আগামী নির্বাচন যেকোনো সময়ের চাইতে কঠিন হবে : প্রধানমন্ত্রী#রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে প্রতিহিংসা আর প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দেয়া:এরশাদ 

ক্রাইমবার্তা রিপোট : ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য ভোট চাইতে এখন থেকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করে। মানুষ কিন্তু ভুলে যায় এ জন্য আমাদের উন্নয়ন দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে, তাদের বোঝাতে হবে, তাদের কাছে বারবার যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার তৃতীয় পর্যায়ে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাগত বক্তৃতা করেন। দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ শোক প্রস্তাব পাঠ করেন। দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের উন্নতি হয়। গ্রামের অর্থনীতি আজ উন্নত হয়েছে এবং জনগণের আয় বাড়ায় তারা সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করতে পারছে- এ কথাগুলো সবাইকে বলতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ব্যতীত কোন রাজনৈতিক দলই দেশের দরিদ্র মেহেনতী জনগণের জন্য কিছু করেনি। দেশের মানুষের দোড়গোঁড়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মানুষও আর ক্ষুধায় কষ্ট পাবে না, একটা মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না, সকলেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাবে। ‘জনগণের কাছে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভোট চাইতে হবে। যাতে তারা অতীতের মতো আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দল এবং সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং দ্বন্দ্ব এখনই মিটিয়ে ফেলার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে আগামী নির্বাচন অতীতের যেকোন সময়ের চাইতেই কঠিন হবে। ‘কোন আসন নিয়ে অমনোযোগী হবার সুযোগ নেই, কোন আসন নিয়ে অমনোযোগী হবার মানেই হবে সে আসনে পরাজয়, যার কারণে আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করে। মানুষ কিন্তু ভুলে যায় এ জন্য আমাদের উন্নয়ন দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে, তাদের বোঝাতে হবে, তাদের কাছে বারবার যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের উন্নতি হয়। গ্রামের অর্থনীতি আজ উন্নত হয়েছে এবং জনগণের আয় বাড়ায় তারা সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করতে পারছে- এ কথাগুলো সবাইকে বলতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যাকে নৌকা দেয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নৌকা যেন না হারে। একটি সিটে না জিতলে কী হবে- এমন মনোবৃত্তি যেন কারও মধ্যে না থাকে। একটি আসনও হারানো যাবে না, সবাইকে এই মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ করা মানে শুধু নিজের উন্নয়ন করা নয়, দেশ ও দশের জন্য কাজ করাই এই দলের মূল উদ্দেশ্য।

সরকারপ্রধান বলেন, সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচন কঠিন হবে। নির্বাচনে জয়ী না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেমে যাবে। দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাবে। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য যেসব কর্মসূচি চলছে, তা বন্ধ হয়ে যাবে। উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সব দ্বন্দ্ব নিরসন করে স্থানীয়ভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, সব দ্বন্দ্ব নিরসন করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত নেয়া হবে। তারপরও যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে, তার পক্ষেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের তৃতীয় এই বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাগত বক্তব্য দেন।

দলের দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ শোক প্রস্তাব পাঠ করেন। দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

০০০০০০০-০০০০০০০০০০০

এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে প্রতিহিংসা: এরশাদ

এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে প্রতিহিংসা: এরশাদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে প্রতিহিংসা আর প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দেয়া। তাই বিরোধী দলে থাকা যায় না, থাকতে হবে সরকারেই। এ সময় দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষের মানবিক গুণাবলি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, বিদেশি আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতি।

শনিবার ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির ২৭তম জাতীয় সম্মেলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আরও বলেন, সমাজে শুধু অনাচার আর অবিচার চলছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চলছে। হাতুড়িপেটা করে পা ভেঙে দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছেন, এই কমিটি আরও আগে করলে এত কিছু হতো না।

তিনি বলেন, সমাজিক ব্যাধি ঘুষ ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে দেশ। মাদকের কড়াল গ্রাসে যুবসমাজ ধংসের মুখে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।

এরশাদ বলেন, বাবা-দাদার সংস্কৃতিই আমাদের প্রকৃত সংস্কৃতি, সেখানেই ফিরে যেতে হবে আমাদের। ফিরে যেতে হবে ঐতিহ্যের কাছে।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, কিছু শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেন, কিন্তু ক্লাসে পড়ান না। তাদের কাছে কোচিং না করলে ছাত্ররা পাস করতে পারে না। অথচ কোচিং করানো নিষিদ্ধ। একই সময়ে কিছু শিক্ষক বেতনের দাবিতে রাস্তায় শুয়ে অনশন করছে, এই বাস্তবতা মেনে নেয়া যায় না। দেশীয় সংস্কৃতি প্রসঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, বিদেশি সাংস্কৃতির আগ্রাসনে দেশীয় সংস্কৃতি হুমকির মুখে। দেশে প্রায় ৫০টি টিভি স্টেশন আছে, কিন্তু পরিবারের সবাই বিদেশি চ্যানেলেই চোখ রাখেন। শুধু সংবাদ দেখার জন্য দেশি চ্যানেল দেখেন সবাই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশি সিনেমা কবে দেখেছি, এখন আর মনে করতে পারছি না। তাই দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টিকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে জাতীয় পার্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিন দিনের পথ আমরা তিন ঘণ্টায় নিয়ে এসেছি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছি, মানুষকে ভালোবেসেছি তাই এখনো টিকে আছি। ২৭ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকেও আমরা টিকে আছি শুধু মানুষের ভালোবাসায়।

সম্মেলন শেষে চলচ্চিত্র নায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে সভাপতি ও নাজমুল খানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে নির্দেশও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।

বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি.এম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, গোলাম কিবরিয়া টিপু, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, সুনীল শুভ রায়, মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মো. আজম খান, মেজর খালেদ আখতার (অব.), শফিকুল ইসলাম সেন্টু, যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল আলম রুবেল, সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্যসচিব নাজমুল খান।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির উপদেষ্ঠামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, নুরুল ইসলাম নুরু, খন্দকার আবদুস ছালাম, সরদার শাহজাহান, এইচএম শফিকুর রহমান, হেনা খান, আমানত হোসেন আমানত, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসহাক ভুইয়া, মনিরুল ইসলাম মিলন, ফকরুল আহসান শাহজাদা, মো. হেলাল উদ্দিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য খোরশেদ আলম খুশু, মো. বেলাল হোসেন, নিগার সুলতানা রানী, এমএ রাজ্জাক খান, ডা. সেলিমা খান, সৈয়দা পারভীন তারেক, কাজী আবুল খায়ের, সুমন আশরাফ, প্রিয়ংকা, কেন্দ্রীয় নেতা- সাইফুল্লাহ খালেদ, আলহাজ জাহাঙ্গীর হোসেন, ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, লে. কর্নেল সাব্বির আহম্মেদ, রাশেদ মাজমাদার, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মিজানুর রহমান মিরু, আলহাজ জয়নাল আবেদীন, শফিকুল ইসলাম দুলাল, মাহবুবুর রহমান খসরু, মো. ওমর আলী খান মান্নাফ, জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির নেতা- জিনাত বরকত উল্লাহ, মীর মো. নাছির উদ্দিন ভুইয়া, মো. জাকির হোসেন মৃধা, শাহিন আহমদে, শেখ ফায়েকুজ্জামান শিপন, আনোয়ার হোসেন তোতা, আবদুর রশীদ সিদ্দিকী, নুরুল ইসলাম নুরু, ফিরোজ আনোয়ার, জি.এম রাজু, শাহাদাত হোসেন স্বপন।

Facebook Comments
Please follow and like us: