামের নুরু ইসলামের ছেলে। তারা দু’জনেই জাল কাগজপত্র তৈরি করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার মোস্তাফি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রেজেনা পারভিন ওরফে রূপালী ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বগুড়া থেকে নিখোঁজ হন। তিনদিন পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের দোপুকুরিয় াগ্রামের একটি আবাদি জমিতে রূপালীর আগুনে ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রূপালীর বাবা আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে স্বামী শাহমীমসহ অজ্ঞাত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা করেন। তদন্তকালে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মোঃ শাহমীম ও রমিজুল আলম দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে থানার উপ পরিদর্শক দেবব্রত দাস ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ তারিখে ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে আসামিরা জেলহাজতে আটক ছিলেন। পরে জালিয়াতি করে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন কিন্তু মামলার বাদি ঘটনাটি আদালতের নজরে নিয়ে এলে আদালত আসামিদের আইনজীবীকে এ ব্যাপাওের কারণ দর্শাতে বলেন এবং নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার রায়ে আদালতের বিচারক আসামী শাহমীম ও তার বন্ধু রমিজুল আলমকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন । জজ কোর্টেও পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলার দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামীর জালকাগজ জালিয়াতি করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক এই রায় দিয়েছেন।

 

নাটোরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিএনপির পৃথক দু’টি বিক্ষোভ মিছিল

নাটোর প্রতিনিধি
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি নাটোর শহরে পৃথক পৃথক ভাবে দু’টি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বৃহস্পতিবার উপশহর থেকে একটি বিক্ষোভ নিয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আলাইপুরে জেলা বিএনপির অফিসের সামনে এলে পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, তাদের ওপর মহল থেকে নির্দেশ আছে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল আটকে দেয়া তাই চাকুরী রক্ষার্থে তারা সেটি করছেন। বাধা না মানলে লাঠি চার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়া হবে বলেও পুলিশ জানায়। পুলিশের সাথে তর্কবির্তকের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সেখানেই সমাবেশ করে। এসময় বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কাজী শাহ আলম, জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর পৌরসভার কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোেেসন সোহাগ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ। এদিকে একই সময়ে একই দাবীতে শহরের তেবাড়িয়া হাট এলাকায় জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ আবুল বেপারীর নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

 

Facebook Comments
Please follow and like us: